মিরপুরে নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ২৬ রানে হেরে গেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানের সংগ্রহ গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের মাঠেই পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি টাইগাররা।
উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহ না পেলেও মাঝে নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল ম্যাচ। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে পাল্টে যায় বাংলাদেশের হিসেবে নিকেষ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
বাংলাদেশকে গুটিয়ে দেওয়ার পথে বল হাতে ১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন ব্লেয়ার টিকনার।
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ ওভারে ২১ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে নিউজিল্যান্ড পেসার নাথান স্মিথের বলে বোল্ড হন ২ রান করা তানজিদ।
এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। স্মিথের প্রথম ডেলিভারিতেই বোল্ড হন শান্ত। ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ২১ রানে ২ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশকে লড়াইয়ের ভিত গড়ে দেন সাইফ ও উইকেটরক্ষক লিটন দাস।
১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়েন তারা। এই জুটিতেই ওয়ানডেতে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান সাইফ। তবে ২৩তম ওভারে সাইফ-লিটনের জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন নিউজিল্যান্ড পেসার উইল ও’রুর্ক। ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৬ বলে ৫৭ রান করেন সাইফ।
সাইফ ফেরার কিছুক্ষণ পর সাজঘরের পথ ধরেন লিটন দাসও। ৩ বাউন্ডারিতে ৪৬ রান করেন লিটন। ১৩২ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে লিটনকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলকে চাপমুক্ত করতে জুটি গড়ার চেষ্টায় সফল তাওহিদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন।
৫২ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। তবে নিউজিল্যান্ড স্পিনার জেডেন লেনক্সের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং-অনে ক্যাচ দেন আফিফ। চার-ছক্কা ছাড়া ইনিংসে ৪৯ বলে ২৭ রান করেন তিনি।
আফিফ যখন ফেরেন তখন ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ৫৭ বলে ৬৪ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের। এরপর নিউজিল্যান্ড পেসার ব্লেয়ার টিকনার ৪ উইকেট তুলে নিলে হারের মুখে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মিরাজ ১৪ বলে ৬, রিশাদ ৯ বলে ৪, শরিফুল ১ বলে শূন্য এবং তাসকিন ৫ বলে ২ রানে টিকনারের শিকার হন।
সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝেও এক প্রান্ত আগলে বাংলাদেশের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন হৃদয়। তবে ৪৯তম ওভারে স্মিথের তৃতীয় বলে শেষ ব্যাটার হিসেবে হৃদয় আউট হলে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১২তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৬০ বলে ৫৫ রানে আউট হন ২টি করে চার-ছক্কা মারা হৃদয়।
নিউজিল্যান্ডের টিকনার ১০ ওভারে ৪০ রানে ৪ উইকেট নেন। এছাড়া স্মিথের শিকার করেন ৩ উইকেট।
