নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবো বুঝতে পেরে আগ্রহী হয়েছি: আসিফ আকবর

রোকুনুজ্জামান সেলিম রোকুনুজ্জামান সেলিম প্রকাশিত: ০৮:০২ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২৫
নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবো বুঝতে পেরে আগ্রহী হয়েছি: আসিফ আকবর

বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবরের ক্রিকেট প্রেমের কথা সবারই জানা। তবে এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালন নির্বাচিত হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। গানের জগতে আসিফ আকবর জনপ্রিয় হওয়ার আগে ক্রিকেট খেললেও বিসিবির পরিচালক পদে আসাটা হঠাৎ করেই হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া আসিফ আকবর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হয়েছেন। এর আগে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার থেকে কাউন্সিল এবং মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন।

গানের কনসার্ট নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন আসিফ আকবর। সেখান থেকেই স্পোর্টসমেইল২৪.কমের সাথে বিসিবির নির্বাচনে আসা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

স্পোর্টসমেইল: ক্রিকেটার ছিলেন, ছিলেন সংগঠকও। গানে যুক্ত হওয়ায় সেদিকে আর এগোনো হয়নি, তবে এবার দেশের ক্রিকেটের কেন্দ্রে (বিসিবি) চলে আসলেন, হটাৎই কি এমন সিদ্ধান্ত? ক্রিকেট নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন..?

আসিফ আকবর: প্রথমত আমি একজন ক্রিকেটার এবং সংগঠকও বটে, তবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব নিতে চাইনি। কারণ, ওদের (আগে যারা ছিলেন) সাথে আমার মিলে নাই। তাদের মেথট, কাজের প্রক্রিয়া -সেগুলো আমার শুরু থেকেই পছন্দ না।

কেন্দ্রে চলে আসা মানে কি.., আমি আসলে কাউন্সিলার হতে চাইনি। কিন্তু আমাদের কুমিল্লার সাবেক এবং বর্তমান ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফ বা যারা শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন, আমাদের জেলা প্রসাশক... তিনি অনুরোধ করেছেন যে, ‌‘আপনি কাউন্সিলার হন, আপনাকে আমরা কাউন্সিলার হিসেবে চাই।’ কমিটি আগেই হয়ে গিয়েছিল, পরবর্তীতে উনারা নিজ দায়িত্বে কমিটির মেম্বার বানায়।

সদস্য হওয়ার পর আমার মনে হচ্ছিল যে, কুমিল্লার ক্রিকেট ছয় বছর ধরে বন্ধ, আমাদের মাঠ একটা এবং মাঠগুলো ঢাকা লিগের টিমগুলো অপব্যবহার করে, আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলতে পারে না। তাদের সবধরনের খেলাধুলা বন্ধ। সেই হিসেবে ঢাকার খুব কাছের জেলা হওয়া সত্ত্বেও কুমিল্লা থেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার, ফুটবলার, হকি... হকি তো হয়’ই না। কিংবা যেকোন ইভেন্টে আমরা আসলে কোনভাবেই উন্নতি করতে পারছি না।

কুমিল্লার যে ঐতিহ্য ছিল, সেটা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। এ সমস্ত কারণে কিশোর গ্যাং, মাদকের খুব প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে এবং আমরা তরুণ সমাজকে পথে আনতে পারছি না। কারণ তাদেরকে মাঠমুখী করা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে আমি ভাবলাম যে, এখন যদি কাজ করা যায় নির্বিঘ্নে তাহলে কেন নয়? আমারও ভালো লাগে যেহেতু ক্রিকেটের সাথে ছিলাম, তো.. ক্রিকেট নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগবে।

আবার ওদেরেই কিছু কাউন্সিলারদের অনুরোধে পরিচালক পদে আসা। আমার আগ্রহটা হয়েছে তখন, যখন আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমি কাজ করার সুযোগ পাবো।

স্পোর্টসমেইল: পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর বিসিবির কোন কমিটিতে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা আছে কি-না? সেক্ষেত্রে কোন সেক্টরে কাজ করতে চান.?

আসিফ আকবর: আমার প্রথম কাজ হবে কুমিল্লাসহ ১১টি জেলা নিয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক যে কর্মকান্ড আছে সেগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তরুণদের নিয়ে কাজ করা। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান খেলাধুলায় যে পিছন দিকে আছে, এছাড়া আমাদের পার্শ্ববর্তী জেলা নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, লক্ষীপুর… চিটাগং তো আগে থেকেই সমৃদ্ধ, তো এই সেক্টরগুলোতে কাজ করতে হবে।

বিশেষ করে মাঠ তৈরি করা। কিছু কিছু অব্যবহৃত মাঠ রয়েছে সেগুলো সংস্কার করলে খেলার মাঠ বাড়বে এবং স্কুল পর্যায় থেকেই যেন আমরা ট্যালেন্ট হান্ট করতে পারি এবং বাচ্চাদেরকে খেলার সুযোগ দিতে পারি।

যদি একটা বাচ্চা সারা বছর প্র্যাকটিস করে মাত্র দুটা ম্যাচ খেলে তাহলে সে কয়েকদিন পর হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়। তখন তাকে আর মাঠে পাওয়া যায় না, তাকে অন্য কোথায় পাওয়া যায়। এভাবে আমাদের অনেক প্রতিভা নষ্ট হয়। তারপর সময়কে হারিয়ে ফেলি।

আশা করছি, একটা জাগরণ সৃষ্টি করতে চাই তরুণদের মধ্যে যেন... আমাদের সময়ে যেমন রমরমা বিষয় ছিল এগুলো যেন করতে পারি।

আগে তো একটা জগদ্দল পাথরের মতো ডিএসএল কর্মকর্তারা বসে থাকতো। এফিলিয়েট (অধিভুক্ত) টিম ছাড়া বাইরের টিম খেলতে পারতো না। তো এগুলো আয়োজক আছে, সংগঠক আছে, অর্থনৈতিক কোন সমস্যা নাই, সমস্যা হচ্ছে উদ্যোগের, সমন্বয়ের এবং সুষ্ঠুভাবে সেটা সম্পন্ন করা। এটা নিয়ে আমি কাজ করবো।

আমাদের তরুণ প্রজন্ম, বাংলাদেশের পাইপলাইনে একটা জোয়ার সৃষ্টি করা। প্লানিংসহ সবি করা আছে, আমি ডিসকাশনও করেছি -এটা সম্ভব। এর মাধ্যমে যেটা হবে ঢাকায় আমাদের (চট্টগ্রাম বিভাগের) অংশগ্রহণ বাড়বে। চট্টগ্রাম জেলা থেকে হলেও বাকিগুলো থেকে হচ্ছে না।

স্পোর্টসমেইল: নির্বাচন নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সাথে কথা হয়েছে কি-না?

আসিফ আকবর: বিসিবি নির্বাচন এটা আমার প্রথম, তবে কোন সমর্থন বা সরকারে -এসবে আমি নাই। এখানে দাঁড়িয়েছি আসলে আমাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্টতা নিয়ে। বিসিবিতের আমাদের কথা বলার জায়গাটা যেন তৈরি হয় এবং বিসিবির বাজেট থেকে যেন আমাদের জেলাগুলোতে ডিস্ট্রিবিউট নিয়ে আসতে পারি সেটা নিশ্চিত করা।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল ভাই তো আমার কলিগ। উনার সাথে আমার খেলার সুযোগ হয়েছে। বুলবুল ভাইয়ের সাথে আমার কথা হয়েছে।

আর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সাথে আমার একবার কথা হয়েছে, তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন একবার যে, ‘আমি যেন এডহোক কমিটিতে থাকি এবং কুমিল্লার জন্য যেন কিছু করি।’ এই রিকোয়েস্ট আমাকে করেছেন তিনি।

নির্বাচন নিয়ে উনার সাথে আমার আসলে কথা বলার কোন সুযোগ নেই। আমি আমার কাউন্সিলারদের সাথে কথা বলেছি। তবে আসিফ মাহমুদের আগ্রহ আছে, আমরা তো কুমিল্লা সব-সময় অবহেলিত ছিলাম, ঢাকার এত কাছে থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলে কোন প্লেয়ার নাই। তো তিনি আমাকে রিকোয়েস্ট করেছিলেন, ‘কাউন্সিলার হয়েছেন যেহেতু আপনি আমাদের কুমিল্লার খেলাধুলার দায়িত্ব একটু সিনসিয়ার্লি নেন। আমাদের খেলাধুলা যেন হয়। শুধু ক্রিকেট না, সব খেলাধুলার ব্যাপারটা।’

তো আমি বলেছি, ঠিক আছে। আমাকে যেহেতু প্লেয়াররা পাঠিয়েছে (নির্বাচন করতে) ডেফেনেটলি দেশ এবং আমাতের বিভাগের স্বার্থে যা করার দরকার তাই করবো। এতটুকুই আলোচনা হয়েছে।

স্পোর্টসমেইল: বাংলাদেশ ক্রিকেট ফলো করেন জানি। বাংলাদেশ দলের আরও উন্নতির জন্য কী কী করণীয় রয়েছে বলে মনে করেন, যে কারণে আপনার বিসিবিতে আগমন...

আসিফ আকবর: বাংলাদেশ ক্রিকেটের তো আসলে শুধু সমস্যাই সমস্যা। প্রথমত, মাঠের সমস্যা হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে কিছু পতিত জিনিসপত্র আছে। আইডিয়া আছে সেগুলোর… তবে এখনি শেয়ার করতে চাচ্ছি না। কিছু ইস্যু নির্ণয় করেছি। যে মাঠগুলো আমরা ইজিলি ইউজ করতে পারবো, সেই মাঠগুলোর প্রস্তাবনা তৈরি করে বোর্ডকে দেব। তখন আমরা এটার উপর কাজ করতে পারবো।

আর বাংলাদেশ দলের সমস্যা বলতে (হাসি..)। আগে তো সবকিছু একভাবে নিয়ন্ত্রণ হতো, একক কথায়, একক সিদ্ধান্তে চলতো। এখন যেন ব্যাপারটা ডিসকাশনে থাকে। যারা সেরা, যাদের প্রয়োজন, যারা যোগ্য তারা যেন আসে, তারা যেন ঠিক মতো কাজ করতে পারে। যোগ্যরা যখন কাজ শুরু করবে অবশ্যই ভালো কিছু হবে এবং পজিটিভটাই হবে।

বিশেষ করে যারা ক্রীড়া অনুরাগী, ক্রীড়া পাগল সংগঠক যারা আছে তাদের যত দ্রুত সম্ভব সংগঠিত করে ইনভলভমেন্টের একটা বড় পরিষদ তৈরি করতে হবে। অনেকেই বিমুখ হয়ে গেছে, সিস্টেম লসের মধ্যে পড়ে বিরক্ত হয়ে গেছে -তাদেরকে একত্র করে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের সাজেশন নিতে হবে -এ কাজগুলো একান্ত প্রয়োজন।

আমার কাজ হবে যেন লিগগুলো নিয়মিত হয়। যেমন- বাংলাদেশ টেস্ট খেলে কিন্তু প্রথম শ্রেণির ম্যাচগুলো সেভাবে হাইলাইট হয় না। বিপিএল ছাড়া টি-টোয়েন্টি কোন লিগ হয় না। আমাদের ছেলেরা টি-টোয়েন্টি এবং টেস্টে তো খারাপ খেলবেই, এটা স্বাভাবিক। কারণ এ খেলাগুলো হয় না, শুধুমাত্র ওয়ানডে ক্রিকেটে জোর দেওয়া হয়।

খবরা-খবরে খেলার পাতায় শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রীক ইস্যু যেন না থাকে। আমরা এমনভাবে হাইপ তৈরি করতে চাই যেন, খেলার পাতা আগে ২-৩ পাতা ছিল, এখন অর্ধেক হয়ে গেছে। খেলার পাতা আবার বড় হয়ে যাবে। আমরা সব নিউজ (খেলাধুলার) যেন এমনভাবে তৈরি করতে পারি, যেন তারা ছাপতে বাধ্য হয়, এটা খুব প্রয়োজন।

স্পোর্টসমেইল: জাতীয় নাকি নিজ জেলার ক্রিকেট নিয়ে বেশি ভাবছেন? যদিও জেলা বা বিভাগ থেকে আসা বিসিবির পরিচালকদের দেখা যায় নিজ এলাকার ক্রিকেটের উন্নয়নে তেমন ভূমিকা রাখেন না, আপনার পরিকল্পনা ঠিক কেমন?

আসিফ আকবর: আমি তো আসলে বিসিবিতে কখনো নির্বাচন করিনি, যা করেছি সব সময় নিজের উদ্যোগেই করেছি। নিজে একটা ক্লাব করেছিলাম, সেই ক্লাবটাও বন্ধ করে দিছে ২০০৬ সালে জরুরি অবস্থার সময়। আমাকে তারা কখনো প্রয়োজন মনে করেনি।

এখন একটা সুযোগ আসছে কাজ করার। আমার জেলা নিয়ে, অবশ্যই আমি আমার জেলা নিয়ে কাজ করবো। তবে আমার জেলা বলতে শুধু কুমিল্লা না। পার্বত্য চট্টগ্রামের যে রিসোর্সগুলো আছে, শারীরিক সক্ষতার ইস্যুস আছে, ফ্যাসিলিটিজ বাড়ানোর ইস্যুস আছে। তারপর চাঁদপুর, ব্রাহ্মমবাড়ীয়া, ফেনী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী -এই জোনটা আমরা খুব কাছাকাছি বর্ডার লাইন।

এখানে আঞ্চলিক টুর্নামেন্টগুলো করা যায়, বাচ্চাদের স্কুল টুর্নামেন্টগুলো করা যায় -তাহলে আমাদের জন্যই ভালো। প্লেয়ার থেকে সংগঠক সবাই সবাইকে চিনবে-জানবে। এই এনভায়রনমেন্টগুলো তৈরি করা আমার মূল কাজ।

কুমিল্লায় আমাদের কোন ইনফ্রাক্টাকচার নাই। কিছু কোচিং ক্লিনিং আছে যারা স্বেচ্ছায় বাচ্চাদেরকে শেখায় -সেগুলোর মধ্যে পেশাদারিত্ব নিয়ে আসতে হবে।

কুমিল্লা কোন একাডেমি নেই, আমরা চাইবো যে, স্টেডিয়ামের পাশাপাশি গোমতী নদীর পাড়ে আমাদের একটা জায়গা একোয়ার করা আছে, ওয়াবদার। সেখানে আমরা বিভিন্ন রকম... ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, জিমন্যাস্টিক্স, অ্যাথলেটিক্স, জুডোসহ ইনডোরে যে গেমসগুলো আছে সিজন বুঝে আমরা সেগুলো খেলবো এবং সারা বছরের একটা ক্যালেন্ডার থাকবে, কোন মাসে কী খেলা হবে।

অবশ্যই আমাদের সন্তানরা, কুমিল্লার মাঠে যেন তারা খেলতে পারে সেই ব্যবস্থা করা। কুমিল্লার ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরে খুবই বৈষম্য হচ্ছে। ঢাকা থেকে টিমগুলো গিয়ে খেলে, এতে আমাদের কোন লাভ হয় না, বরং আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলতে পারে না। এই জিনিসটা নিশ্চিত করবো, ইনশা আল্লাহ। যেকোন মূল্যেই করতে হবে এটা।

কুমিল্লার জন্য করলে এটা সারাদেশেই অটোমেটিক ফোকাস পড়বে এবং সেখানেও যদি যেতে হয় আমার আমি যাবো। আমার অভিজ্ঞতা, আমার ডিসিপ্লিন যতটুকু আমি মেনে চলি সেটুকু ক্রিকেট থেকেই শেখা। আমি চাইবো আমার জানা অর্জনগুলো ডিস্ট্রিবিউট করতে। যত ধরনের অপশন আছে সেগুলোকে এক্টিভ করা।

স্পোর্টসমেইল: গত বিপিএলে কুমিল্লার দল ছিল না, এ বিষয়ে আপনি ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন। পরিচালক হলেন, এবার কি সামনে বিপিএলে কুমিল্লার কোন দল থাকবে?

আসিফ আকবর: বিপিএল নিয়ে আমার খুব একটা আগ্রহ নেই। কারণ, হচ্ছে বিপিএল নিয়ে আমি পজিটিভ ধারণাও রাখি না। যেভাবে হচ্ছে সেভাবে হওয়া উচিত না। আর কুমিল্লার ইস্যুটা যেটা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আসলে কুমিল্লার ফ্র্যাঞ্চাইজি হলেও তারা কুমিল্লার জন্য কোন সময়ই কিছু করেনি। বিপিএলেও কুমিল্লার প্লেয়ারদেরও সুযোগ দেওয়া হয়নি।

হয়তো এক সময় একজন মেনেজার বা কোচ ছিল। এছাড়া ম্যাক্সিমাম বিদেশি প্লেয়ার, বাইরের প্লেয়ার নিয়ে খেলাতো এবং তারা এতবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পড়েও একটা প্লেয়ার প্রডিউস করতে পারলো না, একটা একাডেমি করতে পারলো না; -ওরা (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) একটা আঞ্চলিক ক্লাব হয়ে গিয়েছিল।

কুমিল্লার ইমোশন (সমর্থক) যেটা সেটা সার্বিকভাবে একটা সাইটে চলে গিয়েছিল। তো বিপিএল নিয়ে আগ্রহের কথা যদি বলেন, বিপিএল নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই। আমার মেইন হচ্ছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে টেস্টে যে ডেভেলপ করার বিষয়টা, সেটা হলো মূল কাজ।

বিপিএলে কুমিল্লার ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়তো আসবে, গতবার তো আইনগত জটিলতা ছিল। কেউ যদি করতে চায় কুমিল্লার টিম, ওটাতে তো অনেক ফাইন্যান্সিয়াল ইস্যু থাকে, আমি তো আর ওতো ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ড না যে আমি নিজে টিম করবো।

তবে কুমিল্লা থেকে যখন বিপিএলে টিম যাবে আমাদের একটা দায়-দাবি থাকবে যে, লোকাল ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ যেন থাকে, এটা আইপিএলে হয়।

একটা তরুণ/কিশোরকে সুযোগ দেওয়া বা সাথে রাখা। তাদেরকে গ্রুমিং করানো, প্র্যাকটিস করানো, ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে দেওয়া, তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা -এতে একজন প্লেয়ারের সাহস বাড়ে, মন-মানসিকতা বৃদ্ধি পায়, যা ভবিষ্যতে তাদের কাজে লাগবে।

স্পোর্টসমেইল: আপনার বিভাগের কাউন্সিলারদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন, তাদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করেন?

আসিফ আকবর: তারা (কাউন্সিলার) আমার এক্টিভিটিস, আমি কী ধরনের মানসিকতা পোষণ করি, আমি কী চাই তারা জানেন। কোন রকম দলবাজি বা কোন রকম প্রভাব বিস্তার যেন না থাকে। খেলার মাঠে খেলা হবে, আমরা খেলার মাঠের মানুষ, মাঠে যারা খেলবে তাদেরকে প্রোমট করা, তাদের ফেসেলিটিস, তাদের সুযোগ-সুবিধা এবং ডিসিপ্লিন সবকিছুর দিকে নজর রাখা হচ্ছে আমাদের কাজ।

যেহেতু দীর্ঘ একটা ক্যারিয়ার মিউজিকে আমার আছে, এর আগে মোটামোটি একটা ক্রিকেট ক্যারিয়ার ছিল। এবং আমি কখনোই ক্রিকেট থেকে বিচ্যুত হইনি। ক্রিকেটের খবরা-খবর আমার কাছে সব সময়ই থাকে এবং রাখি। আন্দাজ করতে পারি যে, কোথায় কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কোথায় কোথায় সমাধান আছে -এগুলো সব জানা আছে।

মিরপুর স্টেডিয়াম (শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম) যখন তৈরি হয় তখন এটার সাউন্ড সিস্টেম এবং ড্রেনেস সিস্টেম, লাইট-টাইট নিয়ে আমরা কাজ করেছি, এগুলো অভিজ্ঞতা আছে।

স্পোর্টসমেইল: ক্রিকেট পাগল বাংলাদেশিরা গানের যুবরাজ আসিফ আকবরকে কেমন পরিচালক পাবেন এবং ভক্তদের জন্য কী বলতে চান?

আসিফ আকবর: আসলে আমার যারা ফ্যান তারা তো গানের ফ্যান, কথা-বার্তার ফ্যান। আমি যাই করি তাদের তাই ভালো লাগে। তারা আমার ফ্যান, আমাকে ভালোবাসে। আমি মনে করি আমার সম্পর্কে তাদের একটা ধারণা আছে, যে আমি কী করতে পারি। তাদেরকে আমি এটা বলবো যে, আমি সবাইকে নিয়েই কাজ করবো এবং কাজের সুযোগটা যদি ভালোমতো পাই আমরা সবাই মিলেই কাজ করবো।

যারা ক্রিকেটকে এবং আমাকে ভালোভাসেন আমিও তাদেরকে ভালোবাসি। আমি বলতে চাই, শুধু ক্রিকেট না, আমাদের তরুণদের জন্য ফ্যাটি নেশন (অস্বাস্থ্যকর জাতি) নয়, ফিট নেশন লাগবে। যেন আমরা ফিট নেশন নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারি। যেহেতু তারুণ্যের জুলাই আমাদের জীবনে এসেছে, দেখেছি তারুণ্যের শক্তি কী, সুতরাং সেই তারুণ্যকে ধরে রাখতে হবে।

তারুণ্যকে লালন করে জেনারেশন গ্যাপ পূরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে আমাদের নতুন বাংলাদেশ, যে স্বপ্ন আমরা দেখেছি জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে সেটার পথচলা শুরু করতে পারবো।

স্পোর্টসমেইল: ধন্যবাদ আপনাকে। বিসিবিতে আগামীর পথচলায় শুভকামনা রইলো।
আসিফ আকবর: আপনাকেও ধন্যবাদ।



শেয়ার করুন :