শরিফুলের বোলিং তোপে ১২৬ রানে গুটিয়ে গেছে আফগানিস্তান

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৬:০১ পিএম, ১১ জুলাই ২০২৩
শরিফুলের বোলিং তোপে ১২৬ রানে গুটিয়ে গেছে আফগানিস্তান

টানা দুই ম্যাচ হারের পর সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১২৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা। বল হাতে শরিফুল ইসলামের ৪ উইকেট শিকার ছাড়াও তাসকিন এবং তাইজুল ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে তিনটি পরির্বতন নিয়ে টস হেরে প্রথমে বোলিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তিন পেসার এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় একাদশে সুযোগ হয় দুই পেসার তাসকিন-শরিফুল ও স্পিনার তাইজুলের।

বল হাতে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন শরিফুল। উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে ১ রানে বিদায় দেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইব্রাহিম জাদরান। আগের ম্যাচে ১০০ করা ইব্রাহিম আজ ১ রান করে আউট হন।

একই ওভারের পঞ্চম বলে রহমতশাহকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আবারও উইকেট শিকারের আনন্দে মাতান শরিফুল। মুশফিককে ক্যাচ দেওয়া রহমতশাহ রানের খাতাই খুলতে পারেননি। শরিফুলের জোড়া আঘাতের পর প্রথম উইকেটের দেখা পান তাসকিন।

নিজের তৃতীয় ওভারে আগের ম্যাচের আরেক সেঞ্চুরিয়ান রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৬ রানে থামিয়ে দেন তাসকিন। এবারও উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন মুশফিক। আগের ম্যাচে ১৪৫ রান করেছিলেন গুরবাজ।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আবারও সাফল্য পান শরিফুল। রাউন্ড দ্য উইকেটে বোলিং করে মোহাম্মদ নবিকে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন শরিফুল। বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দিয়ে নবিকে আউট ঘোষনা করেন নন-স্ট্রাইকের আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও উইকেটে টিকতে পারেননি মাত্র ১ রান করা নবি।

শরিফুলের আগুন বোলিংয়ে ৯ ওভার শেষে ১৫ রান তুলতেই ৪ উইকেটে পরিনত হয় আফগানিস্তান। । এটিই সবচেয়ে কম রানে ৪ উইকেট হারানোর লজ্জা আফগানদের। এর আগে ২০১৮ সালে বেলফাষ্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিলো তারা।

চাপে পড়া আফগানিস্তানকে চাপমুক্ত করার চেষ্টা করেন অধিনায়ক হামতউল্লাহ শাহিদি ও নাজিবুল্লাহ জাদরান। সাবধানে খেলতে থাকেন তারা। কিন্তু এই জুটিকে বেশি দূর যেতে দেননি সাকিব আল হাসান। ১৬তম ওভারে নাজিবুল্লাহকে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন সাকিব।

আম্পায়ার আউট দেয়ার পর রিভিউ নিয়েও উইকেট বাঁচাতে পারেননি নাজিবুল্লাহ। ১০ রানে নাজিবুল্লাহ আউট হলে ভেঙ্গে যায় ৪৫ বলে ১৭ রানের জুটি। এরপর আজমতুল্লাহ ওমারজাইকে নিয়ে জুটির চেষ্টা করেন শাহিদি। তবে ২২তম ওভারে তাইজুলের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন শাহিদি। আউট হওয়ার আগে ৪টি চারে ৫৪ বলে ২২ রান করেন তিনি।

প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন শরিফুল। ২৩তম ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে নেন তিনি। নিজের অষ্টম ওভারে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আব্দুল রহমানকে ৪ রানে থামিয়ে চতুর্থ উইকেট নেন শরিফুল। ৬৮ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়ে ১শর নীচে গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে আফগানরা।

তবে লোয়ার-অর্ডার ব্যাটার নিয়ে লড়াই করেন আজতুল্লাহ ওমারজাই। অষ্টম উইকেটে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আরেক ক্রিকেটার জিয়া-উর-রহমানের ৫৩ বলে ২১ রান যোগ করেন ওমারজাই। ৫ রান করা জিয়াউরকে তাইজুল বোল্ড আউট করলে ভেঙ্গে যায় জুটি।
নবম উইকেটে মুজিব উর রহমানকে নিয়ে এই ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৬ রানের জুটি গড়ে আফগানিস্তানের রান ১শ পার করেন ওমারজাই।

এ জুটি গড়তে গিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ওমারজাই। ৪৫তম ওভারে মুজিব ও ওমারজাই জুটি ভাঙ্গেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ১১ রান করে মিরাজের শিকার হন মুজিব।

৪৬তম ওভারে শেষ ব্যাটার হিসেবে ওমারজাইকে থামিয়ে আফগানিস্তানের ইনিংসের ইতি টানেন তাসকিন। ১টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭১ বলে ৫৬ রান করেন ওমারজাই। ৪৫.২ ওভারে ১২৬ রানে শেষ হয় আফগানিস্তানের ইনিংস। সব উইকেট হারানো ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই সর্বনি¤œ রান আফগানদের।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৯ ওভারে ২১ রানে ৪ উইকেট নেন শরিফুল। এছাড়া তাসকিন-তাইজুল ২টি করে এবং মিরাজ-সাকিব ১টি করে উইকেট নেন।



শেয়ার করুন :