সংস্কারের প্রয়োজনে অপেক্ষা করতে রাজি বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৯:২১ এএম, ৩০ আগস্ট ২০২৬
সংস্কারের প্রয়োজনে অপেক্ষা করতে রাজি বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা

বাংলাদেশ প্রিমিয়াল লিগ (বিপিএল)-কে অর্থপূর্ণ সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং লাভবানভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা এক বছর অপেক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সাাথে পাঁচ বছরের জন্য বিপিএল ক্যালেন্ডারের জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা। এর আগে বিসিবি সদর দফতরে তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি- রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন।

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো সময়মতো সম্পন্ন করা না গেলে এক বছর স্থগিত রাখা হতে পারে বিপিএল। বৈঠকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে নতুন মডেলে অবশ্যই স্থায়িত্ব, সময়-সূচি, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক, ফ্র্যাঞ্চাইজির আর্থিক অবস্থা, সততা এবং বোর্ড ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের মধ্যকার পেশাদার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগগুলোর সমাধান করতে হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

গত এক দশক ধরে কোনো টেকসই দীর্ঘমেয়াদী কাঠামো না থাকায় বিপিএল নিয়ে মৌলিকভাবে নতুন করে ভাবা দরকার বলে মনে করেন রংপুর রাইডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ইশতিয়াক সাদেক।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ইশতিয়াক বলেন, “বিসিবির দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে, এই মুহূর্তে বিসিবি একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি নিয়েছে এবং আরও টেকসই মডেলের মাধ্যমে পুরো টুর্নামেন্টটি কীভাবে ভালোভাবে আয়োজন করা যায়, তা খতিয়ে দেখছে। আমাদের আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ ছিল এবং এখানে উপস্থিত তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে রাজশাহীর একটি কথা আমার খুব ভালো লেগেছে, ‘সংস্কার’।”

তিনি বলেন, “বিপিএলের সংস্কার প্রয়োজন, কারণ আমরা গত ১০ বছর ধরে এখানে আছি, কিন্তু আমাদের কোনো গঠনমূলক ধারণা নেই এবং আমাদের কোনো টেকসই মডেলও নেই। তাই পরবর্তী বিপিএল যখনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, আমরা একটি পাঁচ বছরের ক্যালেন্ডার চেয়েছি। যদি দুই পক্ষ, অর্থাৎ বিসিবি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো, একসঙ্গে এই মডেলগুলো তৈরি করতে পারে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তা বিপিএলের জন্য অনেক ভালো হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এও আলোচনা করেছি যে, নির্দিষ্ট সময় থেকে শুরু করে মডেলটি কেমন হবে, কোন কোন তারিখে এটি অনুষ্ঠিত হবে এবং তা পাঁচ বছরের জন্য চলবে। পরবর্তী বিপিএল যখনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, আমরা পাঁচ বছরের একটি ক্যালেন্ডার চেয়েছি।”

বিপিএলের বার্ষিক চক্রে বিরতির নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সিইও মোকসাদুল কামাল বাবু। তিনি বলেন, “আমরা কি হতাশ? হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই হতাশ। কারণ একটি লিগের ধারাবাহিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন একটি লিগে ধারাবাহিকতা থাকে না, তখন বিপিএল শুধু কয়েক দিনের ম্যাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর বাইরেও প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির অনেক কাজ থাকে। দল গঠন থেকে শুরু করে স্পনসরশিপ পর্যন্ত, আমরা সারা বছর ধরে এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করি।”

মোকসাদুল কামাল বাবু বলেন, “সেই দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধারাবাহিকতা ভেঙে যাওয়াটা এক ধরনের ব্যাঘাত। তবে আমরা হয়তো বৃহত্তর স্বার্থে এই ব্যাঘাত মেনে নিচ্ছি।”

ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আতিক ফাহাদ অবশ্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, গত দুই আসরের কাঠামোতে বিপিএল অনুষ্ঠিত হলে তিনি আর চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক নন। বলেন, “গত দুই বছর ধরে যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলতে থাকলে আমি থাকবো না। গত দুই বছর ধরে আমরা টাকা বিনিয়োগ করেছি, কিন্তু দিনের শেষে মানুষের গালিগালাজ আমাকেই শুনতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সভাপতি (তামিম ইকবার) বলেছেন যে, বিপিএল অবশ্যই হবে। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এ বছর তা হবে কি-না। তিনি আমাদের কাছে কিছু প্রশ্ন রেখেছেন- আমরা কি আগের বছরগুলোর মতো করে বিপিএল চালিয়ে যেতে চাই, নাকি সংস্কারের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ বিপিএল চাই।”



শেয়ার করুন :