শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হার দিয়ে শুরু করলো সফরকারী বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে লঙ্কানদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে গেছে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টিতে এই নিয়ে টানা ছয় ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে ৪ ওভারে ৩৮ রানের শুরু এনে দেন দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান। এর মধ্যে ১১ বলে ২৭ রান অবদান রাখেন পারভেজ।
পঞ্চম ওভারের শেষ বলে দলীয় ৪৬ রানে সাজঘরে ফিরেন তানজিদ। ২ চারে ১৬ রান করেন তিনি। এরপর তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক লিটন দাসকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন পারভেজ। ১৯ রান যোগ হওয়ার পর বিচ্ছিন্ন হন তারা। ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেননি লিটন। ১১ বলে মাত্র ৬ রান করেন তিনি।
লিটন ফেরার তিন বল পর আউট হন পারভেজ। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২২ বলে ৩৮ রান করে নবম ওভারে থামেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। ৬৭ রানে ৩ উইকেট পতনে ক্রিজের দুই প্রান্তেই নতুন দুই ব্যাটার মোহাম্মদ নাইম ও তাওহিদ হৃদয়। জুটি গড়ার চেষ্টায় সাবধানে খেলতে থাকেন তারা। তবে ২৩ বলে ২২ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি নাইম-হৃদয় জুটি। ১৩ বলে ১০ রান করা হৃদয়ের বিদায়ে ভাঙে জুটি।
এরপর ক্রিজে নাইমের সঙ্গী হন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। ১৫তম ওভারে দলের রান ১শতে নেন তারা। পঞ্চম উইকেটে দু’জনের ৩৬ বলে ৪৬ রানের জুটিতে দেড়শ রানের সম্ভাবনা জাগে বাংলাদেশের।
৪টি চারে ২৩ বলে ২৯ রান করে মিরাজ ১৯তম ওভারে ফিরলে ক্রিজে আসেন শামীম হোসেন। শেষদিকে ২ ছক্কায় শামীমের ৫ বলে ১৪ রানের মারমুখী ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ১টি করে চার-ছক্কায় ২৯ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন নাইম। শ্রীলংকার স্পিনার মহেশ থিকশানা ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন।
রান তাড়া করতে নেমে চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন শ্রীলংকার দুই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস। ২৮ বলে ৭৮ রান যোগ করেন তারা। জুটিতে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৬ বলে ৪২ রান করে মিরাজের শিকার হন নিশাঙ্কা।
তিন নম্বরে নেমে টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলতে পারেননি কুশল পেরেরা। স্পিনার রিশাদ হোসেনের শিকার হওয়ার আগে ২৫ বলে ২৪ রান করেন তিনি। পেরেরার সাথে জুটিতে ৩১ বলে টি-টোয়েন্টিতে ১৬তম হাফ-সেঞ্চুরি করেন মেন্ডিস। জয় থেকে ৭ রান দূরে থাকতে পেসার সাইফুদ্দিনের শিকার হন মেন্ডিস। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ বলে ৭৩ রান করেন তিনি।
এরপর শ্রীলঙ্কা জয় নিশ্চিত করেন আবিস্কা ফার্নান্দো ও অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কা। ফার্নান্দো ১১ ও আসালঙ্কা ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের মিরাজ-সাইফুদ্দিন ও রিশাদ ১টি করে উইকেট নেন।