২০১০ আসরের ঋণ শোধ না করেই ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ১১:৫৭ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
২০১০ আসরের ঋণ শোধ না করেই ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত

২০১০ কমনওয়েলথ গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠান, জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম ভারত

গুজরাটে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে ভারত। তবে নতুন আসরের প্রস্তুতির মাঝেই সামনে আসলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১০ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের আর্থিক বকেয়া, আইনি জটিলতা এবং পুরোনো বিতর্ক এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৮.০৫ কোটি রুপি বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। এমটিএনএলকে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাকি দায় পরিশোধের জন্য আরও ৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

ভারতের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে কত টাকা বকেয়া রয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয় এখনো আদালতে বিচারাধীন। ২২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ২০১০ গেমস-সংশ্লিষ্ট ২৯টি মামলা ভারতের বিভিন্ন আদালতে চলমান রয়েছে। এসব মামলায় ২৪টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সরকারি কর্তৃপক্ষ জড়িত।

বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- নুসলি সুইজারল্যান্ড। যারা গেমস ওভারলে কাজের জন্য ১২৮ কোটি রুপির চুক্তি পেয়েছিল। এছাড়া ইলেকট্রনিক্স করপোরেশন অব ইন্ডিয়াও ৩৪৬ কোটি রুপির অনুমোদিত চুক্তির তালিকায় রয়েছে।

শুধু বকেয়াই নয়, সময়ের সঙ্গে বেড়েছে আইনি ব্যয়ও। ২০১০ সাল থেকে আইনজীবীদের পেছনে ৬.৩৭ কোটি রুপি এবং সালিশকারী ও ট্রাইব্যুনালের পেছনে ৬.৬৩ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে।

ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক (সিএজি)-এর পুরোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০১০ গেমসের আনুমানিক ব্যয় ২০০৩ সালে নির্ধারিত ২৯৭ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ২০১০ সালের অক্টোবরে ১৮,৫৩২.৩১ কোটি রুপিতে পৌঁছে যায়। ফলে দিল্লি গেমস দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত ব্যয়, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতীক হিসেবে আলোচিত।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সাবেক ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এবং ২০১০ আয়োজক কমিটির প্রধান সুরেশ কালমাদি বড় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। তবে সেই আসর ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ, নিম্নমানের পরিকল্পনা ও অবকাঠামো নির্মাণে বিলম্ব ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

এদিকে, ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস হবে আসরটির শতবর্ষী সংস্করণ। গুজরাটের আহমেদাবাদে ৭০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। ভারত এই আসরকে শুধু সফল আয়োজন হিসেবেই নয়, বরং ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজক হওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের সক্ষমতা দেখানোর বড় মঞ্চ হিসেবেও দেখছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এবারের আসর। ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরে দাঁড়ানোর পর গ্লাসগো এই প্রতিযোগিতার আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে।



শেয়ার করুন :