দেশ পরিচালনায় ক্ষমতায় আসলে দেশের ক্রীড়াঙ্গন এবং ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে জানিয়েছে নির্বাচনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে তার আগে সঠিন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণায় বিএনপি এ অঙ্গিকার করেছে।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধকরণ সম্পর্কে বলা হয়, “ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে।”
ইশতেহারের পঞ্চম অধ্যায়ে ‘ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতি’ বর্ণনায় বিএনপি বলে, “খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। নতুন ক্রীড়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাধ্যমে ১২-১৪ বছরের প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বাছাই ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।”
বলা হয়, “বিভাগীয় পর্যায়ে স্পোর্টস একাডেমি নির্মাণ এবং ৬৪ জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। সার্বিক স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। দেশের সব উপজেলায় ক্রীড়া অফিস ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ ছাড়াও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শিক্ষকের নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।”
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ৪৩ নং পৃষ্ঠা, ছবি-বিএনপি
“প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। সকল মহানগরসহ দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীতে খেলার মাঠ সংরক্ষণ করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সুবিধাবঞ্চিত খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। দেশে ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্প স্থাপন করা হবে।”-বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ঢাকায় ওয়ার্ড-ভিত্তিক মাঠ তৈরি ও সংস্কার, সারাদেশে ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ স্কিম প্রণয়ন, নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্রীড়ার অন্যান্য খাতে পেশাদার লিগ চালু, জাতীয় স্পোর্টস রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, ‘স্পোর্টস ইকোনমি’-কে সম্প্রসারণ এবং ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি’-কে গুরুত্বারোপ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
একই সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুগোপযোগী অবস্থান তৈরিতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে খেলাধুলাকে একটি প্রধান খাতে রূপান্তর করতে পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মাল্টি গেমস ইভেন্ট, সাউথ এশিয়ান গেমস, সাফ, সাউথ এশিয়া ওপেন, অলিম্পিক গেমস ইত্যাদিতে বাংলাদেশের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য দেশে একটি আধুনিক জাতীয় অলিম্পিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
