ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশ

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৯:২৩ এএম, ২৮ জুলাই ২০১৯
ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশ

ছবি : এপি

বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সিরিজেও ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশ। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারার পর এবার দ্বিতীয় ম্যাচেও হারলো তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। এ হারে তিন ম্যাচ সিরিজে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ খোয়ালো টাইগাররা।

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে লঙ্কানরা। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছে কখনও সিরিজ হারেনি শ্রীলঙ্কা।

রোববার (২৮ জুলাই) টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৯৮ রানের উপর ভর করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৮ রানের সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ওপেনার আবিস্কা ফার্নান্দোর ৮২ রানের কল্যাণে ৩২ বল বাকি রেখেই ম্যাচ ও সিরিজ জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা।

অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক ম্যাচে টস ভাগ্যে জিততে পারেননি তামিম ইকবাল। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঠিকই টস লড়াইয়ে জয় পান তিনি। টস জিতে ওপেনিংয়ে সতীর্থ সৌম্য সরকারকে নিয়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিতও দেন তামিম। তবে ষষ্ঠ ওভারে বিচ্ছিন্ন হয় বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি।

১টি চারে ১১ বলে ১৩ রান করেন আগের ম্যাচেও ব্যর্থ হওয়া সৌম্য সরকার। আগের ম্যাচে ইনিংসের পঞ্চম ডেলিভারিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামা শ্রীলঙ্কার পেসার লাসিথ মালিঙ্গার বলে বোল্ড হয়েছিলেন তামিম। দ্বিতীয় ম্যাচে মালিঙ্গার পরিবর্তে খেলতে নামা বাঁ-হাতি পেসার ইসুরু উদানার বলে ব্যক্তিগত ১৯ রানে বোল্ড হন তামিম। ৩১ বল মোকাবেলা করে ২টি চার মারেন তিনি।

৩১ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর জুটি বাঁধেন মোহাম্মদ মিঠুন ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। শুরুর ধাক্কা সামলে উঠার পরিকল্পনায় ছিলেন তারা। বেশ ধীরলয়ে এগুচ্ছিলেন মিঠুন ও মুশফিক। কিন্তু তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান অফ-স্পিনার আকিলা ধনঞ্জয়া। মিঠুনকে ১২ রানেই থামিয়ে দেন।

মিঠুনের বিদায়ে ১৫তম ওভারেই ২২ গজে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে উইকেট ছেড়ে পাশে গিয়ে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। এর আগে ১৮ বলে ৬ রান করেন মিডল-অর্ডারে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা মাহমুদউল্লাহ।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ আরও বাড়ে কিছুক্ষণ পর আগের ম্যাচের হাফ-সেঞ্চুরিয়ান সাব্বির রহমান আউট হলে। মুশফিকের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউট হন সাব্বির। ১টি চারে ১৯ বল মোকাবেলা করে ১১ রানে আউট হন সাব্বির। দলীয় ১শ’ স্পর্শ করার আগেই পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেন সাব্বির।

মুশফিকের সাথে শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাটিং তালিকায় ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হন। ২৭ বলে ১৩ রান করে উদানার দ্বিতীয় শিকার হন মোসাদ্দেক।

দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে দলকে বাঁচান মুশফিক ও মিরাজ। দলের বাজে অবস্থায় ধৈর্য্য হারাননি তারা। উইকেটের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলেন মুশফিক-মিরাজ। ফলে দেড়শ’ পেরিয়ে বাংলাদেশের স্কোর দুইশ’ স্পর্শ করে। তবে দলীয় ২০১ রানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা।

৬টি চারে ৪৯ বলে ৪৩ রান করা মিরাজকে বিদায় দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে দুর্দান্ত ব্রেক-থ্রু এনে দেন প্রদীপ। সপ্তম উইকেটে ৮৩ বলে ৮৪ রান যোগ করেন মুশফিক-মিরাজ। এ জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৭তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মুশফিক।

৪৬তম ওভারে মিরাজ ফিরে গেলেও হাল ছাড়েননি মুশফিক। তবে মাত্র ২ রানের জন্য ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি মিস করেন তিনি। ৯৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ১১০ বলের ইনিংসে ৬টি চার ও ১টি ছক্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৮ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে প্রদীপ-উদানা-ধনঞ্জয়া ২টি করে উইকেট নেন।

২৩৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে ভালো সূচনা করে শ্রীলঙ্কা। দুই ওপেনার আবিস্কা ফার্নান্দো ও অধিনায়ক করুনারত্নে ৬৯ বলে ৭১ রানের সূচনা এনে দেন। সতর্কতার সাথে খেলতে থাকা করুনারত্নকে শিকার করে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন বাংলাদেশের অফ-স্পিনার মিরাজ। ১৫ রান করে মিরাজের বলে বোল্ড হন করুনারত্নে।

করুনারত্নের বিদায়ের পর আবারও বড় জুটি উপহার পায় শ্রীলঙ্কা। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান কুশল পেরেরাকে নিয়ে ৫৮ রানের জুটি গড়েন ফার্নান্দো। ততক্ষণে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে নেন তিনি। সেঞ্চুরির পথেই হাটছিলেন ফার্নান্দো। তবে বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান বাঁধা হয়ে দাঁড়ান ফার্নান্দোর সুন্দর মারমুখী ইনিংসটির পথে।

ব্যক্তিগত ৮২ রানে ফার্নান্দোকে থামিয়ে দেন ফিজ। ৭৫ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন ফার্নান্দো। ফার্নান্দোকে শিকারের কিছুক্ষণ পর পেরেরাকেও তুলে নেন মোস্তাফিজুর। ৩টি চারে ৩৪ বলে ৩০ রান করেন পেরেরা।

দলীয় ১২৯ রানে ফার্নান্দো ও ১৪৬ রানে পেরেরার আউটের পর দলের হাল ধরেন কুশল মেন্ডিস ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। এ সময় দলের প্রয়োজন ছিল ১৫২ বলে ৯৩ রান। হাতে ছিল ৭ উইকেট। দলের এ প্রয়োজন স্বাচ্ছন্দ্যে পূরণ করেছেন মেন্ডিস ও ম্যাথুজ। মেন্ডিস ৪টি চারে ৭৪ বলে ৪১ ও ম্যাথুজ ৭টি চারে ৫৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের মোস্তাফিজ ২টি ও মিরাজ ১টি উইকেট নেন।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

বিশাল ব্যবধানে হেরে গেল বাংলাদেশ

বিশাল ব্যবধানে হেরে গেল বাংলাদেশ

বিদায় বেলায়ও রাঙিয়ে গেলেন মালিঙ্গা

বিদায় বেলায়ও রাঙিয়ে গেলেন মালিঙ্গা

মাশরাফি-সাকিবদের নতুন বোলিং কোচ ল্যাঙ্গেভেল্ট ও ভেট্টোরি

মাশরাফি-সাকিবদের নতুন বোলিং কোচ ল্যাঙ্গেভেল্ট ও ভেট্টোরি

তামিম-সাকিবের পর তৃতীয় মুশফিক

তামিম-সাকিবের পর তৃতীয় মুশফিক