‘অপ্রীতিকর ও অনৈতিক কার্যকলাপে’র সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ক্লাবের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড এবং ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব থেকে হকি কোচ (গোলরক্ষক) রাসেল খান বাপ্পিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ‘মিথ্যা অভিযোগে’ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাসেল খান বাপ্পি। একই সাথে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন তিনি।
অপ্রীতিকর ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সম্প্রতি ক্লাব দুটি বরাবর চিঠি দিয়েছেন রাসেল খান বাপ্পি। চিঠিতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার অনুরোধও করেছেন তিনি।
ডাকযোগে পাঠানো চিঠিতে রাসেল খান বাপ্পি বলেন, গত ১৩/১২/২০২৫ তারিখে আপনার (মঞ্জুর আলম মঞ্জু) স্বাক্ষরিত একটি পত্র আমার নিকট পৌঁছায়, যাহাতে আমার বিরুদ্ধে ক্লাবের অর্থ ও মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে আমাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। উক্ত পত্র প্রাপ্ত হয়ে আমি অত্যন্ত মর্মাহত ও বিস্মিত হয়েছি, কারণ এতে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, প্রথমত, আমাকে কোন কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান না করে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই একতরফা ভাবে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা ক্লাবের গঠনতন্ত্র, প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার এবং প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
দ্বিতীয়ত, আমি গত ০৩/০৫/২০২৫ইং তারিখে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের নতুন কমিটির মাধ্যমে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। উক্ত সময়কালে ক্লাবে কোনো ম্যানেজার না থাকায় সাধারণ সম্পাদক জনাব আইয়ুব হক প্রিন্স মহোদয়ের নির্দেশক্রমে ম্যানেজারের দায়িত্বও আমাকে পালন করতে হয়।
মোহামেডান ও ভিক্টোরিয়া ক্লাব থেকে রাসেল খান বাপ্পিকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি
তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্বকালীন সময়ে ক্লাবের প্রতিটি আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে সাধারণ সম্পাদক মহোদয়কে বুঝিয়ে দিয়েছি এবং তিনি স্বাক্ষরসহ তা গ্রহণ করেছেন। তার সম্মতিতেই আমি প্রতি মাসে আমার পারিশ্রমিক বাবদ প্রতি মাসে ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা অর্থাৎ ৬ (ছয়) মাসে সর্বমোট ২,৪০,০০০ (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা গ্রহণ করেছি, যা আত্মসাৎ নয়, বরং বৈধ পারিশ্রমিক।
সর্বমোট ২১,১১,৭৭৫/- (একুশ লক্ষ এগারো হাজার সাতশত পঁচাত্তর) টাকা, যা সাধারণ সম্পাদক মহোদয় নিজে স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেছেন। উক্ত লেনদেনের লিখিত প্রমাণ ও স্বাক্ষরিত রশিদ আমার নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।
তৃতীয়ত, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দোকান ভাড়া, বোর্ড ভাড়া, মালামাল আত্মসাৎ, আত্মীয় নিয়োগ, চাঁদাবাজি, স্টোর রুমের মালামাল গ্রহণ ও টিন/খাট বিক্রির অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা, কল্পনাপ্রসূত এবং কোন প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণবিহীন। এসব বিষয়ে আমাকে কখনো লিখিত বা মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
রাসেল খান বাপ্পি বলেন, প্রকৃতপক্ষে, আমি আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব হক প্রিন্স মহোদয়ের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই আমার সম্মানহানি ও আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বহিষ্কারপত্র প্রদান করা হয়েছে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
অতএব, উপরোক্ত অবস্থার আলোকে আমি দৃঢ়ভাবে দাবি করছি যে, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ প্রত্যাহার করে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা হোক এবং আমাকে ন্যায়বিচার প্রদানের লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।
অন্যথায়, আমি আমার সম্মান, সামাজিক মর্যাদা ও আইনগত অধিকার রক্ষার্থে দেশের প্রচলিত আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো, যার দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
