বাংলাদেশকে আমি নিজের দেশই মনে করি: জয় মুখার্জি

মো. ফয়সাল আলম মো. ফয়সাল আলম প্রকাশিত: ১০:০৫ পিএম, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশকে আমি নিজের দেশই মনে করি: জয় মুখার্জি

একান্ত সাক্ষাৎকারে জয় মুখার্জি

দশম বারের মতো আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশীপে ম্যাচ রেফরির দায়িত্ব পালন করতে রাজশাহীতে এসেছেন ভারতের জয় মুখার্জি। এর আগে একই দায়িত্ব নিয়ে ৯বার রাজশাহীতে এসেছিলেন ভারতের টেনিস রেফারি জয় মুখার্জি।

শুধু রাজশাহীতে নয়, ঢাকাতেও ম্যাচ রেফরির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ঢাকাতেও এর আগে নবমবারের মতো দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আইটিএফ অনুমোদিত হোয়াইট ব্যাজ রেফরি। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনের প্রশিক্ষণ কোর্সে বাংলাদেশের উঠতি আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণ দেবেন তিনি।

জয় মুখার্জির জন্ম ১৯৭৫ সালে ভারতের পুরাতন কোলকাতার শ্যামবাজারে। সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। সেখানেই বেড়ে ওঠা, সেখানেই লেখাপড়া। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ল’ পাস করেছেন তিনি। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক টেনিস রেফরি।

টেনিসের প্রতি তার দুর্বলতা ছোটবেলা থেকেই। মাত্র আট বছর বয়সে ১৯৮৩ সাল থেকেই তিনি টেনিস খেলা শুরু করেন। ১৯৮৭ সালে ভারতে তিনি প্রথম টুর্নামেন্ট খেলেন। জয় মুখার্জি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। টেনিস খেলতে বাবা-মা কখনও বাধা দেননি বরং উৎসাহই দিয়েছেন বলে জানান অত্যন্ত বিনয়ী ও মিষ্টভাষী জয় মুখার্জি।

বুধবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে স্পোর্টনস মেইলের জেলা প্রতিনিধি মো. ফয়সাল আলমের সাথে একান্তে কথা বলেন জয় মুখার্জি। একান্ত সাক্ষাৎকালে জয় মুখার্জি জানান, বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসেন তিনি।

জয় মুখার্জি বলেন, বালাদেশকে আমি নিজের দেশই মনে করি। রাজশাহীর মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ খুবই অতিথি পরায়ণ। বাংলাদেশে আমার অনেক বন্ধু-বান্ধব আছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত দুই বছর বাংলাদেশে আসা হয়নি। খুব কষ্ট লেগেছে (বাংলাদেশে না আসায়)।

বাংলাদেশে আসতে না পারার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় তার দু'চোখে জল চলে আসে। এছাড়া পারিবারিক কারণে এবারও তার বাংলাদেশে আসা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। তিনি জানান, বাংলাদেশে আসার আগের দিন তার স্ত্রী কোলকাতার ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শিল্পী মুখার্জি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। ফলে তিনি একপ্রকার ধরেই নিয়েছিলেন যে, এবার তার হয়তো বাংলাদেশে আসা হচ্ছে না। তবে শেষ পর্যন্ত আসতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত। একই সঙ্গে তিনি তার স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। জানান, আহত হলেও তাকে বাংলাদেশে আসতে সহায়তা এবং উৎসাহ দিয়েছেন।

জয় মুখার্জির আশা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আবারও আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠুক, এটা তিনি মনেপ্রাণে চান বলেও জানান। এছাড়া এক্ষেত্রে তার যদি কোনো কিছু করণীয় থাকে, তবে তিনি তা করতেও প্রস্তুত আছেন বলে জানান।

বাংলাদেশের টেনিস প্রসঙ্গে জয় মুখার্জি বলেন, মেয়েদের উন্নতি হচ্ছে, ছেলেরাও উঠে আসছে। বাংলাদেশ দলে তিন-চারজন ভালো স্ট্যান্ডার্ডে খেলছে, তারা জিততেও পারছে।

রাজশাহী সম্পর্কে তিনি বলেন, অত্যন্ত সুন্দর ও পরিপাটি একটি শহর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুন্দর একটি নগরী। এখানকার বায়ু অত্যন্ত নির্মল, দূষণ নেই। রাজশাহী আমার কাছে খুব ভালো লাগে। বার বার আসতে ইচ্ছে করে। রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের টেনিস কোর্টও আন্তর্জাতিক মানের। পরিকল্পনা ও নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই।



শেয়ার করুন :