বাংলাদেশের সামনে ৭ম ফাইনাল, কী ঘটেছিল ৬ ফাইনালে

স্পোর্টসমেইল২৪ ডেস্ক স্পোর্টসমেইল২৪ ডেস্ক প্রকাশিত: ১২:২৩ এএম, ১৭ মে ২০১৯
বাংলাদেশের সামনে ৭ম ফাইনাল, কী ঘটেছিল ৬ ফাইনালে

ফাইল ছবি

ক্রমেই সত্যিকারের জায়ান্ট দলে পরিণত হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। টাইগাররা ইতোপূর্বে কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। এ সময় তারা হোম ও এ্যাওয়ে সিরিজে বিশ্ব সেরা দলকে পরাজিতও করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত জয় করতে পারেনি তিন বা চার দলের অংশগ্রহণে কোন সিরিজের শিরোপা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন পর্যন্ত একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও টি-২০ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলেছে ছয়বার। কিন্তু ফাইনাল খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে। নিজেদের হাতে ট্রফি উচিয়ে ধরতে পারেনি। জয় করতে পারেনি ত্রিদেশীয় বা এর বেশি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের শিরোপা।

আয়ারল্যান্ড সফরে ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপ পর্বে বেশ শক্তিশালী পারফর্মেন্স দেখাচ্ছে টাইগাররা। সপ্তমবারের মত এমন টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। শুক্রবার (১৭ মে) ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোকাবেলা করবে মাশরাফি বাহিনী। এবার কি ঘটবে টাইগারের ভাগ্যে তা শুক্রবারই দেখা যাবে।

ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। এ প্রথম ত্রিদেশীয় ইভেন্টের ফাইনালে ক্যারিবীয়দের মোকাবেলা করতে যাচ্ছে টাইগাররা।

সপ্তম টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার আগে বাংলাদেশ দলের ছয়টি ফাইনালের পরিসংখ্যান নীচে দেয়া হলো-

শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটে হার
২০০৯ সালে ১৬ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটের হৃদয় বিদারক ওই হারটি দিয়েই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পরাজয়ের ধারা। এরপর থেকে ওই হারের গন্ডিতেই ঘুরপাক খেতে হয়েছে টাইগার দলকে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওই সিরিজে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া বইক দল হিসেবে অংশ নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে।

লো স্কোরিং ম্যাচে টাইগার দলের ১৫২ রান সংগ্রহ করা স্বাগতিক দলের হয়ে সর্বাধিক ৪৩ রান করেছিলেন রকিবুল হাসান। ম্যাচে বাংলাদেশ যে হারবে সেটি প্রত্যাশিতই ছিল। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কানায় কানায় পূর্ণ দর্শকদের উপস্থিতিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ যখন ৫ রানের বিপরীতে ৬ উইকেট সংগ্রহ করেছিল তখন সবাই আশা করছিল প্রথমবারের মত সিরিজ জিততে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

তবে কুমার সাঙ্গাকারার ৫৯ রান সংগ্রহ করে লঙ্কান ইনিংসটি মেরামত করেন। এরপর পারভিজ মাহরুফের অপরাজিত ৩৮ রান এবং মুত্তিয়া মুরালিধারনের ১৬ বলে হার না মানা ৩৩ রানে ভর করে টাইগারদের জয় ছিনিয়ে নেয় সফরকারী শ্রীলঙ্কা।

এশিয়া কাপে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হার
শ্রীলঙ্কার কাছে হৃদয় বিদারক ২ উইকেটে পরাজয়ের তিন বছর পর বাংলাদেশ ২য় ফাইনালে উঠে জয়ের আভাস দিচ্ছিল। কিন্তু এই দফায় পাকিস্তানের কাছে তারা হার মানতে বাধ্য হয় দুই রানে।

২০১২ সালের ২২ মার্চ ওই হার ছিল আরও বেশি হৃদয় বিদারক। এ হার বাংলাদেশ শিবিরকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে টাইগার দলের সবচেয়ে শক্তিশালী মনোবলের অধিকারী সাকিব আল হাসানকের দেখা গেছে শিশুদের মত কাঁদতে।

ওই আসরে গ্রুপ পর্বে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। ফাইনাল ম্যাচে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে ২৩৫ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় পাকিস্তান। তামিম ইকবালের ৬০ ও সাকিব আল হাসানের ৬৮ রানের সংগ্রহে ওই লক্ষ্যকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে বাংলাদেশ।

নিয়মিত উইকেট পতনের পরও জয়ের পথেই ছিল স্বাগতিকরা। শেষ ওভারে এসে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান। ১৭ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন নির্ভরযোগ্য ব্যাাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন তিনি। মাত্র দুই রানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে পরাজয়
২০১৬ সালে ৬ মার্চে অনুষ্ঠিত ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের এ ম্যাচটি ছিল একপেশে। প্রথমবারের মত টি-২০ ক্রিকেটের ফাইনালে উঠে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

বৃষ্টির কারণে কার্টেল ওভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ছিল না কোন নাটকীয়তা। ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১২০ রান সংগ্রহ করে। যা ভারতের বিশ্বকাঁপানো লাইনআপের সামনে ছিল একেবারেই অপ্রতুল। মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৩.৫ ওভারে লক্ষ্যে পৌছে যায় ভারত।

ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭৯ রানের হার
ত্রিদেশীয় এ টুর্নামেন্টেও অংশ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। ওই আসরের ফাইনালেও ২০১৮ সালে ২৭ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

ফেভারিটের তকমা ছিল স্বাগতিক বাংলাদেশের গায়ে। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল আসরে। শুরুতে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারানো বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল ১৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। তবে ফাইনালে সফরকারী শ্রীলঙ্কাকে ২২১ রানে আটকে রেখেও ৪১.১ ওভারে ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

নিদাহাস ট্রফি টি-২০ ফাইনাল
২০১৮ সালের ১৮ মার্চ কলোম্বোতে ভারতের কাছে ৪ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য আরও একটি হৃদয় ভেঙ্গে যাওয়া ঘটনা।

সাব্বির রহমানের ৫০ বলে ৭৭ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ভারতীয় দলটিকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন রোহিত শর্মা। তার এগিয়ে দেওয়ার পর অসাধারণ এক সমাপ্তি টানেন দিনেশ কার্তিক।

২০১৮ সালের এশিয়া কাপ
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের ফাইনালে সেই ভারতের কাছেই ৩ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। এটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের দ্বিতীয় ফাইনাল জয়।

ফাইনালের ওই ম্যাচে লিটন দাসের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে দারুন এক সুচনা করে টাইগাররা। ১২১ বলে ১১৭ রান সংগ্রহ করেন লিটন। তারপরও দলের বাকী ব্যাটসম্যানদের ব্যার্থতায় ৪৮.৩ ওভারে ২২২ রানে অল আউট হয়ে যায়।

জবাবে ভারতকেও ধুকতে হয়েছে টাইগার বোলারদের সামনে। রোহিত শর্মার ৪৮ রানের সংগ্রহই ছিল দলের সর্বাধিক। হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেনি কোন ভারতীয়। তবে শেষ পর্যন্ত ঠিকই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। শেষ বলে কেদার যাদবের বাউন্ডাররে কল্যাণে জয় নিশ্চিত করে ভারত।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

ফাইনালের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী : মাশরাফি

ফাইনালের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী : মাশরাফি

ফাইনালে খেলার সিদ্ধান্ত সাকিবের ওপর ছেড়ে দিয়েছে দল

ফাইনালে খেলার সিদ্ধান্ত সাকিবের ওপর ছেড়ে দিয়েছে দল

শিরোপা জিতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারতে চায় বাংলাদেশ

শিরোপা জিতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারতে চায় বাংলাদেশ

মাশরাফির মন্ত্রেই রাহীর সাফল্য

মাশরাফির মন্ত্রেই রাহীর সাফল্য