মাঠের মানুষ যেহেতু মাঠে যেন ফিরতে পারি : মুশফিক

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৬:২৯ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২০

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণ দীর্ঘ চার মাস পর মাঠে ফিরেছিলেন টাইগার ক্রিকেটাররা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় সপ্তাহব্যাপী অনুশলীন শেষ করেছেন তারা। ঢাকার মিরপুরসহ সারাদেশের চারটি ভেন্যুতে এ অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯ জুলাই (রোববার) শুরু হওয়া এ অনুশীলনে মাঝখানে শুক্রবার বন্ধ ছিল। শিডিউল অনুযায়ী সপ্তাহব্যাপী এ অনুশীলনের শেষ দিন ছিল রোববার (২৬ জুলাই)। অন্যান্য দিনের মতো শেষ দিনেও মিরপুরে অনুশীলন করেছেন মুশফিকুর রহিম। সকাল বেলায় উপস্থিত হয়ে রানিং-ব্যাটিং এবং কিপিং অনুশীলন করেছেন তিনি।

নিজের ব্যক্তিগত অনুশীলন শেষে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বিসিবির কাছে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে করোনা পরিস্থিতি নিজের ফিটনেস, ক্রিকেট নিয়ে নানা ভাবনা, সপ্তাহব্যাপী অনুশীলনসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

বিসিবির দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে মুশফিক বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমে দেখেন এটা (করোনা পরিস্থিতি) আমাদের হাতে নেই। যেটা আমাদের হাতে নেই সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করাটা আমি মনে করি বোকামি’ই হবে। কারণ, এটা সবার জন্যই একটি ডিফিকাল্ট পিরিয়ড ছিল, লাস্ট ফোর মাস বিশেষ করে।’

‘আমরাও চেষ্টা করেছি বাসা থেকে যতটুকু ফিটনেসে নিয়ে কাজ করা যায়। আমার লাইফে এটা ফাস্ট দেখা যে, চার মাস একেবারে লকডাইন। বিসিবিকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে এ অপরচুনিটি (অনুশীলনের ব্যবস্থা) করে দেওয়ার জন্য। তাদের সুন্দর প্লান ওয়েতে; আমরা সাত-আট দিন যতটুকু অনুশীলন করেছি এটা খুবই ভালো ছিল।’

sportsmail24তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, ওয়ার্ল্ডে যেভাবে খেলা শুরু হচ্ছে, ইনশা-আল্লাহ আমরা যেন ঈদের পর একসাথে অ্যাজ এ টিম হিসেবে অনুশীলন করতে পারি। যদিও বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট আলাদা। আমি যে সাত-আট দিন অনুশীলন করেছি এটা খুবি ভালো হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।’

‘চার মাস ইনডোরে কাজ করা আর বাইরে কাজ করা টুটাল ডিফারেন্ট। আমি চাচ্ছিলাম যেন, রোদে এসে এবং আউট ফিল্টে যেন রানিংটা করা যায় এবং তার সাথে সাথে স্কিল ওয়ার্কটাও। তো, এটা হয়েছে; এটার জন্য থ্যাঙ্কস টু বিসিবি।’

করোনা পরবর্তী অনুশীলনের প্রথম দিকে কনফিউস ছিলেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে আমিও একটু কনফিউস ছিলাম, একটু ভয় লাগছিল; কিভাবে কী হবে বা আদো হবে কি-না। যেহেতু মিরপুরের আশেপাশে মেক্সিমাম জায়গায় রেড জোন।’

‘এখানে (মিরপুর স্টেডিয়ামে) এসে যেটা দেখলাম এবং আস্তে আস্তে কনফিডেন্সটা বিল্ডাব হয়েছে। এখানে সবকিছু এতো সুন্দর এবং নিট অ্যান্ড ক্লিন। তো আমি মনে করি, আমি ছাড়া আরও যারা করেছেন (অনুশীলন) তারাও আমার সাথে একমত হবেন যে, ভালো একটা পরিবেশ পেয়েছি এবং ভালো একটা সুযোগ ছিল। আমি মনে করি, সবাই যদি কনফিডেন্ট থাকে ডেফেনেটলি আমরা হয়তোবা একবারে ১৪-১৫ বা ২০ জন না হলেও হয়তোবা দুইজন-পাঁচজন-সাতজন বা এভাবে আমরা শুরু (অনুশীলন) করতে পারি।’

অন্যরা খেলতে পারলেও নিজেরা খেলতে না পারায় কষ্ট পান মুশফিক। বলেন, ‘খেলা দেখলে আসলেই আফসোস লাগে। বাসায় সারাদিন বসে ফ্যামিলির সাথে সময় দেওয়া এবং খেলাটাই দেখা হয়। একটু হলেও খারাপ লাগে যে, অনেকগুলো হয়তো, পঞ্চাস বা একশ; অনেক কিছুই মিস হয়ে যাচ্ছে। বাট চেষ্টা করছি টিভিতে খেলা দেখেই যে নিজেকে মেনটালি কিভাবে প্রস্তুত করা যায়। আর সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে সামনে আমাদের কী কী খেলা হতে পারে; সেগুলো নিয়ে একটু মেনটালি প্রস্তত থাকা। কিভাবে নতুন নিয়ম.. সবকিছু আসলে ওখান থেকে (টিভিতে খেলা) দেখেই শেখার চেষ্টা করছি।’
sportsmail24

মুশফিক বলেন, ‘আশা করছি, আমাদের যখন ইন্টারনেশনাল ক্রিকেট শুরু হবে তখন সেই আগের ফরমেই যেন ফিরে যেতে পারি। সবকিছু আসলে এডাপ্টাবিলিটির বেপার, আমার মনে হয় যে, যেহেতু আমরা কেউ’ই চাই না বাসায় বসে থাকতে, লাস্ট চার মাস আমাদের বাসাতেই বসে থাকতে হয়েছে। যে রুলস-রেগুলেসনগুলো হবে যেগুলো অবশ্যই ভালোর জন্য এবং এটা অবশ্যই আমাদেরতে মানিয়ে নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর্লি স্ট্যাজে এটা আমাদের জন্য একটু ডিফিকাল্ট হবে, বাট আমি মনে করি প্রেক্টিসে এটা আমরা যদি আস্তে আস্তে নিজেরা আয়ত্বে নিতে পারি তাহলে ম্যাচে ইনশা-আল্লাহ সমস্যা হবে না।’

করোনা আক্রান্ত টাইগার ক্রিকেটারদের নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘আসলে খারাপ লেগেছে, নিজেদের বড় ভাই। তারাও অনেক ভালো কাজ করতে গিয়েছিলেন, তারাও অনেক হেল্প করেছেন। মানুষের অনেক সান্নিধ্যে গিয়েছেন হয়তো এ জন্যই হয়েছিল (করোনাভাইরাস)। বাট আলহামদুলিল্লাহ, তারা রিকভার করেছেন। এবং আমি করি শুধু তারা না, অনেকে আছেন যারা আমাদের ক্লোজ আবার অনেকে ক্লোজ না, যারাই আক্রান্ত হয়েছেন তাদের জন্য আসলেই খারাপ লেগেছে। যারা রিকভার করেছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর যারা ইন্তেকাল করেছে তাদের মাগফেরাত কামনা করছি।’

টাইগারদের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটার নিজের কিভাবে ফিজিক্যাল ফিটনেসটা ধরে রাখতে পারি, আমাদের স্কিল পার্টটা কিভাবে ধরে রাখতে পারি, মেনলি আমরা যেন রিফ্রেশ থাকতে পারি এবং মেনটালি যেন স্ট্রোং থাকি -এ কাগুলো করছি। আমরা কোচদের সাথে বসছি এবং অনলাইনে আমরা অনেক ডিসকাস করছি। সবমিলিয়ে মনে করি যে, এই পিরিয়ডটা খুব একটা খারাপ যায় নাই। ফ্যামিলির সাথে খুব ভালো একটা সময় গেছে। এখন মুখিয়ে আছি, কিভাবে ইনশা-আল্লাহ আবার, মাঠে মানুষ যেহেতু মাঠে যেন ফিরতে পারি এবং ম্যাচ খেলতে পারি, ইনশা-আল্লাহ।’

[sportsmail24.com এর ওয়েবসাইট এখন sportsmail.com.bd ঠিকানাতেও ব্রাউজ করে পড়তে পারবেন। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে স্পোর্টসমেইল২৪.কমের অ্যাপস থেকেও খেলাধুলার সকল নিউজ পড়তে পারবেন। ইনস্ট্রল করুন স্পোর্টসমেইল২৪.কমের অ্যাপস ]


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

মুক্ত হওয়ার আগেই মাঠে ফিরছেন সাকিব

মুক্ত হওয়ার আগেই মাঠে ফিরছেন সাকিব

মিরাজের আশা, খুব তাড়াতাড়িই শুরু হবে খেলা

মিরাজের আশা, খুব তাড়াতাড়িই শুরু হবে খেলা

শিক্ষা নিয়েছেন, এবার শেখাবেন সাকিব

শিক্ষা নিয়েছেন, এবার শেখাবেন সাকিব

নতুন নিয়মের সবকিছুই পেসারদের বিপক্ষে : তাসকিন

নতুন নিয়মের সবকিছুই পেসারদের বিপক্ষে : তাসকিন