ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য হাইভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে আলাদাভাবে ভাবছে না আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর সেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, “শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ। তবে আমাদের শরীরের শেষ শক্তি আর শেষ ফোঁটা ঘামটুকু দিয়েও আমরা সবকিছু উজাড় করে দেব।”
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচগুলোর ইতিহাস মাঠের নানা উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। সেই প্রতিদ্বন্দ্বীতার পেছনে রয়েছে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সেনারা দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করার পর সেগুলো পুনর্দখলে সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছিল ব্রিটেন।
তবে অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে জয়ের পর স্কালোনি রাজনীতিকে এক পাশে সরিয়ে রাখতে চাইলেন। বলেন, “দেখুন, এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আমার বার্তা একটাই এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি।”
তিনি বলেন, “এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং আমরা খুব শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলবো। তাদের একজন দুর্দান্ত কোচ আছেন। এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়।”
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ৪০ বছর পর। মেক্সিকো সিটির আজতেকায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।
বিশ্বকাপে দুই দল আরও দুবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৮ সালে টাইব্রেকারে জিতেছিল আর্জেন্টিনা, চার বছর পর ২০০২ সালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেল ইংল্যান্ড।
স্কালোনি স্বীকার করেছেন, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে কঠিন ৩-২ ব্যবধানের জয়ের পর সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে আরও ভালো খেলতে হবে।
স্কালোনি বলেন, “আমরা জিতেছি আমাদের জয়ের প্রবল ইচ্ছার কারণে। আমরা ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিতে চাইনি। এখানে খেলার মানের চেয়ে জয়ের আকাঙ্খার বিষয়ই বেশি ছিল। আমরা এখন সেমি-ফাইনালে। ফুটবলে এটি একটি বিশেষ অবস্থান, যেটিকে হয়তো আমরা অনেক সময় স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। তবে এখানে পৌঁছানো মোটেও সহজ নয় “
তিনি আরও বলেন, “খুশি হওয়ার, সন্তুষ্ট থাকার এবং রোমাঞ্চিত হওয়ার আমাদের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এখন আমরা শেষ পর্যন্ত সর্বশক্তি দিয়ে লড়বো। আমাদের শরীরের শেষ শক্তি আর শেষ ফোঁটা ঘামটুকু দিয়েও আমরা সবকিছু উজাড় করে দেব। যদি আমরা সফল হই, তাহলে দারুণ। আর যদি না-ও পারি, তবুও আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করবো। এ নিয়ে যেন কারও কোনো সন্দেহ না থাকে।”
