নিরপত্তাহীন ভারতের কাছে মাথা নত করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দাবি মেনে না নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিলেও এবার পুরস্কৃত করলো আইসিসি।
ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিসিবির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এছাড়া ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ত দেওয়া হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসব তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাথে পাকিস্তানে আইসিসির বৈঠকের পর এসব সিদ্ধান্তের তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে চলমান আসরে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের নির্ধারিত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান। মূলত এরপরেই নড়েচড়ে বসে আইসিসি এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সাথে বৈঠক করে।
বিসিবির জন্য কোন শাস্তি বা নিষেধাজ্ঞা নেই
বিবৃতিতে আইসিসি বলে, বৈঠকে একমত হয়েছি (আইসিসি-বাংলাদেশ-পাকিস্তান) যে, চলমান বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আর্থিক, ক্রীড়া কিংবা প্রশাসনিক শাস্তি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপর আরোপ করা হবে না।
প্রয়োজনে বিসিবির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে যাওয়ার অধিকার থাকবে। বর্তমান আইসিসি বিধিমালার আওতায় বিসিবির এই অধিকার বহাল থাকবে -বলেও জানানো হয়।
আইসিসি আরও জানায়, পুরো বিষয়টিতে তাদের অবস্থান নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার নীতির ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হয়েছে এবং শাস্তিমূলক পথে না গিয়ে সহযোগিতামূলক সমাধানের লক্ষ্যেই তারা এগোচ্ছে।
বাংলাদেশে ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে আইসিসি ইভেন্ট
সমঝোতার অংশ হিসেবে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে ২০৩১ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করতে দেবে।
আইসিসির ভাষ্য, এটি আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতার উপর আস্থা প্রতিফলন। যা ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য সদস্য দেশের মধ্যে অর্থপূর্ণ আয়োজনের সুযোগ প্রদান, যা আইসিসির প্রতিশ্রুতিকেও আরও জোরদার করবে।
এছাড়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত। আইসিসির প্রেস নোটে তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক। তবে এটি একটি মূল ক্রিকেট জাতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির স্থায়ী প্রতিশ্রুতিতে কোন পরিবর্তন আনবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য বিসিবিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা, যাতে দেশে খেলাধুলার টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশ একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্রিকেট ইকোসিস্টেম হিসেবে রয়েছে, যার উন্নয়ন, প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বব্যাপী একীকরণে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের যোগ্য, এটি স্বল্পমেয়াদী বাধা দ্বারা সংজ্ঞায়িত নয়।”
