শান্তর সেঞ্চুরি, রানের পাহাড় গড়েও খুলনার কাছে ঢাকার আত্মসমর্পণ

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৮:৩০ এএম, ১১ জানুয়ারি ২০২০
শান্তর সেঞ্চুরি, রানের পাহাড় গড়েও খুলনার কাছে ঢাকার আত্মসমর্পণ

ছবি : বিসিবি

বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য সেঞ্চুরিতে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে নাম লেখালো খুলনা টাইগার্স। লিগ পর্বের ৪২তম ও শেষ ম্যাচে শান্তর ৫৭ বলে অপরাজিত ১১৫ রানের কল্যাণে ঢাকা প্লাটুনকে ৮ উইকেটে হারায় খুলনা।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ওপেনিং স্লটে পরিবর্তন আনে ঢাকা প্লাটুন। নিয়মিত ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের পরিবর্তে তামিম ইকবালের সাথে ইনিংসের শুরুতেই নামেন মুমিনুল।

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে ধাক্কা খায় ঢাকা। দক্ষিণ আফ্রিকার রবি ফ্রাইলিঙ্ককে উইকেট ছেড়ে খেলতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন ১ রান করা তামিম। তার ক্যাচটি লুফে নেন আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান রাইলি রুশো। এরপর উইকেটে আসেন অফ-ফর্মে থাকা উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান এনামুল। তিনিও ১০ রানের বেশি করতে পারেননি।

ফ্রাইলিঙ্ককের দ্বিতীয় শিকার হন এনামুল। এনামুলের মত ব্যর্থ হয়েছেন চার নম্বরে নামা জাকের আলিও। তবে মারমুখী মেজাজেই নিজের ইনিংস শুরু করেছিলেন তিনি। ১টি করে চার-ছক্কায় ৭ বলে ১৪ রান করেন জাকের।

৫ দশমিক ৪ ওভারে দলীয় ৩৫ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন জাকের। তার আউটের পর মুমিনুলের সাথে জুটি বাধেন মেহেদী হাসান। টানা দু’টি হাফ সেঞ্চুরির কল্যাণে এবারের আসরে পিঞ্চ হিটার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এ ব্যাটসম্যান আজ ব্যাট হাতে নামেন নামে পাঁচ নম্বরে।

শুরুর ধাক্কাটা সামলাতে গিয়ে ধীরলয়ে খেলতে থাকেন মুমিনুল ও মেহেদি। তবে রানের চাকাটা সচল রেখেছিলেন তারা। ৯ ওভার শেষে ৫৭ রান স্কোরবোর্ডে তুলেন মুমিনুল-মেহেদি। ১৪ ওভার শেষে ছিল ১২৯ রান। ১৫তম ওভারে প্রথম তিন বলে দু’টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪১তম বলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নবম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুমিনুল।

খুলনার পেসার শফিউল ইসলামের ওই ওভার থেকে ২১ রান পায় ঢাকা। হাফ-সেঞ্চুরির পর বিধ্বংসী রূপ নেন মুমিনুল। চার-ছক্কায় ফুলঝুড়ি ফুটান তিনি। ১৬তম ওভারেও ১টি করে চার-ছক্কায় দলকে ১৫ রান এনে দেন মুমিনুল। বোলার ছিলেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির। ১৭তম ওভারেও ১টি করে চার-ছক্কা ছিল মুমিনুলের। এবার বোলার পেসার শহিদুল ইসলাম।

শফিউলের করা ১৮তম ওভারটি ছক্কা দিয়ে শুরু করেন মেহেদী। চতুর্থ বলে ছক্কা মারেন মুমিনুলও। এ ওভার থেকে আসে ১৯ রান। এতে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগে মুমিনুলের। অন্যদিকে হাফ-সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ছিলেন মেহেদী।

১৯তম ওভারের বাউন্ডারি দিয়ে ৩১তম বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মেহেদী। বাউন্ডারি দিয়ে হাফ-সেঞ্চুরির পরের বলেই আমিরকে ছক্কা মারেন মেহেদী। ওভারের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও শেষটা ভালো হয়নি ঢাকার। কারণ ওভারের শেষ ডেলিভারিতে নাভার্স-নাইন্টিতে আউট হন মুমিনুল। আমিরের বলে ফ্রাইলিঙ্ককে ক্যাচ দিয়ে নামের পাশে ৯১ রান রেখে আউট হন তিনি।

৫৯ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা ছিল তার। মেহেদীর সাথে ৮০ বলে ১৫৩ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল। মুমিনুলের বিদায়ের ওভারে ১৪ রান পায় ঢাকা। শেষ ওভারে মেহেদীর একটি করে চার-ছক্কার সাথে শ্রীলঙ্কার থিসারা পেরেরার ১টি বাউন্ডারিতে ১৭ রান পায় ঢাকা। এতে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৫ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ঢাকা। শেষ ১১ ওভারে ১৪৮ রান পায় ঢাকা। খুলনার ফ্রাইলিঙ্ক ৩৫ রানে ২ উইকেট নেন।

২০৬ রানের বড় টার্গেটে খেলতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন খুলনার দুই ওপেনার শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ৪১ বলে ৭০ রান যোগ করেন তারা। এর মধ্যে ২৫ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ঢাকার মেহেদীর বলে বোল্ড হন মিরাজ।

মিরাজের মারমুখী ব্যাটিংয়ে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন শান্ত। পাওয়ার প্লেতে তার রান ছিল ১৩ বলে ১৫ রান। মিরাজের বিদায়ের পর উইকেটে চারপাশে চার-ছক্কার পসরা বসান শান্ত। ঢাকার বোলারদের তুলোধুনো করে ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শান্ত।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার রাইলি রুশোকে নিয়ে ৩৯ বলে ৮১ রান যোগ করেন শান্ত। ১৭ বলে ২৩ রান করে রুশো ফিরলেও এবারের আসরে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। ৫১ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি।

সেঞ্চুরির ইনিংসে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন শান্ত। এবারের আসরের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করে ১১ বল বাকি রেখেই খুলনার জয় নিশ্চিত করেন শান্ত। ৫৭ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

৮টি চার ও ৭টি ছক্কা মারেন তিনি। তার সাথে ১০ বলে ৩টি চারে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক। ম্যাচ সেরা হয়েছেন শান্ত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা প্লাটুন : ২০৫/৪, ২০ ওভার (মুমিনুল ৯১, মেহেদী ৬৮*, ফ্রাইলিঙ্ককে ২/৩৫)
খুলনা টাইগার্স : ২০৭/২, ১৮.১ ওভার (শান্ত ১১৫*, মিরাজ ৪৫, শাদাব ১/৩২)।

ফল : খুলনা টাইগার্স ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা : নাজমুল হোসেন শান্ত (খুলনা টাইগার্স)।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শান্তর সেঞ্চুরি

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শান্তর সেঞ্চুরি

আবারও সেঞ্চুরি বঞ্চিত মুশফিক

আবারও সেঞ্চুরি বঞ্চিত মুশফিক

কুমিল্লার বিদায়, চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফে খুলনা

কুমিল্লার বিদায়, চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফে খুলনা

পাকিস্তান সফরে ‌‘যেতেন’ মাশরাফি

পাকিস্তান সফরে ‌‘যেতেন’ মাশরাফি