ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফরম্যাট টেস্ট। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের নামের সাথে দীর্ঘদিন বয়ে চলা ‘চোকার্স’ তকমাটাও ঘোচালো প্রোটিয়ারা।
লডর্সে অনুষ্ঠিত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২১২ রানে আটকে দিলেও দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল ১৩৮ রান। ফলে প্রথম ইনিংস থেকে অসিরা ৭৪ রানের লিড পেয়েছিল।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২০৭ রান করলে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮১ রান। প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহে ব্যর্থ হলেও লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঠিকই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় প্রোটিয়ারা। ৮৩.৪ ওভার ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮২ রান তুলে নেয় তারা।
সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আইসিসি নক-আউট ট্রফির (বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নাম) শিরোপা জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল প্রোটিয়ারা। এরপর আইসিসির কোন শিরোপা জিততে না পারায় ‘চোকার’ তকমা পায় তারা। অবশেষে ২৭ বছর ও ৯৭২২ দিন পর আইসিসি ট্রফি জয়ের নজির গড়লো দক্ষিণ আফ্রিকা।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে হারায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে। ফাইনালে সেঞ্চুরি করে প্রোটিয়াদের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ওপেনার আইডেন মার্করাম। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মার্করাম। প্রথম ইনিংসে শূন্যতে ফিরেছিলেন তিনি।
ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম ইনিংসে শূন্য ও দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেছেন মার্করাম। এর আগে ১৯৮৪ সালে এই লর্ডসে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে শূন্যর পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৮ রান করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের রয় ফ্রেডরিকস।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হিসেবে প্রথম দশ ম্যাচের একটিতেও হারেননি তেম্বা বাভুমা। অধিনায়ক হিসেবে ৯টিতে জয় ও ১টিতে ড্র করেছেন বাভুমা। এতে ইংল্যান্ডের পার্সি চাপম্যানের পাশে বসলেন বাভুমা। অধিনায়ক হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ টেস্টের মধ্যে ৯টিতে জিতেছিলেন চাপম্যান।
