ফতুল্লা টেস্ট : নাফীসের মহাকাব্য, বাংলাদেশের আক্ষেপ

মমিনুল ইসলাম মমিনুল ইসলাম প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ০৫ জুন ২০২০
ফতুল্লা টেস্ট : নাফীসের মহাকাব্য, বাংলাদেশের আক্ষেপ

ক্রিকেট যদি হয় কোন উপন্যাস কিংবা কাব্যগ্রন্থ তাহলে নিঃসন্দেহে টেস্ট ক্রিকেট সেখানে মূল চরিত্র। যাকে ছাড়া সেই গল্প অপূর্ণ, অতৃপ্ত। টেস্ট ক্রিকেটের প্রেমে পড়তে না পারলে ক্রিকেটের রোমান্টিসিজম বুঝতে পারবেন না। যেখানে পরতে পরতে নিহিত রয়েছে হাজারও গল্প।

যে গল্পগুলো কারও জন্য আনন্দের আবার কারও জন্য হতাশার, বেদনার কিংবা রাতের আধাঁরের দুঃসহ স্বপ্নের স্মৃতির মতো। সাদা পোষাকের লড়াই মানেই যেন জিততে জিততে হেরে যাওয়া, আবার ধ্বংসস্তুপের মাঝেখানে দাঁড়িয়ে দলকে এভারেস্টের চূড়ায় তোলা। তবে এমনটা প্রতিনিয়তই ঘটে এমন না। বেশিভাগ টেস্ট খেলাগুলো ড্র কিংবা চতুর্থ, পঞ্চম দিনে গিয়ে কোন উত্তেজনা ছাড়াই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়।

তবে কিছু টেস্ট পঞ্চম দিনে গিয়ে জিততে জিততে হারিয়ে দিয়ে যায়। আর তার আক্ষেপ রয়ে যায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। দেখতে দেখতে প্রায় ২০ বছর হয়ে গেল বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেকের। এই ২০ বছরের পথচলায় ১১৯টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তাতে যতটা না সুখস্মৃতি রয়েছে তার চেয়ে বেশি রয়েছে দুঃখের স্মৃতি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মুলতান টেস্টে বাংলাদেশের সেই অযাচিত হার এখনও বাঙালির হৃদয়ে পীড়া দেয়। চোখ মেলে তাকালে খালেদ মাহমুদ সুজনের সেই কান্নায় ছবি এখনও কষ্টের দেয়ালিকায় জ্বলজ্বল করে ভেসে ওঠে।

মুলতান টেস্ট হার যদি হয় বাংলার টেস্ট ক্রিকেট সাহিত্যের একটি বেদনায়ক উপন্যাস, তাহলে ফতুল্লা টেস্ট সেই সাহিত্যের বৃহৎ একটা আক্ষেপকাব্য। একটু এদিক-সেদিক হলেই হয়তো ২০১৭ সালের আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লেখা হতো আরও একটি মহাকাব্য। যা যুগ থেকে যুগান্তরে আমাদের প্রতিনিয়ত তৃপ্ততা দিত।

২০০৬ সাল, ফতুল্লায় তখন অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ক্রিকেটের মহারাজা আর বাংলাদেশ কেবলই একটা ‘পুচকে শিশু’। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের পর ফতুল্লায় ম্যাচ গড়ানোর আগে বাংলাদেশ মোটে খেলেছে ৪২ টেস্ট। যেখানে সাফল্য কেবল জিম্বাবুয়ের সাথে এক জয় আর চার ড্র।

অস্ট্রেলিয়া সে সময় অন্যতম টেস্ট পরাক্রমশালী দেশ। ঘরের মাঠে গ্রায়েম স্মিথ, জ্যাক ক্যালিসদের নিয়ে গড়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে নাকানিচুবানি দিয়ে এসেছে বাংলার খণ্ডে। তখনও পন্টিং, গিলক্রিস্ট কিংবা ম্যাকগিলরা কি জানতো বাংলাদেশের কাছে এসে এমন অবস্থায় পড়তে হবে।

বাংলাদেশের ভাবনায় কেবল টেনেটুনে টেস্টটা পঞ্চম দিনে গড়ানো। আর সেখানে যখন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, তখন প্রত্যাশাটা যেন আরও কম। কেবল অস্ট্রেলিয়াকে দুই টেস্ট খেলিয়ে দেশ ছাড়াতে পারলেই বাঁচে। তবে সে দিন বাশার, নাফীস, রফিকরা অস্ট্রেলিয়ার সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তবুও শেষ রক্ষা হয়নি।

ফতুল্লা টেস্ট, ২০০৬
সে সময়কার অস্ট্রেলিয়া যেন তারকা ঠাসায় দল। কী নেই দলে? গিলক্রিস্ট, পন্টিংদের নিয়ে বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপ, ব্রেট লি, স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল, গিলেস্পিদের নিয়ে পেস বিভাগ আর স্পিনে বিশ্বসেরা লেগস্পিনার শেন ওয়ার্ন। আর সেখানে বাংলাদেশ দলে নাফিস, আশরাফুল আর মাশরাফিদের মতো বেশ কিছু তরুণের সম্মেলন, সাথে কেবল অভিজ্ঞ জাভেদ ওমর, বাশাররা। সব ভাবনাকে পিছনে লুকিয়ে রিকি পন্টিংয়ের সাথে টস করতে নামলেন হাবিবুল বাশার সুমন।

তখনও ফতুল্লার আকাশের পূর্ব গোলার্ধের সূর্য্যটা এতটা উজ্জ্বল নয়। তবে টস ভাগ্যে যেন একটু আলো ছড়ালো। টস জিতে শুরুতেই ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক বাশার। বাশারের এমন সিদ্ধান্ত যেন মানুষের কাছে এক রকম আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মতো। বলতে পারেন যুদ্ধে নামের আগে পরাজয়ের মাথা নত করা।

এসব কিছু ছাপিয়ে ম্যাকগিল, গিলেস্পি, ব্রেট লিদের সামলাতে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে পড়লেন অভিজ্ঞ জাভেদ ওমর বেলিম আর মাত্র ৪ টেস্ট খেলা ২১ বছরের লিকলিকে একজন তরুণ, নাম তার শাহরিয়ার নাফিস আবীর। ম্যাকগিল, ওয়ার্নরা কি একবারের জন্যও ভেবেছিল যে ২১ বছরের এই তরুণের সাথে সারাদিন নাকানিচুবানি খেতে হবে? বল হাতে দৌড় শুরু করলেন ব্রেট লি আর ওদিকে ব্যাট হাতে জাভেদ ওমর। প্রভাত নাকি দিনের সঠিক পূর্বাভাস দেয়। শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাটিং যেন তেমনই আভাস দিচ্ছিল। দিনের প্রথম চারটা আসে নাফীসের ব্যাট থেকে।

সময়ের পালাক্রমে জাভেদ ওমরও যেন রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। দিনের তখন কেবল পঞ্চম ওভার, তখনই ওভাররে শেষ বলে ও তার পরের ওভারের চতুর্থ বলে দুর্দান্ত টাইমিংয়ের সাথে চার মেরে যেন অস্ট্রেলিয়া বধের চিত্র তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তখন কেবলই ৯.৪ ওভার আর তাতেই স্কোরবোর্ডে ৫০ রান। তবে ৫০ পেরোনোর পরেই ঘটে বিপত্তি। ৪০ বলে ২৭ রান করা জাভেদ ওমরকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সাফল্য এনে দেন গিলেস্পি।

পরোক্ষণেই মনে হচ্ছিল আবার হয়তো উইকেট পড়া শুরু হলো! তবে মানুষের এমন ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফীস ও হাবিবুল বাশারের ১৮৭ রানের অনবদ্য জুটি। ‘প্রশ্নবোধক চিহ্ন’ রাখা এক শটে বিদায় নিলেন মুগ্ধতা ছড়ানো ইনিংস খেলা বাশার আর এদিকে শেন ওয়ার্নকে চার মেরে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম শতক তুলে নিলেন শাহরিয়ার নাফীস।

প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৫৫ রান তুলে বাংলাদেশ। যেখানে জ্বলজ্বল করে ভাসছে নাফীসের ১৩৮ ও হাবিবুল বাশারের ৭৬ রানের অনবদ্য ইনিংস। আর এদিকে ব্যাট হাতে ৩৫ রানে অপরাজিত রাজিন সালেহ ও ২ রানে খালেদ মাহমুদ সুজন। প্রথম দিনটা যেন স্বপ্নের মতো কাটালো বাংলাদেশ।

নাফীসের মহাকাব্য
অস্ট্রেলিয়ার মতো টেস্ট খেলুড়ে দেশের সাথে টসে জিতে ব্যাট করতে চাওয়া যেন দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। মানুষের এমন ভাবনাকে সকালের সূর্য পূর্বাকাশে চোখ মেলানোর পর থেকে ভুল প্রমাণ করার প্রচেষ্টায় ছুটছিলেন সদ্যই কৈশোর পেরোনো লিকলিকে গড়নের একটা ছেলে। তাও কী ম্যাকগিল, গিলেস্পি, ওয়ার্নদের সামনে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের প্রথম রানটা আসে তার ব্যাট থেকেই৷ পরের ওভারে দুর্দান্ত কভার ড্রাইভে যেন নিজের আত্মপরিচয় খোলস করার ইঙ্গিত দেন তিনি।

এরপর আস্তে আস্তে কলিজাটা যেন ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে উঠছিল শাহরিয়ার নাফীসের। দিনের মধ্য বিরতিতে যাওয়ার আগেই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেন নাফীস। বিরতি থেকে ফিরে যেন নাফীস আরও ধারালো। শেন ওয়ার্ন ততদিনে ঝুঁলিতে ভড়েছেন ৬৭৪ উইকেট।

কিন্তু সদ্যই কৈশোর পেরোনো ছেলেটিকে দেখে একবারও মনে হয়নি শেন ওয়ার্নকে খেলতে তার কষ্ট হচ্ছে। গিলেস্পি, ম্যাকগিল, ব্রেটলিদের পিটিয়ে ৯৫ রানে অপরাজিত নাফীস। নাফীসের সামনে তখন শেন ওয়ার্ন, দুর্দান্ত এক সুইপ করে চার মেরে ৯৯ রানে পৌঁছে গেলেন তিনি। আর পর আবারও লেগ সাইড দিয়ে দৌড় শুরু করলেন নাফীস। ফিল্ডার চেষ্টা করেও তা বিফলে গেছে, বাঁচাতে পারেনি চার হওয়া থেকে। আর তাতেই শেন ওয়ার্নকে চার মেরে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তো বটেই সেই সাথে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন নাফীস।

http://www.sportsmail24.com/media/content/images/2018June/nafees-2-20200605155348.jpg
Image Credit: Hamish Blair/Getty Images

শেষ পর্যন্ত ১৯ চারে ১৩৮ রানে থামে তার এই অনবদ্য ইনিসং। ১৯ চারের মাঝে ১০টি চারই মেরেছিলেন ওয়ার্নকে। ওয়ার্ন কি কখনও ভেবেছিলেন এই কৈশোর পেরোনো ছেলেটা ফতুল্লায় তার দুঃস্বপ্ন হয়ে আসবে। তার দুঃস্বপ্নে যদি শচীন বারবার উঁকি দেয় তাহলে বাংলাদেশের সাথে টেস্ট কল্পনা করলে কোন এক রাতে নাফীসকে নিয়ে দুঃস্বপ্নের কথা মনে পড়বে ওয়ার্নের।

স্বপ্নের মতো প্রথম দিন শেষ করার পর দ্বিতীয় দিনে সেই স্বপ্নের পথটা প্রশস্ত করার দায়িত্বে রাজিন সালেহ। দিনের শুরুতে ৪৩ রান যোগ করতেই হারাতে হয় খালেদ মাসুদ পাইলটকে। আর তাতেই যেন বড় পথটায় একটি কাঁটার ঝাঁড় এসে পড়লো। পাইলটের বিদায়ের পর ২৫ বলে ৬ রান করা মোহাম্মদ রফিককে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান ম্যাকগিল।

এরপর স্বপ্নের সিড়িটা আর বড় করা হলো না রাজিনের। শেষ ৪ ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে এসেছে কেবল ১৫ রান। আর তাতে ৪২৭ রানে গিয়ে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। এর মাঝে ২৮৪ মিনিট ক্রিজে থেকে ২০৩ বলে ৬৭ রান করে ম্যাকগিলের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। তার এই ৬৭ রানে হয়তো কোন জৌলুস ছিল না তবে ছিল নিখাঁদ ব্যাটিংয়ের সব উপকরণ। এক ম্যাকগিলের কাছেই বাংলাদেশ খুইয়েছে ৮ উইকেট। যা কি-না ম্যাচ সেরা তো বটেই সাথে ক্যারিয়ার সেরাও।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে নাকানিচুবানি দিয়ে এসে অস্ট্রেলিয়া যতটা স্বস্তিতে ছিল তার উল্টোটা ঘটেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং শেষে। এমন আত্মমর্যাদার ফরম্যাটে বাংলাদেশের অবস্থানটা তখন প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশ্নবোধক চিহৃটা তুলে দিতে যা করার প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের তার কোনটিই যেন কমতি রাখেন নাফীস, বাশার আর রাজিন সালেহরা। যা একটু হলেও অজিদের কাবু করেছিল।

পরাক্রমশালী অজিদের বিপক্ষে এমন হেসে খেলে রান করায় কিছুটা হলেও কাবু করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার হতাশার গল্পটা যেন ফুটে উঠেছিল ব্যাট করতে এসে। শুরুর তৃতীয় ওভারেই ম্যাথু হেইডেনকে ফিরে দিয়ে নতুন গল্প রচনার সূচনা করেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজা।

http://www.sportsmail24.com/media/content/images/2018June/rafiq-20200605160033.jpg
Image Credit: Hamish Blair/Getty Images

এরপর একে একে মাশরাফি, শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ রফিক আর এনামুল হক জুনিয়রের বোলিং তান্ডবে একশো' পেরোনোর আগেই সাজঘরে অজিদের ৬ ব্যাটসম্যান। এ যেন বাংলার ধ্বংসস্তুপের নিচে ক্রমান্বয়ে নিমজ্জিত হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া যখন ফলোআনে পড়ার শঙ্কায় ঠিক তখনই ধ্বংসস্তুপে রুদ্রমূর্তি হয়ে দাঁড়ান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।

ধারাভাষ্যকার বক্স থেকে আতাহার আলীর কণ্ঠে শোনা যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসের গল্প। মাইক্রোফোন হাতে আতাহার আলী খান বলেছিলেন, এটা খুব কঠিন সময় কিন্তু আমার মনে কোন সন্দেহ নাই যে তারা এমন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখে। তারপর থেকেই যেন শুরু হলো গিলক্রিস্টের ব্যাটে অজিদের ফলোআন এড়ানোর গল্প। কী জানি হয়তো কোন অজানা ভ্রমে গিলক্রিস্টের মস্তিষ্কে আবহ তৈরি করেছিল।

ব্রেট লির সাথে ১৮.৩ ওভার, গিলেস্পির সাথে সাথে ২৬.৫ ওভার আর স্টুয়ার্ট ক্লার্ক ও ম্যাকগিলের সাথে ১২ ওভারের জুটি গড়েন। আর তাতে ফলোআনের শঙ্কা উড়িয়ে ২৬৯ রানে থামে অজিদের ইনিংস। যেখানে ১৫ চার ও ৬ ছয়ে ২১২ বলে ১৪৪ রান করেন অ্যাডাম। আর বাংলাদেশের হয়ে ৬২ রানে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন মোহাম্মদ রফিক।


http://www.sportsmail24.com/media/content/images/2018June/adam-20200605155526.jpg
Image Credit: Hamish Blair/Getty Images

১৫৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। শুরুটা প্রথম ইনিংসের মতো হলেও তা ধরে রাখতে পারেনি পরের ব্যাটসম্যানরা। রাজিন সালেহ ও নাফীসের ৩৩ রানের সুবাদে ১৪৮ রানেই থামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। তাতে যেন বাংলাদেশের আসল চিত্র আবারও ফুটে উঠছিল। তিনটে করে উইকেট নেন গিলেস্পি ও শেন ওয়ার্ন।

৩০৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে উঠতেই কি-না হাসি, হেইডেন খেললেন নিজেদের সাবলীল ইনিংস। হাসির বিদায়ের পর পন্টিং যেন প্রথম ইনিংসের ক্ষোভ মেটাতেই নিজের স্বরুপে ফিরে এলেন। মাঝখানে ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার মিছিল চললেও শেষ বিকেলে ফতুল্লার আকাশের সূর্যের আলো একটু একটু করে নিভে যাওয়ার সাথে সাথে পন্টিংয়ের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে অজিদের শিবিরে আলোর পরস দিলেন তিনি। আর তাতেই কি-না বাংলার টেস্ট ইতিহাসে যুক্ত হলো আরও একটি পরাজয়ের গল্প।

http://www.sportsmail24.com/media/content/images/2018June/ricky-20200605155720.jpg
Image Credit: Hamish Blair/Getty Images

ক্রিকেটের ইতিহাসে লেখা থাকবে, ম্যাচটা অস্ট্রেলিয়া জিতেছে তিন উইকেটে। এখানে লেখা থাকবে না সদ্য কৈশোর পেরোনো নাফীসের অমন দাপুটে আর্বিভাবে অজিদের নাড়িয়ে দেওয়ার গল্প। লেখা থাকবে না রফিকের ৯ উইকেটে অজিদের চেপে ধরার গল্পও।

বারবার হয়তো নাড়া দিয়ে উঠবে মাশরাফির পন্টিংয়ের ক্যাচ মিসের কথা। হয়তো এখনও সেই ম্যাচের কথা মনে হলে মনে মনে বলে উঠেন ‘ইশ, মাশরাফি যদি পন্টিংয়ের ক্যাচটা ধরতো! কিংবা যদি দ্বিতীয় ইনিংসে আরও কিছু রান হতো’ তাহলে গল্পটা ভিন্ন হতে পারতো।

তবে দিন শেষে এসব কেবলই আফসোসের, হতাশার। জীবনে কিছু মহাকাব্য লেখার সুযোগ বার বার আসে না। মুলতানের মতো করে আবার ছেঁয়ে গেল হতাশায়। সম্ভাবনার বাতি জ্বালিয়ে নিভে যাওয়া ফতুল্লাও ফিরে আসেনি জয়ের মশাল জ্বেলে।

[sportsmail24.com এর ওয়েবসাইট এখন sportsmail.com.bd ঠিকানাতেও ব্রাউজ করে পড়তে পারবেন। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে স্পোর্টসমেইল২৪.কমের অ্যাপস থেকেও খেলাধুলার সকল নিউজ পড়তে পারবেন। ইনস্ট্রল করুন স্পোর্টসমেইল২৪.কমের অ্যাপস ]


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

ক্রিকেটে একই ম্যাচে বাবা-ছেলের পাঁচ জুটি

ক্রিকেটে একই ম্যাচে বাবা-ছেলের পাঁচ জুটি

চার ম্যাচ খেলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন!

চার ম্যাচ খেলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন!

সাকিবের ঘূর্ণিতে ঘুরেছিল অস্ট্রেলিয়া

সাকিবের ঘূর্ণিতে ঘুরেছিল অস্ট্রেলিয়া

ব্রায়ান লারার যত রেকর্ড

ব্রায়ান লারার যত রেকর্ড