বাংলাদেশ ক্রিকেটে ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রাথমিকভাবে ১২ মাসের জন্য নেতৃত্ব পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের ওয়ানডে ফরম্যাটের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কাটিয়ে দলকে ভালো জায়গায় নিতে চান তিনি। মিরাজের প্রথম লক্ষ্য র্যাংকিংয়ে উন্নতি এবং দলকে সাফল্যের রাস্তায় ফিরিয়ে আনা।
ওয়ানডে ক্রিকেটকে বাংলাদেশের প্রিয় ভার্সন বিবেচনা করা হতো। তবে গত দুই বছরে দলের বাজে পারফরমেন্সের কারণে বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে দশম স্থানে রয়েছে টাইগাররা।
ওয়ানডে ফরম্যাটে ১২ মাসের জন্য অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়া মিরাজ নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমি মনে করি, ওয়ানডে দলকে ভালো অবস্থায় নেওয়ার এটাই সেরা সময়। এক সময় আমরা পঞ্চম স্থানে ছিলাম। এখন আমরা দশম স্থানে আছি। পুনর্গঠন এবং পুনর্মূল্যায়ন করার এটাই উপযুক্ত সময়।”
তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমরা আমাদের দু’জন সিনিয়র ক্রিকেটারকে এই ফরম্যাট থেকে অবসর নিতে দেখেছি। আমার মনে হয় যারা সুযোগ পাবে তাদের এটি কাজে লাগানো উচিত এবং আমি বিশ্বাস করি, এক বছরের মধ্যে আমরা ভালো দল গঠন করতে পারবো।”
নাজমুল হোসেন শান্তর কাছ থেকে অধিনায়কত্বের গুরু দায়িত্ব পেয়েছেন মিরাজ। ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন তিন ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়ক আছে। টেস্টে শান্ত ও টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিবেন লিটন কুমার দাস।
উন্নতির জন্য দলের ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত বলে মনে করেন মিরাজ। বলেন, “অবশ্যই, আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে। গত আট থেকে ৯ বছর আমরা অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি। জুনিয়র খেলোয়াড়দের শুরুর দিকের মতোই পারফর্ম করতে হবে। বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে পা রাখার সময় আমি আমার সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছি। এখন আমি তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করবো, যেমনটা সিনিয়ররা আমার সাথে করেছিলেন এবং এমন একটি ড্রেসিংরুম দিতে চাই যাতে তারা মনে করে তাদের সাথে সবাই আছে।”
বাংলাদেশ ওয়ানডে ফরম্যাটের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ
মিরাজ বলেন, “একজন অধিনায়কের জন্য দীর্ঘ সময়ের জন্য নেতৃত্ব পাওয়া সব সময়ই ভালো। যখন ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দীর্ঘ সময়ের জন্য অধিনায়ক করা হয় তখন পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়। এটি দলকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। যেহেতু আমি এক বছরের জন্য অধিনায়কত্ব পেয়েছি এজন্য এই সময়ের মধ্যে দলকে আরও ভালো অবস্থায় নিতে পারবো।”
সাবেক হওয়া বাংলাদেশের সর্বশেষ অধিনায়কদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মিরাজ জানান, তাদের কাছ থেকে যা শিখেছে তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, “আমি আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে। সে সময় ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি। আমার টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল মুশফিকুর রহিমের অধীনে। আমি সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এবং অন্যদের অধিনায়কত্বেও খেলেছি।”
মিরাজ আরও বলেন, “আমি তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, বিশেষ করে তারা কীভাবে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেন এবং চাপের মুখে কীভাবে শান্ত থাকতেন। সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে না। তবে কঠিন মুহূর্তে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে সেটি গুরুত্বপূর্ণ।”