জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) রাজশাহী ভেন্যুর চার দিনের ম্যাচটি ড্র হয়েছে। বৃষ্টিতে আউটফিল্ড ভেজা থাকায় ম্যাচের প্রথম দুই দিন মাঠে একটি বলও গড়াতে পারেনি। ফলে চারদিনের ম্যাচটি কার্যত দুই দিনে পরিণত হয়েছিল।
তৃতীয় দিনে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শুরু হলেও আলো স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের ২২ মিনিট আগেই খেলা শেষ করেন আম্পায়াররা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চতুর্থ ও শেষ দিনে বরিশাল আগের দিনের ২৬৬ রানের সাথে ৪৯ রান যোগ করে ৩১৫ রানে অলআউট হয়।
ম্যাচটিতে বরিশালের আব্দুল্লাহ ৯৪ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন। বিপরীতে ঢাকার আশিকুরও ৯৯ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন।
বরিশালের আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার আব্দুল্লাহ ব্যক্তিগত ৬২ ও তানভির ১৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেন। আব্দুল্লাহর চেয়ে তানভির কিছুটা মারমুখি ব্যাটিং করে ২৫ বলে ব্যক্তিগত ৩৬ রান ও দলীয় ২৯৪ রানে শর্টলেগে তৌফিকের হাতে ক্যাচ দেন আমিনুলের বলে।
শেষ ব্যাটার হিসেবে মাঠে নামা রাসেলকে নিয়ে দলের স্কোর খুব বেশি দূর নিয়ে যেতে পারেননি। আব্দুল্লাহ ব্যক্তিগত ৯৪ রানে তাইবুরের বলে উইকেটরক্ষক অংকনের হাতে ধরা পরলে বরিশালের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩১৫ রানে।
ঢাকার বোলারদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৬৩ রানে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া সুমন ৫১ রানে ও তৌফিক ৪৪ রানে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
ঢাকার প্রথম ইনিংসের গোড়পত্তন করতে আসেন রাজশাহী বিভাগের বিরুদ্ধে ২৮২ রান করা নাঈম শেখ, সাথে মাঠে নামেন আনিসুল ইসলাম। শুরুটা ভালোই করে ঢাকার দুই উদ্বোধনী ব্যাটার নাঈম ও আনিসুল। এ জুটি থেকে আসে ৭৩ রান।
আনিসুল ৫৫ বলে ৫০ রান করে তানভিরের বলে বোল্ড হন। এরপর উইকেটে আসেন ঢাকার উইকেটরক্ষক আসিকুর রহমান শিবলী। ৬৯.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫১ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন ঢাকার অধিনায়ক অংকন। সেই সাথে চতুর্থ ও শেষ দিনের খেলার ইতি টানেন দুই আম্পায়ার।
ঢাকার টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারের অর্ধশত রানের সুবাদে এই রান সংগ্রহ করে ঢাকা বিভাগ। শিবলী ৯৯, নাঈম সেখ ৫১ ও আনিসুল ৫০ রান করেন। বরিশালের তানভীর ২৫ বলে ৩৩ রান করায় ও ২৩.৩ ওভার বল করে ৩ উইকেট নেওয়ায় ম্যাচ মেরা পুরস্কার পান।
খেলা শেষে ক্রিকেটারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার শাহনেওয়াজ শহীদ সানু।
রাজশাহীর আউটফিল্ড সম্পর্কে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের কিউরেটর গোলাম রসুল রতন বলেন, টানা ২/৩ দিন মুষলধারে বৃষ্টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় আউট ফিল্ডে পানি জমেছিল। তবে একদিন বৃষ্টি হলে এমন হতো না।
ঢাকার কোচ মিজানুর রহমান বাবুল বলেন, মাঠে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় আউটফিল্ড শুকাতে সময় লেগেছে। কিছুই করার ছিল না, ভাগ্যকে মেনে নিতে হবে। এই সময় সাধারণত বৃষ্টি হয় না। দল ভালো করছিল, ম্যচে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম, তবে কী আর করা।
বরিশালের কোচ আব্দুল করিম জুয়েল বলেন, ড্রেনেজ সিষ্টেম না থাকায় এসব মাঠের আউটফিল্ড শুকাতে সময় লাগে। পানি নেমে যেতে পারে না, মাঠেই জমে থাকে।
মো. ফয়সাল আলম রাজশাহী/আরএস
