ঘরের মাঠে মিরপুর শের-ই-বাংলাতেও পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুরের কালো উইকেটে ব্যাটিংয়ের শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা টাইগাদের ইনিংসের সমাপ্তি হয়েছে ৪৯.৪ ওভারে ২০৭ রানে।
সংযুক্ত আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচে ৯৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচের তিনদির পর মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অলআউট হলো বাংলাদেশ।
মিরপুরে এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ানডে ম্যাচ খেলছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ১৭১ রানে অলআউট হয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। দীর্ঘদিন পরেও সেই একই রকম স্কোরে থামলো বাংলাদেশ।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) টস হেরে ব্যাটিংয়ের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের মধ্যে (২.১) দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। সমান ছয় বল করে খেলা সাইফ হাসান ৩ এবং সৌম্য সরাকর ৪ রানে সাজঘরে ফিরেন।
তবে শুরুর বিপর্যয় সামাল দেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তাওহিদ হৃদয়। দু’জনের জুটি থেকে ৭১ রান পায় বাংলাদেশ। ২২.১ ওভারে ব্যক্তিগত ৩২ রানে শান্ত ফিরলে ৭৯ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দলীয় ৭৯ রানে শান্তর বিদায়ে ক্রিজে আসেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। হৃদয়ের সাথে ৭৫ বলে ৩৬ রানের জুটিতে বাংলাদেশের রান ১শ পার করেন মাহিদুল। এ জুটি থেকে ৮৭ বলে ওয়ানডেতে ১১তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়।
অর্ধশতকের পর ইনিংস বড় করতে পারেননি হৃদয়। পেসার জাস্টিন গ্রেভসের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৩ বাউন্ডারিতে ৯০ বলে ৫১ রান করেন হৃদয়।
এরপর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের রানের গতি বাড়ান মাহিদুল। তাদের ৫৫ বলে ৪৩ রানের জুটিতে ৪২তম ওভারে দেড়শ পায় টাইগাররা। ২টি চারে ২৭ বলে ১৭ রান করে স্পিনার চেজের বলে সুইপ করে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে গ্রেভসকে ক্যাচ দেন মিরাজ।
হাফ-সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৪ রান দূরে থাকতে চেজের দ্বিতীয় শিকার হন মাহিদুল। সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। ৩টি চার মেরে ৭৬ বলে ৪৬ রান করেন মাহিদুল।
দলীয় ১৬৫ রানে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে মাহিদুল ফেরার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের উপর চড়াও হন রিশাদ হোসেন। তার ২টি ছক্কা ও ১টি চারে সাজানো ১৩ বলে ২৬ রানের সুবাদে ২শর কাছে পৌঁছে যায় বাংলাদেশের স্কোর।
তবে ২শ থেকে ২ রান দূরে থাকতে অষ্টম ও নবম ব্যাটার হিসেবে রিশাদ ও তাসকিন আহমেদ আউট হলে ২শর আগেই অলআউট হবার শঙ্কায় পড়ে টাইগাররা। শেষ উইকেটে ৫ বলে ৯ রান যোগ করে দলের রান ২শ পার করেন তানভীর ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।
শেষ ব্যাটার হিসেবে ফিজ রান আউট হলে ইনিংসের ২ বল বাকী থাকতে ২০৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এই নিয়ে টানা ৭ ইনিংসে ৫০ ওভারও ব্যাট করতে পারল না টাইগাররা।
সিলেস ৪৮ রানে ৩টি, চেজ ও গ্রেভস ২টি করে উইকেট নেন।
