এশিয়ান গেমসে নতুন ভোগান্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ আরচ্যারি দল। পদকের আশায় জাপানে যাওয়া দলটি দীর্ঘ ভ্রমণের পরও আবাসন সমস্যায় পড়েছে। বিমানবন্দরে আট ঘণ্টার ট্রানজিট শেষে ক্রুজশিপে পৌঁছেও নির্ধারিত কক্ষ বুঝে পায়নি ১৬ সদস্যের দলটি।
নির্ধারিত কক্ষ না পেয়ে কোচ মার্টিন ফ্রেডরিককে আশ্রয় নিতে হয়েছে জিমন্যাস্টিকসের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জামিল ও কোচ মাসুমের কক্ষে। আর তিন কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে একটি হোটেলে, যেখানে খাবারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অন্যদিকে আরচারদের রাত কাটাতে হয়েছে চারটি কক্ষে গাদাগাদি করে।
এশিয়ান গেমসে এবার প্রচলিত কোনো ‘অ্যাথলেটস ভিলেজ’ তৈরি করা হয়নি। ব্যয় সংকোচন এবং স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন এড়াতে আয়োজকরা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য হোটেল, অস্থায়ী কনটেইনার আবাসন এবং ‘কোস্টা সেরেনা’ ক্রুজশিপে থাকার ব্যবস্থা করেছে।
বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের মধ্যে জিমন্যাস্টিকস, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, কুস্তি, টেবিল টেনিস ও উশু ইভেন্টকে ক্রুজশিপে থাকার ব্যবস্হা করা হয়েছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও আগেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের ৭৯ জন অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার জন্য ক্রুজে ৩১টি টুইন রুম বরাদ্দ রেখেছিল আয়োজকরা। এর মধ্যে ১২ আরচার ও চার কর্মকর্তার জন্য নির্ধারিত ছিল আটটি কক্ষ। কিন্তু আট ঘণ্টা হংকংয়ে ট্রানজিটে অপেক্ষা এবং ওয়েলকাম সেন্টারে আরও ৯ ঘণ্টা কাটিয়েও নির্ধারিত কক্ষ বুঝে পায়নি আরচ্যারি দল।
এ নিয়ে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ বলেছেন, আমাদের জন্য ক্রুজে ৩১টি রুম বরাদ্দ দিয়েছে। যদিও সবকটি রুম আয়োজকরা এখনো বুঝিয়ে দেয়নি। এ কারণে আরচ্যারদের ঠিকমতো রুম বরাদ্দ দিতে পারিনি। তবে আমরা তাদের ভোগান্তি নিরসনের চেষ্টা করছি। ২৬ তারিখ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি দল দেশে ফেরত যাচ্ছে। তখন হয়তো আমাদের আবাসন সমস্যা আর থাকবে না।
আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর রায়হান বলেছেন, ট্রানজিটে হংকংয়ে আট ঘণ্টা বসেছিলাম। এরপর রুমের জন্য ওয়েলকাম সেন্টারে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। এরপরও ঠিকঠাক রুম বরাদ্দ পাইনি। কোনো রকমে গাদাগাদি করে রাত কাটিয়েছে আরচাররা। সকালে নাশতা না করেই অনুশীলনে যেতে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভালো ফল করা সম্ভব নয়।
