মেহেদীর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জয়ে ফিরলো ঢাকা

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ১০:০৫ এএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯
মেহেদীর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জয়ে ফিরলো ঢাকা

মেহেদী হাসানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে জয়ের ধারায় ফিরলো মাশরাফির ঢাকা প্লাটুন। সোমবার টুর্নামেন্টের ১৭তম ম্যাচে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা। এর আগে নিজেদের মাঠেও কুমিল্লাকে ২০ রানে হারিয়েছিল ঢাকা।

চট্টগ্রামে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬০ রান করে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। জবাবে মেহেদীর ২৯ বলে ৫৯ রানের সুবাদে ১ বল বাকি রেখে জয়ের স্বাদ নেয় ঢাকা প্লাটুন।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করে ঢাকা প্লাটুন। ব্যাট হাতে নেমে ভালো শুরু করতে পারেনি কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। দ্বিতীয় ওভারেই কুমিল্লা উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ঢাকার অফ-স্পিনার মেহেদী হাসান। মাশরাফির করা ইনিংসের প্রথম ওভারে পরপর দু’টি বাউন্ডারি তুলে নেয় সৌম্যকে বোল্ড করেন মেহেদী। ৬ বলে ১০ রান করেন সৌম্য।

নিজের দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য পেয়েছেন মেহেদী। তিন নম্বরে নামা সাব্বির রহমানকে শূন্য হাতে বিদায় দেন তিনি। সাত বল খেলে উইকেটের সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টায় ছিলেন সাব্বির। কিন্তু রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরতে হয় সাব্বিরকে।

কুমিল্লার মিডল-অর্ডারের ভরসা ইংল্যান্ডের ডেভিড মালান গেল চার ম্যাচে করেছেন ১৯১ রান। আজও তার কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশায় ছিল দল। কিন্তু এবার আর সম্ভব হয়নি। সাব্বিরের মত উইকেটে সেট হবার লক্ষ্যে ধীর ছিলেন মালান। ১৬ বল খেলে উইকেটে সেট হলেও ১৭তম বলে পাকিস্তানের স্পিনার শাদাব খানের বলে আউট হন তিনি। করেন ৯ রান।

৯ দশমিক ৩ ওভারে দলীয় ৫৭ রানে তিন ব্য্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়ে কুমিল্লা। এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছিল তারা। দলের প্রয়োজনীয় সময় জ্বলে উঠেন ওপেনার শ্রীলঙ্কার ভানুকা রাজাপাকসে। কুমিল্লার চার ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন রাজাপাকসে।করেছিলেন মাত্র ৮২ রান। ৪১ বলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর মারমুখী হন রাজাপাকসে।

চার-ছক্কায় কুমিল্লার স্কোর বোর্ডকে শক্তপোক্ত করতে থাকেন। তাকে স্ট্রাইক দিয়ে সঙ্গ দিচ্ছিলেন ইয়াসির। তাই ৬৫ বলে ৪টি চার ও ৭টি ছক্কায় অপরাজিত ৯৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন রাজাপাকসে। হাফ-সেঞ্চুরির পর, পরের ২৩ বলে ৪৬ রান তুলে রাজাপাকসে। এছাড়া ২টি চারে ২৭ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন ইয়াসির।

ফলে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬০ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় কুমিল্লা। চট্টগ্রাম পর্ব শেষ করেই জাতীয় দলের জন্য বাংলাদেশ ছাড়বেন রাজাপাকসে। ঢাকার মেহেদী ৪ ওভারে ৯ রানে ২ উইকেট নেন।
sportsmail24
জবাবে ১৬১ রানের লক্ষ্যে প্রথম ওভারের শেষ বলে উইকেট হারায় ঢাকার ওপেনার এনামুল হক। শূন্য রানে ফিরেন তিনি। তার বিদায়ে উইকেটে যান মেহেদী। পিঞ্চ হিটার হিসেবে খেলতে নেমে রানের ফুলঝুড়ি ফুটান তিনি। ফলে পাওয়ার প্লেতে ৬২ রান পায় ঢাকা। এর মধ্যে ১৭ বলে ৪১ রান ছিল মেহেদীর। তামিম ছিলেন সতর্ক। ১৭ বলে ১৪ রান দেন দলকে।

২২ বলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মেহেদী। হাফ-সেঞ্চুরির পর দলীয় ৮৪ রানে আউট হন তিনি। তামিম-মেহেদী দ্বিতীয় উইকেটে ৪৭ বলে ৮৩ রান যোগ করেন। ২টি চার ও ৭টি ছক্কায় ২৯ বলে ৫৯ রান করে আউট হন মেহেদী। নবম ওভারে মেহেদীর আউটের পর দলীয় ৮৮ রানে ফিরেন পাকিস্তানের আসিফ আলি ও জাকের আলি।

দু’জন রানের খাতা খোলার আগে আফগানিস্তানের মুজিব উর রহমানের বলে ফিরেন। এরপর মমিনুল হককে নিয়ে দলকে খেলায় ফেরান তামিম। চতুর্থ উইকেটে ৩৪ রানের জুটি গড়েন তারা। ৪টি চারে ৪০ বলে ৩৪ রান করা তামিমকে শিকার করে কুমিল্লাকে খেলায় ফেরান সৌম্য। তখন জয় থেকে ৩৯ রান দূরে দাঁড়িয়ে ঢাকা। বল ছিল ২৭টি। এ অবস্থায় ক্রিজে গিয়ে মারমুখী হয়ে উঠেন পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি।

১৬ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ঢাকার জয় নিশ্চিত করেন আফ্রিদি। ১টি চারে ২৬ বলে ২৮ রান করেন মোমিনুল। কুমিল্লার মুজিব ২২ রানে ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন ঢাকার মেহেদী।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স : ১৬০/৩, ২০ ওভার (রাজাপাকসে ৯৬*, ইয়াসির ৩০*, মেহেদী ২/৯)
ঢাকা প্লাটুন : ১৬১/৫, ১৯.৫ ওভার (মেহেদী ৫৯, তামিম ৩৪, সৌম্য ২/২২)।

ফল : ঢাকা প্লাটুন ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা : মেহেদী হাসান (ঢাকা প্লাটুন)।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

ব্যাটিংটাই প্রধান, তবে বোলিংয়েও জোর দিচ্ছেন সৌম্য

ব্যাটিংটাই প্রধান, তবে বোলিংয়েও জোর দিচ্ছেন সৌম্য

পেসারদের মধ্যে একটা চ্যালেঞ্জ কাজ করছে : হাসান

পেসারদের মধ্যে একটা চ্যালেঞ্জ কাজ করছে : হাসান

মাথায় তুলবেন না, আমার অনুরোধ : মুশফিক

মাথায় তুলবেন না, আমার অনুরোধ : মুশফিক

মোস্তাফিজ-তাসকিনের জন্য একজনকে এগিয়ে আসতে হবে : রুশো

মোস্তাফিজ-তাসকিনের জন্য একজনকে এগিয়ে আসতে হবে : রুশো