ক্রিকেটে একই ম্যাচে বাবা-ছেলের পাঁচ জুটি

মমিনুল ইসলাম মমিনুল ইসলাম প্রকাশিত: ০২:৪৯ এএম, ২২ এপ্রিল ২০২০
ক্রিকেটে একই ম্যাচে বাবা-ছেলের পাঁচ জুটি

শিবনারায়ণ চন্দরপল (বামে) ও ট্যাগেনারাইন চন্দরপল (ডানে)

সময়ের বিবর্তনে ক্রিকেট এখন সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কালের পরিক্রমায় প্রতিনিয়তই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড, ভাঙছে পুরনো কত কীর্তি। জনপ্রিয় এ খেলায় কাকতালীয় ঘটনার দেখা মিলে অহরহ। এমন কী প্রতিযোগীতামূলক ক্রিকেটের একই ম্যাচে পিতা-পুত্রের জুটি গড়ার মতোই রেকর্ড রয়েছে।

ছেলেকে নিয়ে ক্রিকেট মাঠে জুটি বেঁধে খেলা একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। ক্রিকেট ইতিহাসে যার প্রথম দেখা মিলে ১৮৯৯ সালে, ইংল্যান্ডের উইলি কায়েফ ও বার্নার্ড কায়েফের হাত ধরে। আর সর্বশেষ দেখা মিলে ২০১৮ সালে শিবনারায়ণ চন্দরপল ও ছেলে ট্যাগেনারাইনের মধ্যকার জুটি। আজকের প্রতিবেদনে তেমনি বাবা-ছেলের পাঁচ জুটি নিয়ে থাকছে নানা তথ্য।

১. উইলি কায়েফ- বার্নার্ড কায়েফ, ১৮৯৯
ইংল্যান্ডের অন্যতম স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান ছিলেন উইলি কায়েফ। যার ১৮৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে খুব একটা ভালো করতে পারেননি উইলি। ইংল্যান্ডের হয়ে ৭ টেস্ট খেলে করেছিলেন মাত্র ২২৮ রান।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সুদীর্ঘ না হলেও প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে বেশ উজ্জ্বল উইলি কায়েফ। ৭১৯টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ম্যাচে করেছেন ৩৬ হাজারের অধিক রান। তার ছেলে উইকেটরক্ষক বার্নার্ড কায়েফ ৩১৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে করেছেন ৯৫৯৪ রান।

sportsmail24উইলি কায়েফ (বাবা) ও ছেলে বার্নার্ড কায়েফ (ডানে)

ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে সোমারসেটের বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় উইলির। মজার ব্যাপার হলো ওয়ার্কার্সশায়ারে চলে যাওয়ার আগে ছেলে বার্নার্ডের সাথে একই ম্যাচে জুটি বাধেঁন উইলি। যা কি না ক্রিকেটে পিতা-পুত্রের জুটি গড়ার প্রথম ঘটনা। বাবা উইলির সাথে মোট ২০টি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল বার্নার্ডের।

২. জর্জ গান - জর্জ ভার্নন গান, ১৯৩৩
ইংল্যান্ডের হয়ে ১৫টি টেস্ট খেলেছেন জর্জ গান। যেখানে ২ সেঞ্চুরি ও ৭ হাফসেঞ্চুরি সাহায্যে করেছেন ১১২০ রান। তবে অবাক করা বিষয় হলো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব বেশি বড় না হলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি ছিলেন একজন লিজেন্ড। যেখানে ৬২ সেঞ্চুরি ও ১৯৪ হাফসেঞ্চুরির সাহায্যে করেছেন ৩৫ হাজারেরও অধিক রান।

তবে বাবা জর্জ গান ইংল্যান্ডের হয়ে খেললেও ছেলে জর্জ ভার্নন গানের সে সুযোগ হয়নি। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। বাবা-ছেলে দু‘জনেই খেলেছেন নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে।

sportsmail24জর্জ গান (বাবা) ও ছেলে জর্জ ভার্নন গান (ডানে)

১৯৩১ সালে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট অভিষেক হয় জুনিয়র গানের। অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন জুনিয়র গান। অবাক করা বিষয় হয় একই ম্যাচে তার বাবা জর্জ গানও খেলেছিলেন ১৮৩ রানের ইনিংস। পরিসংখ্যান অনুসারে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার একমাতড় পিতা-পুত্রের জুটি এটি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক সাথে ৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন তারা।

৩. লালা অমরনাথ - সুরিন্দার অমরনাথ, ১৯৬৩
১৯৩৩ সালে ভারতের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট অভিষেক হয় লালা অমরনাথের। তবে খুব বেশিদিন জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হয়নি লালার। ভারতের হয়ে খেলেছেন মাত্র ২৪টি টেস্ট ম্যাচ। যেখানে ১ সেঞ্চুরি ও ৪ অর্ধ-শতকের সাহায্যে করেছেন ৮৭৪ রান। পরবর্তীতে তার ছেলে সুরিন্দারও খেলেছেন ভারতের জাতীয় দলে, খেলেছেন মাত্র ১০ টেস্ট। দুজনের জন্য সবচেয়ে দারুণ মূহুর্ত আসে ১৯৬৩ সালে যেখানে তারা দুজনই খেলেছেন একই খেলায়।

sportsmail24লালা অমরনাথ (বামে) ও সুরিন্দার অমরনাথ (ডানে)

১৯৬৩ সালে দেশের প্রতিরক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য পাঁচ ম্যাচের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচে মহারাষ্ট্র চিফ মিনিস্টার একাদশ ও মহারাষ্ট্র গভর্নর একাদশের ম্যাচে অভিষেক হয় ১৫ বছর বয়সী সুরিন্দার অমরনাথের। মজার বিষয় হলো সেই ম্যাচে খেলেছেন ৫২ বছর বয়সী লালা অমরনাথও। সেই খেলায় ৮৬ রান করেন সুরিন্দার ও ৪০+ রান করেছিলেন লালা অমরনাথ।

৪. ডেনিস স্ট্রিক - হিথ স্ট্রিক, ১৯৯৬
জিম্বাবুয়ে টেস্ট খেলুড়ে দেশের মর্যাদা পাওয়ার আগেই ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন হিথ স্ট্রিকের বাবা ডেনিস স্ট্রিক। তবে জাতীয় দলের হয়ে সেভাবে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। অন্যদিকে তার ছেলে হিথ স্ট্রিক ছিলেন ব্যাটে বলে দুর্দান্ত। জিম্বাবুয়ের স্বর্ণালী সময়ের সারথী ছিলেন হিথ। হিথ স্ট্রিকের রঙিন ক্যারিয়ারে টেস্টে নিয়েছেন ২১৬ উইকট আর ওয়ানডেতে ২৩৯ উইকেট। আর ২৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিয়েছেন ২৪ উইকেট।

sportsmail24ডেনিস স্ট্রিক (বামে) ও হিথ স্ট্রিক (ডানে)

দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন ডেনিস। তবে ৪৭ বছর বয়সে আবারও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরেন ডেনিস স্ট্রিক। দীর্ঘ ১১ বছরের বিরতিতে ১৯৯৬ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরেন ডেনিস স্ট্রিক। ম্যাটাবেলল্যান্ডের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরেন ডেনিস। মজার বিষয় হলো, তার ছেলে হিথ স্ট্রিকও খেলেছেন একই ম্যাচে একই দলের হয়ে। যেখানে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ম্যাশোনাল্যান্ডকে হারিয়ে লোনরো লোগান কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ম্যাটাবেলল্যান্ড।

৫. শিবনারায়ণ চন্দরপল - ট্যাগেনারাইন চন্দরপল, ২০১৮
শিবনারায়ণ চন্দরপল নামটা নতুন করে পরিচয় করে দেওয়ার দরকার নেই। যিনি নিজেকে পরিণত করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে। ২০১৫ সালে ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন চন্দরপল। ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ২০ হাজারের অধিক আন্তর্জাতিক রান করেছেন তিনি। ক্রিকেটের প্রতি এতটাই ভালোবাসা ছিল যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও চালিয়ে গেছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট।

sportsmail24শিবনারায়ণ চন্দরপল (বামে) ও ট্যাগেনারাইন চন্দরপল (ডানে)

নিজের মত করে ছেলেকে ক্রিকেটে জীবন গড়ার সুযোগ করে দেন চন্দরপল। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত খেলতে থাকা ২২ বয়সী ট্যাগেনারাইন চন্দরপলের সুযোগ হয় বাবার সাথে একই ম্যাচে খেলার। গান্ধী যুব সংস্থার হয়ে বাবার সাথে সুযোগ মিলে তার।

গান্ধী যুব সংস্থার হয়ে ৪০ ওভারের ম্যাচে ২৫৬ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন শিবনারায়ণ চন্দরপল ও ট্যাগেনারাইন চন্দরপল। রান নেওয়ার সময় বাবার সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ট্যাগেনারাইন। আর তাতেই ভাঙে পিতা-পুত্রের ২৫৬ রানের জুটি। পিতা-পুত্রের রেকর্ডে এটিই সবচেয়ে বড় রানের জুটি। 

[sportsmail24.com এর ওয়েবসাইট এখন sportsmail.com.bd ঠিকানাতেও ব্রাউজ করে পড়তে পারবেন। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে স্পোর্টসমেইল২৪.কমের অ্যাপস থেকেও খেলাধুলার সকল নিউজ পড়তে পারবেন। ইনস্ট্রল করুন স্পোর্টসমেইল২৪.কমের অ্যাপস ]


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

জয়, ইতিহাস ও ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথচলা

জয়, ইতিহাস ও ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথচলা

ব্যাঙ্গালুরু : বাংলাদেশের বেদনার প্রান্তর-১

ব্যাঙ্গালুরু : বাংলাদেশের বেদনার প্রান্তর-১

একসাথে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া কিংবদন্তিদের গল্প

একসাথে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া কিংবদন্তিদের গল্প

দুই দশকে ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে কে সেরা?

দুই দশকে ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে কে সেরা?