জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে ‘যুদ্ধ’ করতে প্রস্তুত ছিলেন লিটন-মাহেদী

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৯:২৯ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওদের মাঠে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। তুলনামূলক স্বল্প রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমেও পাঁচ উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা। তবে ওপেনার লিটন দাসের সাথে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়ে জয় তুলে নিয়েছেন মাহেদী হাসান। ৮ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নিলেও লিটদ-মাহেদী প্রস্তুত ছিলেন শেষ দুই ওভারে ‘যুদ্ধ’ করতে, তবে আর প্রয়োজন হয়নি।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) নেপিয়ারে ৫ উইকেটে জয় তুলে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টায়েন্টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। একই মাঠে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ জিতেও একই রেকর্ড রচনা করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

দলীয় ৯৬ ও ৯৭ রানে পর পর দুই হারানোর পরে উইকেটে লিটন দাসের সাথে জুটি বাধেন মাহেদী হাসান। বল হাতে ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পর দলের জয়ে ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৯ রান করেন মাহেদী। লিটন দাসের সাথে অপরাজিত ৪০ রানের জুটিতেই সহজে জয় পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

লিটন দাসের সাথে ব্যাটিং জুটি নিয়ে মাহেদী বলেন, “যেহেতু লিটন লম্বা সময় ধরে (ওপেন থেকে) ব্যাটিং করতেছিল, উইকেট ও ম্যাচ সম্পর্কে ওর ভালো আইডিয়া হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচটা জিততে হলে হয়তো ছোট আরও একটা পার্টনারশিপ হলে টিমের জন্য ভালো যাবে। তো আমাদের (দলের) ভালো পার্টনারশিপও হচ্ছিল, তবে মাঝখানে আবার দুই-তিনটা ব্রেক থ্রু চলে গেছে। ওখান থেকে লিটন বলতেছিল, পজেটিভ থাক আর জাস্ট খেলা খেলে যা। যাই হবে লাস্ট দুই ওভারে দেখা যাবে। জাস্ট এভাবে কথা বলে আমরা খেলতেছিলাম।”

স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয় নিয়ে তিনি বলেন, “অবশ্যই (ভালো লাগা), টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জয় (স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)। অবশ্যই দেশের জন্য, দেশের জনগণ এবং আমার টিমের জন্য বিষয়টি গর্বের। ”

টি-টোয়েন্টিতে দীর্ঘ দলের বাইরে ছিল মাহেদী হাসান। প্রায় ১৬ মাস পর এ ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরছেন তিনি। দীর্ঘ দিন পরে ফিরলেও মাহেদী বোলিং দিয়েই খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। তবে এটা নিয়ে কোন চিন্তিত ছিলেন না মাহেদী।

নিজের বোলিং নিয়ে মাহেদী বলেন, “চ্যালেঞ্জিং না। আমি তো টি-টোয়েন্টিতে ফাস্ট ওভার করে অভ্যস্ত, এটা চ্যালেঞ্জিং না আমার কাছে, যে কন্ডিশনেই হোক। আমার কাজ বল করা, সেটা যেখানেই হোক করতে হবে। টিম মেনেজম্যান্ট আমার উপর বিশ্বাস করছে -এ জন্য আমাকে ফাস্ট ওভার দিছে। ’

তিনি আরও বলেন, “আগে না জানা না থাকলে ফাস্ট ওভার করতাম না আসলেই। অনুশীলনের আগে আমাকে জানানো হয় যে, আমি খেলতেছি (প্রথম ম্যাচে)। ওইভাবেই আমি প্রিপারেশন নিছি যতটুকু সময় পেয়েছি।”

ইজিলি চেস করার মতো উইকেট ছিল, এবং যে রান তারা টার্গেট দিয়েছে আরামেই চেস করার মতো। তারপর গোল বল, যেকোন সময় মোমেনটাইম চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। একটা সময় প্রথম ধাপে আমরা এগিয়ে ছিলাম, মাঝখানে আবার ওরা (নিউজিল্যান্ড) ব্যাক করছে, দেন ফিনিশিংয়ে আবার আমরা ভালো টাচ দিয়েছে। এমনি, মোমেনটাইম গেমের ভিতরে চেঞ্জ হবেই, এটাই ক্রিকেট।

ম্যাচটিতে পেসারদের পাশাপাশি স্পিনাররাও ভেম ভালো বল করেছে। মাহেদী বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের পেস বোলাররা সবাই ভালো করতেছে। জিততে হলে আসলে সবার পারফম্যান্সটাই গুরুত্বপূর্ণ। এক-দু’জনের পারফম্যান্সটা গুরুত্বপূর্ণ না। টিম ওয়াইস গেম, তো আলহামদুলিল্লাহ, আমরা স্পিনাররাও ভালো বোলিং করছি। পেস বোলাররাও মাশাল্লাহ ভালো বোলিং করছে, এ জন্য হয়তো আমরা তাদের (নিউজিল্যান্ড) কম রানে আটকাতে পেরেছি। আমরা ইনশা আল্লাহ জিতেছি।”



শেয়ার করুন :