হকিতে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া, বাবার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করবেন ইশতিয়াক সাদেক

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ১০:৩৮ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২৬
হকিতে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া, বাবার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করবেন ইশতিয়াক সাদেক

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নতুন করে অ্যাডহক কমিটি দেওয়ার পর থেকেই পাল্টে গেছে মওলানা ভাসানি হকি স্টেডিয়ামের চিত্র। পুরোনো ও ভাঙা-চোড়ায় যেমন চলছে সংস্কার, তেমনি টার্ফে স্টিক হাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খেলোয়াড়রা।

স্টেডিয়ামে চলা জাতীয় দলের অনুশীলন সেশন এবং অনুশীলন ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখেছেন নতুন অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক। বাংলাদেশ হকির কিংবদন্তি আব্দুস সাদেকের সন্তান ইশতিয়াক সাদেকের মতে, খেলোয়াড়েরাই হকি খেলার মূল সম্পদ।

দেশের হকি এগিয়ে নিতে ইশতিয়াক সাদেকের কাঁধে এখন বড় দায়িত্ব। বাবা কিংবদন্তি আব্দুস সাদেক হকিকে যেখানে রেখে গেছেন সেখান থেকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের বরেণ্য এই ক্রীড়াবিদ কিংবদন্তি আব্দুস সাদেক চলতি বছরের গত ২০ জুন না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

ইশতিয়াক সাদেক বলেন, “হকিটা আগে অন্যভাবে উপভোগ করতাম, এখন এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এটি আমার বাবার (আব্দুস সাদেক) একটি অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করার প্রয়াস। যতদিন দায়িত্বে আছি, নিজের সেরাটা দিয়ে হকির জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো।”

তিনি বলেন, “চেষ্টা করছি খেলোয়াড়দের যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায়। খেলোয়াড়রাই আমাদের মূল সম্পদ। তাই ওদের থাকা-খাওয়া, জিম, প্র্যাকটিস সুবিধা যদি আমরা উন্নত করতে পারি... একটু সময় লাগবে, তবে আমরা চেষ্টা করছি। পুরো কমিটিই চেষ্টা করছে।”

হকির নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যে দারুণ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় সুযোগ না পাওয়া রাসেল মাহমুদ জিমিকে দলে ফেরানো, জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডকে নিয়োগ দেওয়া।

ইশতিয়াক সাদেক বলেন, “আপনারা দেখেছেন আমরা একজন বিদেশি কোচ এনেছি, যিনি বাংলাদেশে আগেও কাজ করেছেন। উনার আগের যে পরিকল্পনা ছিল ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে গিয়ে অন্তত ১৫-২০টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার, আমি নিশ্চিত এটি দীর্ঘমেয়াদে আমাদের অনেক উপকারে আসবে।”

হকির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “শুধু খেলে চলে আসা নয়, আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু দেশে লিগ অনিয়মিত, তাই এখানকার অনেক খেলোয়াড়ই জার্মানি বা ইউরোপের লিগে খেলে। ভবিষ্যতে যেন অন্তত ৪০-৫০ জন খেলোয়াড় নিয়মিত ইউরোপে খেলতে পারে, সেটাও আমাদের পরিকল্পনা আছে।”

বাবার কর্মস্থলে দায়িত্ব পাওয়া এবং কাজ করার কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে ইশতিয়াক সাদেক বলেন, “ছোটবেলা থেকেই হকির সঙ্গে আমি। আজকেও এক বন্ধুকে বলছিলাম যে ক্রিকেটের চেয়েও হকি মাঠে আমার আসা-যাওয়া বেশি ছিল। যেমন আজকে হারুন (মাহবুব হারুন) ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম, আগের দিনের খেলোয়াড় জুম্মন লুসাই, কাঞ্চন (জসিম উদ্দিন), লুলু (জামিল পারভেজ)- সবার খেলা দেখেছি।”



শেয়ার করুন :