টানা দুই জয়ে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে এক-এর বেশি ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়লেও শেষটা ভালো হলো না বাংলাদেশের। চিরচেনা মিরপুরের উইকেটে ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ ম্যাচে প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেরি টাইগাররা। সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ায় শঙ্কা এড়ালেও হার থেকে রেহায় পায়নি বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সিরিজের শেষ ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টস হেরে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রানে সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। বিপরীতে ব্যাট করতে নেমে ১৬.৪ ওভারে ১০৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে সিরিজ হারলেও শেষ ম্যাচে ৭৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।
মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ যথাক্রমে ৭ উইকেটে ও ৮ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে হেরে যাওয়ায় ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি শেষ হলো।
১৭৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পেসার সালমান মির্জার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে খালি হাতে ফিরেন তানজিদ হাসান। দ্বিতীয় ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে বোল্ড হয়ে ৮ রানে সাজঘরে ফিরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস।
লিটনের বিদায়ে ২ বাউন্ডারিতে ভাল কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। কিন্তু ৯ রানে ফাহিমের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ৪ ওভারে ২৪ রানে ৩ উইকেট পতনে চাপে পড়া বাংলাদেশকে দ্রুত গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় ফেলেন সালমান।
পঞ্চম ওভারে তিন বলের ব্যবধানে ২ উইকেট তুলে নেন সালমান। দুর্দান্ত দুই ডেলিভারিতে জাকের আলিকে ১ রানে এবং মাহেদি হাসানকে শূন্যতে বোল্ড করেন সালমান। এরপর শামীম হোসেন ৫ ও ওপেনার নাইম ১০ রানে ফিরলে ৪১ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
সাত উইকেট হারিয়ে নিজেদের টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন ৭০ রানে অলআউট হয়েছিল টাইগাররা। তবে অষ্টম উইকেটে নাসুমের সাথে ২৪ এবং নবম উইকেটে তাসকিনকে নিয়ে ১৬ রান যোগ করে বাংলাদেশকে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাবার হাত থেকে রক্ষা করেন সাইফুদ্দিন।
৮১ রানে নবম উইকেট পতনের পর হুসাইন তালাতের এক ওভারে সাইফুদ্দিন ও শরিফুলের তিন ছক্কায় ২১ রান তুলে দলীয় স্কোর ১শ পার করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে শেষ ব্যাটার হিসেবে শরিফুল আউট হলে ১০৪ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। শরিফুল ৭ রান করেন। সাইফুদ্দিন ২টি করে চার-ছক্কায় ৩৪ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
