১ উইকেটে ৩৩৮ রান, দ্বিতীয় দিনেই চালকের আসনে বাংলাদেশ

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৫:১৩ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০২৫
১ উইকেটে ৩৩৮ রান, দ্বিতীয় দিনেই চালকের আসনে বাংলাদেশ

সিলেট টেস্টে আয়ারল্যান্ডকে ২৮৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসের ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩৩৮ রান। ৫২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিনেই সিলেট টেস্টের চালকের আসনে বসেছে বাংলাদেশ দল।

দিন শেষে ব্যাট হাতে ১৬৯ রানে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় এবং মমিনুল হক ৮০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। নিজেদের হারানো একমাত্র উইকেটটি হলো ওপেনার সাদমান ইসলামের। ইনিংসের ৪২তম ওভারে আউট হওয়া সাদমানের ব্যাট থেকে এসেছে ৮০ রান।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা আয়ারল্যান্ড প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৭০ রান করেছিল। দ্বিতীয় দিন বাকি দুই উইকেটে আর বেশি দূর যেতে পারেনি। মাত্র ৮ বল খেলে ১৬ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায় আইরিশরা।

বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি এবং হাসান মুরাদ, তাইজুল ইসলাম এবং হাসান মাহমুদ দুটি করে উইকেট শিকার করেন। বাকি একটি উইকেট নেন নাহিদ রানা।

আয়ারল্যান্ডের ইনিংস শেষ হবার পর ব্যাট হাতে নেমে দারুণ শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম। ২১তম ওভারে দলের রান ১শতে নেন তারা। এ সময় জয় পঞ্চম ও সাদমান সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন।

সেঞ্চুরির জুটির পরও আয়ারল্যান্ডের বোলারদের আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছেন জয় ও সাদমান। এতে ৩৬তম ওভারে দেড়শতে পৌঁছায় বাংলাদেশ। এই নিয়ে ষষ্ঠবার টেস্টে উদ্বোধনী জুুটিতে দেড়শ রান করল টাইগাররা। আগের পাঁচবার দেড়শ রানের জুটিতে অবদান ছিল ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালের।

দলীয় ১৬৮ রানে বিচ্ছিন্ন হন জয় ও সাদমান। আয়ারল্যান্ডের বাঁ-হাতি স্পিনার হামফ্রিজের বলে উইকেটরক্ষক লরকান টাকারকে ক্যাচ দেন সাদমান। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ১০৪ বলে ৮০ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে উদ্বোধনী জুটিতে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছেন জয় ও সাদমান।

সাদমান ফেরার পর ক্রিজে আসেন মমিনুল হক। জয়কে নিয়ে সাবলীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন মোমিনুল। চা-বিরতির পর বাংলাদেশের রান ২শ পার করে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৯তম ম্যাচে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন জয়।

২০২২ সালে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টে ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এরপর ৩০ ইনিংস সেঞ্চুরির দেখা পাননি জয়।

চার মেরে ১৯০ বলে সেঞ্চুরির স্বাদ নেওয়ার পর ইনিংস বড় করেছেন জয়। অন্যপ্রান্তে ইনিংস বড় করেছেন মোমিনুলও। ছক্কা মেরে ৭৪ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৩তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি।

সাদমান-জয়ের পর মমিনুলের হাফ-সেঞ্চুরিতে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটার হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিল। এর আগে প্রথমবার ২০১০ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটার হাফ-সেঞ্চুরির (তামিম ১০৩, ইমরুল কায়েস ৭৫ ও জুনায়েদ সিদ্দিকী ৭৪) স্বাদ নিয়েছিল।

মমিনুলের হাফ-সেঞ্চুরির পর ক্যারিয়ারে প্রথমবার দেড়শ রানের কোটা স্পর্শ করেন জয়। ছক্কা মেরে ২৬৫ বলে দেড়শ রান পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮৫ ওভারে ১ উইকেটে ৩৩৮ রানে দিন শেষ করেন জয় ও মোমিনুল।

১৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ২৮৩ বলে ক্যারিয়ার সেরা ১৬৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন জয়। এছাড়া ৫ চার ও ২ ছক্কায় ১২৪ বলে ৮০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছেন মমিনুল।



শেয়ার করুন :