অপরূপ সৌন্দর্যে সিলেট স্টেডিয়াম

স্পোর্টস মেইল২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪৪ এএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৭
অপরূপ সৌন্দর্যে সিলেট স্টেডিয়াম

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম দিয়ে পর্দা উঠলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের। প্রথমবারের মত এই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিপিএলের ম্যাচ। পুরো ভেন্যুটিকেই ঘিরে রেখেছে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য। বলতে গেলে ভেন্যুটিকে আগলে রেখেছে প্রকৃতি।

স্টেডিয়ামের চার পাশে চা বাগান, বড় বড় গাছ, ছোট ছোট টিলার সঙ্গে রয়েছে সবুজ গ্যালারিও। এসব উপাদানের কারণেই সিলেট স্টেডিয়ামকে সুন্দরের পূজারি বলছেন অনেকেই।

সিলেটের প্রাণকেন্দ্র থেকে স্টেডিয়ামের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। মাঝারি আঁকারের রাস্তার পাশেই অবস্থিত এই স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথ।  এরপরই আছে চোখ জুড়িয়ে যাবার মত দৃশ্য। সরু রাস্তা দিয়ে হেটে আসতেই পাশে বিরাট চা বাগান। বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ এই চা বাগানের নাম ‘লাক্কাতুরা’। এই চা বাগানের ভেতরেই স্টেডিয়ামটি অবস্থিত। চা বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে সকলকে।

চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতেই স্টেডিয়ামে প্রবেশের পথ চলে আসে। সেই পথের উল্টো দিকে ছোট ছোট টিলা। যেখানে দাঁড়িয়ে উৎসুক জনতার ক্রিকেট দর্শন। রৌদ্দজ্জ্বল আলো সেই সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকগুণ।

স্টেডিয়ামের ভেতরের গ্যালারিগুলোও বেশ পরিপাটি। আর গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডগুলো ছাদ কুড়ে ঘরের মত করে সাজানো। ছাদগুলো লাল টালি দেয়া। দূর থেকে দেখলে মনে হবে অনেকগুলো ‘বাংলো’ দাঁড়িয়ে আছে। তার নিচেও রয়েছে দর্শকদের খেলা উপভোগের জায়গা। তার ঠিক উল্টো দিকে সাংবাদিকদের প্রেসবক্স। সেটিও দেখতে দেশের অন্যান্য স্টেডিয়ামের চেয়ে বেশ আলাদা।

স্টেডিয়ামের ভেতরের এমন চিত্র এখানেই শেষ নয়। স্টেডিয়ামের সবচেয়ে মনমুগ্ধকর স্থান হলো পশ্চিম দিকের সবুজ গ্যালারি। এখানে বসে, শুয়ে, কাত হয়ে খেলার উপভোগ করা যাবে। এমনটা সাধারণত অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাতে দেখা যায়। ছোট একটি টিলাতে সিঁড়ির আকৃতির মত তৈরি করা আছে। বর্ষা মৌসুমে টিলা ধসে না যাওয়ার জন্য নিচের অংশে সামনের দিকে পাকা করা হয়েছে। এই সবুজ গ্যালারির ধারণ ক্ষমতা প্রায় দেড় হাজার। এমন গ্যালারি বাংলাদেশের কোন স্টেডিয়ামেই নেই। টিলার ঠিক পাশে ইলেক্ট্রনিক্স স্কোর বোর্ড।

যেই স্টেডিয়ামের আশে পাশে, ভেতরে এমনসব সৌন্দর্য বিরাজ করছে, সেটি সুন্দরের পূজারি না হয়ে কি পারে? এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল ঢাকা থেকে খেলা দেখতে আসা তরুণ ক্রিকেট প্রেমিদের একটি দলকে। খেলা দেখতে দেখতে তাদের বক্তব্য, ‘বাংলাদেশের সব স্টেডিয়ামেই খেলা দেখেছি আমরা। কিন্তু এত সুন্দর স্টেডিয়াম কোথাও দেখিনি। বিশেষভাবে সবুজ গ্যালারিটি। এটি আমাদের খুবই ভালো লেগেছে। এখানে আন্তার্জাতিক ম্যাচ বেশি হলে ক্রিকেট বিশ্বে আমাদের সুনাম বাড়বে।’

উল্লেখ্য, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি ২০০৭ সালে নির্মিত হয়। ৬১৫ ফুঠ দৈর্ঘ্য ৪৮৫ ফুট প্রস্থ নিয়ে এই ক্রিকেট মাঠটি দেশের অন্যতম বড় একটি ক্রিকেট মাঠ। ২০১৪ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঠ হিসেবে এই স্টেডিয়ামকেও নির্বাচন করে বিসিবি।

এই মাঠে ইংল্যান্ড লায়ন্সের সঙ্গে বাংলাদেশ ‘এ’ দল এবং ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচ হয়েছে। এ ছাড়াও নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, জাতীয় লিগের খেলাও হয়েছে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তবে এবকারই প্রথম বিপিএলের মাধ্যমে জাতীয় দলের ক্রিকেটারা মাঠটিতে খেলছেন।


শেয়ার করুন :