শেষ হাসিটাও হাসলেন মুশফিক

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৩:০৯ এএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২০
শেষ হাসিটাও হাসলেন মুশফিক

ছবি : বিসিবি

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ৩৭তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল খুলনা টাইগার্স ও কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। ম্যাচে টস করতে গিয়ে হাসি দেখা গিয়েছিল খুলনার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের মুখে। কুমিল্লার বিপক্ষে ৩৪ রানের জয় নিয়ে শেষ হাসিটাও হাসলেন তিনি।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) দিনের প্রথম খেলায় টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ওভারে ১৭৯ রানের সংগ্রহ ধার করায় সিলেট থান্ডার। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৮ ওভার ২ বলে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। ফলে ৩৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে খুলনা টাইগার্স।

দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান রাইলো রুশোর মারমুখী ব্যাটিংয়ের পর পেসার রবি ফ্রাইলিঙ্কের বোলিং দৃঢ়তায় এ জয়ে প্লে-অফের আরও কাছে পৌঁছে গেল মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্স। এ জয়ে ১০ খেলায় ৬ জয় ও ৪ হারে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহে থাকলো খুলনার। অন্যদিকে এক ম্যাচ বেশি (১১ ম্যাচ) খেলে ৫ জয়ে কুমিল্লার পয়েন্ট ১০।

ব্যাট করতে নেমে খুলনার দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৯ ওভারে ৭১ রান যোগ করেন। এর মধ্যে ৩৮ রান অবদান রেখে ফিরেন শান্ত। তার ২৯ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ১টি ছক্কা ছিল। খুলনার উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন কুমিল্লার মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকার।

এরপর মিরাজও থামেন ব্যক্তিগত ৩৯ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড ওয়াইজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৩৯ বলে ২টি করে চার-ছক্কা হাঁকান তিনি। ১২ দশমিক ২ ওভারে দলীয় ৯৪ রানে মিরাজ ফিরলে জুটি বাঁধেন রুশো ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

দ্রুতই উইকেটে মানিয়ে নিয়ে ৪৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮৫ রান যোগ করেন রুশো ও মুশফিক। ফলে ১৭৯ রানের সংগ্রহ পায় খুলনা।চলমান আসরে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন রুশো। তার ইনিংসে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা ছিল। অন্যদিকে ২টি চারে ১৭ বলে অপরাজিত ২৪ রান করেন মুশফিক। কুমিল্লার সৌম্য ও ওয়াইজ ১টি করে উইকেট নেন।

১৮০ রানের বড় টার্গেটে শুরুটা ভালো হয়নি কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের। ৩১ রানের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যান জাইল ১২ ও অধিনায়ক ইংল্যান্ডের ডেলিড মালান ১ রান করে ফিরেন। এরপর সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৩৩ বলে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে খেলায় ফেরান ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া সাব্বির রহমান।

রানের জন্য নিজেকে খুঁজতে থাকা সাব্বিরের ব্যাট আজ কথা বলেছে। ৩৩ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। বেশ কয়েকবারই উইকেট ছেড়ে বড় শট খেলেছেন সাব্বির। ২২ রান করা সৌম্যকে শিকার করে জুটি ভাঙেন দক্ষিণ আফ্রিকার রবি ফ্রাইলিঙ্ক।

১১তম ওভারে শেষ বলেও উইকেট শিকার করে কুমিল্লার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন ফ্রাইলিঙ্ক। এ চাপকে দূর করতে উইকেটে গিয়েই মারমুখী হয়ে উঠেন ইয়াসির আলি। আস্কিং রেট বেড়ে যাওয়ার চাপও ছিল কুমিল্লার। সেটি কমিয়ে আনার চেষ্টায় ছিলেন সাব্বির ও ইয়াসির। তবে ১৫তম ওভারে বড় ধাক্কাই খায় কুমিল্লা।

দারুন খেলতে থাকা সাব্বিরকে দুর্দান্ত ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান রুশো। বোলার ছিলেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির। ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৯ বলে ৬২ রান করেন সাব্বির। সতীর্থকে হারানোর পর খেই হারান ইয়াসিরও। তাই ১৭তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন ইয়াসির। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ বলে ২৭ রান করেন ইয়াসির।

তার বিদায়ের পর ধসে পরে কুমিল্লার লোয়ার-অর্ডার। তাই ১০ বল বাকি থাকতে ১৪৫ রানে অলআউট হয়ে হার মানে কুমিল্লা। বল হাতে খুলনার ফ্রাইলিঙ্ক ৪ ওভারে ১৬ রানে নেন ৫ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা টাইগার্স : ১৭৯/২, ২০ ওভার (রুশো ৭১*, মিরাজ ৩৯, ওয়াইজ ১/৩০)
কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স : ১৪৫/১০, ১৮.২ ওভার (সাব্বির ৬২, ইয়াসির ২৭, ফ্রাইলিঙ্ক ৫/১৬)।

ফল : খুলনা টাইগার্স ৩৪ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা : রবি ফ্রাইলিঙ্ক (খুলনা টাইগার্স)।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

মজার লড়াইয়ে মেতেছে মেহেদী-মোস্তাফিজ

মজার লড়াইয়ে মেতেছে মেহেদী-মোস্তাফিজ

চট্টগ্রামের পর প্লে-অফে রাজশাহী

চট্টগ্রামের পর প্লে-অফে রাজশাহী

খুলনাকে হারিয়ে প্লে-অফে চট্টগ্রাম

খুলনাকে হারিয়ে প্লে-অফে চট্টগ্রাম

গেইল-রাসেলের ম্যাচে ইমরুলের দাপট, চট্টগ্রামের বড় জয়

গেইল-রাসেলের ম্যাচে ইমরুলের দাপট, চট্টগ্রামের বড় জয়