তীরে গিয়ে তরী ডুবলো বাংলাদেশের, বিশ্বকাপ থেকে ‘বিদায়’

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৮:৫৭ এএম, ৩০ অক্টোবর ২০২১
তীরে গিয়ে তরী ডুবলো বাংলাদেশের, বিশ্বকাপ থেকে ‘বিদায়’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে তীরে গিয়ে তরী ডুবলো বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নেমে শেষ ওভারে ১৩ রানের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ ওভারে আফিফ-মাহমুদউল্লাহ জুটি তুলতে পেরেছে কেবল মাত্র ৯ রান। এতেই ক্যারিবিয়ানদের কাছে ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখার। তবে তীরে এসে নিজেদের তরী ডুবিয়ে ফেলায় সেমি ফাইনালের আশা এখানেই শেষ। শুরু দিকের ব্যাটিং কিংবা বোলিং দুইটায় বাংলাদেশকে জয়ের আশা দেখিয়েছিল। তবে রানের সাথে বলের তাল না মিলাতে পারায় জয় তুলে নিতে পারেনি টাইগার বাহিনী।

শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৪২ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুর দিকে ধীরগতির ব্যাটে রান তুলতে না পারলেও শেষ দিকে নিজেদের পাওয়ার হিটিংয়ের সক্ষমতা প্রমাণ করে ক্যারিবিয়ানরা। মূলত নিকোলাস পুরানের ২২ বলে ৪০ এবং অভিষিক্ত রোস্টন চেজের ৪৬ বলে ৩৯ রানে ভর করে প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯ ব্যাটার ব্যাট হাতে নামলেও মোটে ৪ জন ব্যাটার দুই অঙ্কের কোটায় রান করতে পেরেছিলেন।

ইনিংসের শুরুর দিকে বল হাতে বেশ ভালোভাবেই ক্যারিবিয়ানদের চেপে ধরে টাইগাররা। এর ফলও বেশ দ্রুতই পায় মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই ফিরে যান দুই ওপেনার এভিন লুইস এবং ক্রিস গেইল। তবে দ্রুতই তিন উইকেট হারিয়ে বসা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পথ দেখানোর শুরুটা করেন অভিষিক্ত রোস্টন চেজ এবং অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড।

চেজ কিংবা পোলার্ড দুইজনই বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে রান করতে বেশ ঝিমিয়ে পড়েন। বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে পারছিলেন না তারা। তাই তো প্রথম ১০ ওভারে ওভারে মোটে ৪৮ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবিয়ানরা।

ম্যাচের ১২তম ওভারে তৃতীয় বলে ব্যাট হাতে রান পেতে সংগ্রাম করা কাইরন পোলার্ড মাঠ থেকে উঠে যান। যদিও এর পরের বলেই তাসকিনের রান আউটের শিকার করে ফেরেন কোনো বল না খেলা অভিজ্ঞ আন্দ্রে রাসেল।

৬২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসা দলের রানের গতি বাড়ান নিকোলাস পুরান। চার ছয় এবং এক চারে ৪০ রান করেন। এছাড়াও একদিক থেকে রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে দলের রান বাড়াচ্ছিলেন রোস্টন চেজ।

শেষ দিকে এসে জেসন হোল্ডারের টানা দুই ছয় এবং ইনিংসের শেষ বলে কাইরন পোলার্ডের ছয়ে ১৪২ রানে থামে ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস।

১৪৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো ধীরগতিতে ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। এদিন লিটনের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে নামেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে তিনি বিস্ময়কর কিছুই করতে পারেননি।

পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে কলকাতা সতীর্থ রাসেলের বলে মিড অফে হোল্ডারের ক্যাচে পরিণত হন সাকিব। দলীয় ২১ রানে ব্যক্তিগত ৯ রানে ফেরেন তিনি। এর আগের বলেই ক্যাচ হেইডন ওয়ালশ জুনিয়রের হাত ফসকে গেলে জীবন পান আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম।

তবে জীবন পেয়েও নাঈম ইনিংস বড় করতে পারেননি। দলীয় ২৯ রানের মাথায় হোল্ডারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন নাঈম। উইকেটে থিতু হয়েও নিজের ইনিংসকে বড় করতে পারেননি তিনি। ফেরেন ১৯ বলে ১৭ রান করে।

দুই উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমান ২৯ রান তোলে বাংলাদেশ। এ সময় বাংলাদেশ খেলেছিল ১৫ ডট বল।

এরপরেই বাংলাদেশের হাল ধরেন লিটন দাস এবং সৌম্য সরকার। তাদের দারুণ ব্যাটিংয়ে ১০ ওভারে ৫৫ রান তোলে বাংলাদেশ। তবে ছিল না চার-ছক্কার ঝনঝনানি।

তবে দারুণ ব্যাটিং ধরে রাখতে পারেননি সৌম্য সরকার। ব্যক্তিগত ১৭ রানে ফেরেন তিনি।

১১তম ওভারের চতুর্থ বলে আকিল হোসেনের বলে শর্ট থার্ডম্যান অঞ্চলে গেইলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য। এ সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬০ রান।

সৌম্যের বিদায়ের পরে মুশফিক এবং লিটন দলকে এগিয়ে নেওয়া শুরু করেন। ম্যাচের ১৩তম ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় ৯০ রানের মাথায় চিরচারিত স্কুপ শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন এ সিনিয়র ক্রিকেটার। বারবার এক স্কুপ শটে আর কতবার দলকে বিপদে ফেলবেন মুশফিক? তার হয়তো নেই কোনো সদুত্তর।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সাথে জুটিতে দলকে নিয়ে সঠিক কক্ষপথেই ছিল বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের ১৭তম ওভারে ডোয়াইন ব্রাভোর দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ৩ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ।

তবে পরের ওভারেই রবি রামপালের ওভারে ৭ রান তুলে আবারও ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এতেই শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২২ রান।

১৮তম ওভারে প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রান রেট কমিয়ে আনেন মাহমুদউল্লাহ। তবে ওভারের শেষ বলে আউট হন লিটন কুমার দাস। দলীয় ১৩০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪৪ রানে বিদায় নেন তিনি।

লং অনে ব্রাভোর বলে জেসন হোল্ডারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এতে যতটা না ছিল লিটনের দোষ, তার থেকে বেশি কৃতিত্ব প্রাপ্য ফিল্ডার হোল্ডার। লিটনের বিদায়ের পর শেষ ওভারে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩ রান।

আফিফ-মাহমুদউল্লাহ জুটি শেষ ওভারের চার বলে দুই রান করেন নিয়ে দলকে জয়ের আভাস দিচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত শেষ বলে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ দাঁড়ায় বাউন্ডারি করলেই কেবল মাত্র জিতবে টাইগাররা। তবে স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা অধিনায়ক রিয়াদ সেই বল থেকে নিতে পারেননি কোনো রান। এতেই বাংলাদেশের নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের হার।

সুপার টুয়েলভে টানা তিন ম্যাচে হেরে সেমি ফাইনালে খেলার আশা এখানেই শেষ। সুপার টুয়েলভে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দুইটি কেবল মাত্র আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে পরিণত হয়েছে।

স্পোর্টসমেইল২৪/পিপিআর

[sportsmail24.com এখন sportsmail.com.bd ঠিকানাতেও। খেলাধুলার ভিডিও-ছবি এবং  সর্বশেষ সংবাদ পড়তে ব্রাউজ করুন যেকোন ঠিকানায়। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ইনস্ট্রল করে নিতে আমাদের অ্যাপস ]



শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

জাতীয় সঙ্গীতে টাইগারদের চোখে অশ্রু

জাতীয় সঙ্গীতে টাইগারদের চোখে অশ্রু

সমালোচনা সহ্য করাও শিল্প : মাশরাফি

সমালোচনা সহ্য করাও শিল্প : মাশরাফি

যদি টকশো করতাম, তাহলে এ ব্যর্থতা দেখতে হতো না : শিশির

যদি টকশো করতাম, তাহলে এ ব্যর্থতা দেখতে হতো না : শিশির

পাকিস্তান সিরিজেও খেলতে পারবে না সাইফউদ্দিন

পাকিস্তান সিরিজেও খেলতে পারবে না সাইফউদ্দিন