শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেতে হলে ব্যাটার-বলারদের কাছে চাওয়া ছিল রান এবং উইকেট। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দুটোই এলো বাংলাদেশের পক্ষে। লিটন-শামীমের ব্যাটে বড় সংগ্রহ গড়ার পর বল হাতে জয় এনে দিলেন রিশাদ-শরিফুল-সাইফউদ্দিনরা।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে অধিনায়ক লিটন দাসের ফিফটি (৭৬) এবং শামীম পাটোয়ারীর ৪৮ রানের সুবাদে ৭ উইকেটে ১৭৭ রানের সংগ্রহ গড়েছিল বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে টাইগার বোলারদের তোপের মুখে ১৫.২ ওভারেই ৯৪ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ইনিংস।
সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ৮৩ রানে জয় পেয়ে ১-১ এ সমতায় ফিরলো বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে রান বিবেচনায় লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটিই সবচেয়ে বড় জয়ও। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় বড় জয় টাইগারদের। পাশাপাশি ছয় ম্যাচ পর টি-টোয়েন্টিতে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৯ মোকাবেলায় সপ্তম জয় টাইগারদের।
রোববার (১৩ জুলাই) ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। ৩ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি পারভেজ হোসেন। ৮ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন তানজিদ হাসান।
২ ওভারের মধ্যে ২ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের দৃঢ়তায় পাওয়ার প্লেতে ৩৯ রান পায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে লিটনের সাথে ৫৫ বলে ৬৯ রান যোগ করেন হৃদয়।
দলীয় ৭৮ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন লিটন ও শামিম। এ সময় ছক্কা মেরে ৩৮ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১২তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। ১৩ ইনিংস পর টি-টোয়েন্টিতে অর্ধশতকের দেখা পান লিটন। সর্বশেষ গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন।
লিটনের হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১১৫। এরপর শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চড়াও হন লিটন ও শামীম। ১৬ থেকে ১৮ ওভার পর্যন্ত ৪০ রান তুলেন লিটন ও শামীম। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে মহেশ থিকশানার বলে সাজঘরে ফিরেন লিটন। ১টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫০ বলে ৭৬ রান করেন লিটন।
ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন শামীম। ৫ চার ও ২টি ছক্কায় ২৭ বলে ৪৮ রান করেন তিনি। পঞ্চম উইকেটে লিটন-শামীমের ৩৯ বলে ৭৭ রানের জুটিতে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৭ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
রান তাড়া করতে নেমে ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ৮ রানে রান আউট হন ওপেনার কুশাল মেন্ডিস। এরপর জোড়া উইকেট তুলে নেন পেসার শরিফুল ইসলাম। কুশাল পেরেরাকে শূন্য ও আভিস্কা ফার্নান্দোকে ২ রানে সাজঘওে পাঠান তিনি।
শরিফুলের সাথে উইকেট শিকারে মাতেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনও। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কাকে ৫ রানে বিদায় দেন সাইফুদ্দিন। এতে ৩০ রানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলংকা।
পঞ্চম উইকেটে ৩১ বলে ৪১ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও দাসুন শানাকা। ১১তম ওভারে নিশাঙ্কাকে ৩২ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙ্গেন স্পিনার রিশাদ হোসেন। ওই ওভারেই নতুন ব্যাটার চামিকা করুনারত্নকে খালি হাতে ফেরত পাঠান রিশাদ।
৭১ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর বেশি দূর যেতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১৫.২ ওভারে ৯৪ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা। রিশাদ ১৮ রানে ৩টি, শরিফুল-সাইফুদ্দিন ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছে টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস।