অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। শুক্রবার থেকে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের একমাত্র টেস্টেও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ধারাবাহিক পারফরমেন্স অব্যাহত রাখতে চায় বাংলাদেশঅ। তবে এশিয়ান গেমস শেষে টেস্ট ফরম্যাটে খুব বেশি প্রস্তুতি নিতে পারা বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ আবুধাবির গরম আবহাওয়া।
চলতি বছরের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়।
টেস্টে অনভিজ্ঞ দল হলেও আফগানিস্তানকে হারানো বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে নিজেদের ‘হোম ভেন্যু’-তে খেলবে আফগানরা। আবুধাবির স্পিন সহায়ক উইকেট থেকে সুবিধা পাবে আফগানিস্তানের স্পিনাররা। কারণ এখানকার উইকেট সাধারণত ধীরগতির ও নিচু বাউন্সের হয়ে থাকে। যা স্পিন সহায়ক হয়ে থাকে।
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে খুবই ভালো করছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। দলের জয়েও বড় ভূমিকা রাখছে তারা। তবে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ বিশ্বমানের। কাগজে-কলমে আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে টাইগাররা।
তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র গরম। যা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। আবুধাবির গরমের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। তারপরও টেস্টের পাঁচদিন আবহাওয়া দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। টেস্ট ম্যাচটি নিয়ে সিমন্স বলেন, “আপাতত এটাই (গরম) একমাত্র বিষয়। যারা জাপান থেকে এসেছে, সেখানে তারা খুব একটা খেলার সুযোগ পায়নি। এরপর এই আবহাওয়ায় এসে মানিয়ে নেওয়া সব মিলিয়ে দুই দিনের ব্যাপার। দেখা যাক তারা কীভাবে মানিয়ে নেয়।”
তিনি বলেন, “দিন শেষে এটি মানসিক বিষয় এবং মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার। আজ তাদের বেশ ভালোই মনে হচ্ছে। প্রথম দিন হিসেবে তীব্র গরমের মধ্যেও তাদের ভালোই মনে হচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে, তারা ঠিকঠাকভাবেই মানিয়ে নিতে পারবে।”
বাংলাদেশ দল
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মোমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম।
ট্রাভেলিং রিজার্ভ : নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন।
আফগানিস্তান দল
রহমত শাহ (অধিনায়ক), ইকরাম আলিখিল, আফসার জাজাই, সেদিকুল্লাহ আতাল, আব্দুল মালিক, হাশমতউল্লাহ শাহিদি, রহমানউল্লাহ জাদরান, শহিদউল্লাহ কামাল, ইসমাত আলম, কাইস আহমাদ, জিয়া উর রাহমান আকবর, খলিল গুরবাজ, মোহাম্মাদ সেলিম সাফি, জিয়া উর রহমান শারিফি ও ইয়ামিন আহমাদজাই।
