১২৪৪ কোটি টাকার ‘সিড মানি’ পাচ্ছে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০২৬
১২৪৪ কোটি টাকার ‘সিড মানি’ পাচ্ছে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো

দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে পরনির্ভরশীলতা থেকে বের করে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় ১২৪৪ কোটি টাকার ‘সিড মানি’ বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল অনুমোদন দিচ্ছেন। যেখান থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ প্রতি বছর সরাসরি ফেডারেশনগুলো পাবে এবং বাকি ২৫ শতাংশ মূল তহবিলের সাথে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে যুক্ত হবে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের যু্ব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে নবনিযুক্ত এডহক কমিটির ১৪টি ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করেন আমিনুল হক।

সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছেন। সভায় ক্রীড়াঙ্গনে সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদিত এই ‘সিড মানি’ বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর মাঝে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই সুবিশাল তহবিল থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ প্রতি বছর সরাসরি ফেডারেশনগুলোকে প্রদান করা হবে, যা দিয়ে তারা- ফুটবল, হকি, আর্চারি, শুটিংয়ের মতো নিজ নিজ খেলাধুলার দৈনন্দিন কার্যক্রম ও খেলোয়াড়দের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

এছাড়া লভ্যাংশের বাকি ২৫ শতাংশ মূল তহবিলের সাথে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে যুক্ত হবে, যেন ভবিষ্যতেও ক্রীড়া খাত টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো লাভ করতে পারে।

ফেডারেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ক্রীড়াঙ্গনে অপরাধের ব্যাপারে শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শন করার বিষয়ে আমিনুল হক জানান, বিগত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনে জমে থাকা দুর্নীতি ও অপকর্ম ইতিমধ্যে সরকারের নজরে এসেছে এবং বিভিন্ন সংস্থাও এগুলো তদন্ত করে কাজ করছে।

এছাড়া অতীতে ক্রীড়া সংগঠকদের একাংশের মধ্যে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার যে ভুল ধারণা ছিল, তা ভেঙে ফেলার বার্তা দেন তিনি।

সভায় বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, আইন সবার জন্য সমান। দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সাথে জড়িত কেউ প্রমাণসহ ধরা পড়লে কেবল সাংগঠনিক শাস্তিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে না, বরং সরাসরি দেশের প্রচলিত কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।

ভবিষ্যৎ ক্রীড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিমন্ত্রী পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট ক্রীড়া পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করার জন্য ফেডারেশনগুলোকে নির্দেশ দেন। বলেন, এখন থেকে প্রতিটি ফেডারেশনকে জাতীয় পর্যায়ে বছরে সর্বনিম্ন ৪টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধি পাঠাতে বা দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে অন্তত ৩টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে।

তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি চার মাস পর পর তাদের পারফরম্যান্স কঠোরভাবে পর্যালোচনা বা রিভিউ করা হবে। পর্যালোচনায় পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে নির্ধারিত ক্রীড়াবিদদের ভাতার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সম্ভাবনাময় নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


বিষয়ঃ

শেয়ার করুন :