ক্রিকেটারদের মতো আম্পায়ারদেরও খারাপ দিন আসে, চ্যালেঞ্জিং হলো দ্রুত সমাধান: শরফুদ্দৌলা

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৪:৪৭ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২৩
ক্রিকেটারদের মতো আম্পায়ারদেরও খারাপ দিন আসে, চ্যালেঞ্জিং হলো দ্রুত সমাধান: শরফুদ্দৌলা

ফাইল ফটো

শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত; বাংলাদেশের প্রথম আম্পায়ার হিসেবে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে আইসিসি চূড়ান্ত করা ১৬ জন আম্পায়ারের মধ্যে তিনি একজন। বাংলাদেশি এ আম্পায়ারের মতে, একজন ক্রিকেটারদের মতো আম্পায়ারদেরও খারাপ দিন আসে, তবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়টি হলো খুব দ্রুত সমাধান করে নেওয়া।

বিশ্বকাপে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পাওয়া শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত বাংলাদেশেরও সেরা আম্পায়ার। যিনি এখন পর্যন্ত ১৩টি টেস্ট, ৮৫টি ওয়ানেড এবং ৫৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের মধ্যে টেস্টে দায়িত্ব পালন করাকে তিনি সবচেয়ে গর্বের মনে করেন। একই সাথে তিনি মনে করেন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করাও একটি বিশাল অর্জন। যা তিনি স্বপ্নও দেখতেন।

তবে খেলায় যেমন ক্রিকেটাররা ভুল করেন, তেমনি আম্পায়ারদেরও সিদ্ধান্ত দিতে নানা সময় ভুল হয়। বিশ্বকাপে ডাক পাওয়ার পর সম্প্রতি ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটাই জানিয়েছেন।

শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত বলেন, “ক্রিকেটারদের মতো আম্পায়ারদেরও খারাপ দিন যেতে পারে, তবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হলো আপনাকে খুব দ্রুত সমাধান করে নিতে হবে।”

তিনি বলেন, “একজন ব্যাটার ভুল করলে সে আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যায়। যদি একজন বোলার খারাপ করে অধিনায়ক তাকে পরামর্শ করে তার ভুল ধরিয়ে দিয়ে সমাধার করতে পারে। তবে একজন আম্পায়ারের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না।”

বাংলাদেশি আম্পায়ার বলেন, “আমার প্রথম টেস্টে শাদমানকে এলবিডব্লিউ দিয়ে ভুল করেছিলাম এবং আমি মনে মনে ভেবেছিলাম এখনও পাঁচ দিনের ক্রিকেট বাকি আছে। সামনের দিকে তাকানো আমাকে উদ্বিগ্ন করে তুলবে। তবে এখন আমি বুঝতে পেরেছি যে, আপনি কেবল আপনার পরবর্তীতে কী করণীয় সেদিকে মনোনিবেশ করুন। কারণ, আপনি যদি এটি নিয়ে বকাবকি করেন তাহলে সামনে আরও ভুল করার সম্ভাবনা বেশি।”

ভারত বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত বলেন, “আমাদের একটি আইসিসি ড্রাইভ রয়েছে, যেখানে নানা ঘটনার ভিডিও রয়েছে। আমি এখনও সেগুলো দেখি। একদিন পরেই বিশ্বকাপের ম্যাচ, আমি এখনো নেটে বিভিন্ন দেশের বোলার বোলিং দেখি। নিজেকে সেইভাবে প্রস্তুত করি।”

জীবনের যেকোন সেক্টরে প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই বলে বিশ্বাস করেন তিনি। বলেন, “"প্রস্তুতি একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে। আমি অনুভব করি যে, আম্পায়ারদের সম্পর্কে লোকেদের একটি ভুল ধারণা রয়েছে; যেমন আমরা কেবল আমাদের আঙুলগুলো উপরে তোলা এবং নিচে নামানোর জন্য মাঠে থাকি, এমনকি আমাদের ডিআরএস সহায়তাও রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এটাতে আরও অনেক কিছু আছে, খেলা শুরুর আগে আপনাকে সব ধরনের আবেগকে পিছনে ফেলে এবং আপনার মনের মধ্যে যাই ঘটুক না কেন আপনার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। একটি কথা আছে যে ‘ক্রিকেট চরিত্র তৈরি করে এবং আম্পায়ারিং জীবন তৈরি করে’। কারণ, একজন আম্পায়ার হিসেবে আপনি সবকিছুই অনুভব করবেন।”

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম আম্পায়ার হিসেবে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের আরও একটি রেকর্ড। ক্যারিয়ারে নিজের এমন মাইলফলই স্পর্শে শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতও বেশ রোমাঞ্চিত।

তিনি বলেন, “আইসিসি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা স্পষ্টতই একটি স্বপ্ন। এটি একটি সম্মান এবং বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য একটি বিশাল অর্জন।”


শেয়ার করুন :