ঢাকায় ‘৬ষ্ঠ জাতীয় নারী বেসবল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫’-এর ফাইনাল লড়াইয়ে গত পাঁচ আসরের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ আনসার দলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। শনিবার (১ নভেম্বর) ধানমন্ডি রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফাইনালে বাংলাদেশ পুলিশ নারী বেসবল দল ১১-০২ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বাংলাদেশ আনসার নারী দল। বর্ণাঢ্য গ্র্যান্ড ফাইনাল শেষে খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এর আগে দুপুরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় জয়পুরহাট বেসবল ক্লাব ১৪-০৪ রানে ঢাকা জেলাকে পরাজিত করে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। ফলে ঢাকা জেলা দল চ্যাম্পিয়নশিপে চতুর্থ স্থান অর্জন করে।
বিকেলে শুরু হওয়া জমজমাট ফাইনাল খেলায় উভয় দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে। টানটান উত্তেজনা ভরপুর ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ দলের দক্ষ পিচার ও ব্যাটারদের অসাধারণ সমন্বয়ে ম্যাচটি রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে।
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান।
নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে, যা আমাদের ক্রীড়া অঙ্গনের জন্য আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশ বেসবল-সফটবল অ্যাসোসিয়েশন নারী বেসবলের উন্নয়নে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সরকার নারী খেলোয়াড়দের পাশে থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমই বিশ্ববিদ্যালয় অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বেসবল-সফটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আফজালুর রহমান। তিনি বলেন, নারী বেসবলের এই অগ্রযাত্রা আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। প্রথমবারের মতো পুলিশ দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমরা গর্বিত। আগামীতেও আমরা নারী বেসবলকে আরও বিস্তৃত করতে চাই, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
অন্যানদের মধ্যে অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ডা. অনুপম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়ের, যুগ্ম সম্পাদক ইমাম হোসেন সোহাগ, ট্রেজারার ফয়সাল হাবিব, নির্বাহী সদস্য আরাফে জাওয়াদ, ফরিদ আহমেদ ও জাতীয় দলের কোচ হিরোকি ওয়াতানাবে এবং অন্যান্য কর্মকর্তাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো দেশের বিভিন্ন জেলা, ক্লাব ও সার্ভিস দল মিলিয়ে ১২টি দল অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে আবাসন, খাবার, ইউনিফর্ম, প্রাইজমানি, বেস্ট প্লেয়ার, পিচার, ব্যাটার, রাইজিং খেলোয়াড়, টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়সহ ট্রফি, মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কারসহ নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।
বিবিএসএ-এর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সুবিধা ও প্রণোদনা আরও বৃদ্ধি করা হবে। যাতে দেশের নারী খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়।
