আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ৩২৯ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে পেসার হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকে ২৪০ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। এতে প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ১০৬ রানের লিডকে সাথে নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে দিন শেষে ৬ উইকেটে ২২৩ রান করেছে বাংলাদেশ।
আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ইনিংসে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান করেছিল আফগানিস্তান। তৃতীয় দিন হাসান-এবাদত হোসেনের তোপে ২৪০ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। ২৯ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারায় আফগানরা। এরমধ্যে হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট নেন হাসান।
ইনিংসের ৮৩ ও নিজের ১৮তম ওভারের তৃতীয় থেকে পঞ্চম বলে যথাক্রমে- আফগানিস্তানের ইসমাত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়া উর রহমানকে শিকার করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান। টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার ও প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে দুই স্পিনার অলক কাপালি (২০০৩) ও সোহাগ গাজী (২০১৩) হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
হাসানের তোপের মাঝেও এক প্রান্ত আগলে আফগানিস্তানের হয়ে চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন আগের দিন ৮৪ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক রহমত শাহ। সতীর্থরা বিদায় নিলেও শেষ পর্যন্ত ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ২১৬ বলে ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন রহমত।
এছাড়া আব্দুল মালিক ৬২, ইকরাম আলিখিল ৩২ ও শহিদুল্লাহ ২০ রান করেন।
বল হাতে ২১ ওভারে ৫৫ রানে ৫ উইকেট নেন হাসান। ১৭ ম্যাচ ও ২৯ ইনিংসের টেস্ট ক্যারিয়ারে এই নিয়ে চতুর্থবার ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিলেন তিনি। এর আগে পাকিস্তান-ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান।
হাসানের পর বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা পারফরমার এবাদত। ৫৬ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ নেন বাকী ১ উইকেট।
আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে গুটিয়ে প্রথম ইনিংস থেকে ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ৩১ রানের সূচনা পায় টাইগাররা। ১৩ রান করে প্রথম ব্যাটার হিসেবে আউট হন সাদমান। আফগানিস্তান পেসার মোহাম্মদ সালিমের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে রহমত শাহকে ক্যাচ দেন প্রথম ইনিংসে ৬৭ রান করা সাদমান।
সাদমানের বিদায়ে ক্রিজে আসেন মোমিনুল হক। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ৭ রান করে আফগানিস্তান পেসার ইয়ামিন আহমাদজাইর শিকার হন মমিনুল। প্রথম ইনিংসের মত এবারও মারমুখী মেজাজে শুরু করেছিলেন তানজিদ। তবে উইকেটে সেট হয়ে ৬টি চারে ৩১ রানে ইয়ামিনের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি।
৫৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় আফগানিস্তান বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। দ্রুত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে বাংলাদেশকে চাপমুক্ত করেন তারা। ৩০৩ বলে ১৫৯ রানের জুটিতে বাংলাদেশের লিড ৩শ পার করেন শান্ত ও মুশফিক। এসময় মুশি ৩০তম ও শান্ত অষ্টম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন।
হাফ-সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন শান্ত ও মুশফিক। কিন্তু দু’জনই আশির ঘরে থেমে যান। দলীয় ২১২ রানে আফগানিস্তানের স্পিনার জিয়া উর রহমানের বলে সুইপ শট খেলে স্লিপে শহিদুল্লাহকে ক্যাচ দেন মুশফিক। ৯টি চারে ৮১ রান করেন প্রথম ইনিংসের খালি হাতে ফেরা এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। মুশফিক ফেরার কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন শান্তও। ৫টি চারে ৮২ রান করে আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার কাইস আহমাদের বলে বোল্ড হন তিনি।
১০ রানের ব্যবধানে মুশফিক-শান্ত ফেরার পর নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে আসেন হাসান। ১ রান করে আউট তিনি। এরপর দিনের শেষ বল খেলে তৃতীয় দিনের ইতি টানেন মিরাজ। লিটন ৫ ও মিরাজ শূন্য হাতে অপরাজিত আছেন।
আফগানিস্তানের জিয়া উর রহমান ও ইয়ামিন ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন।
