ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে অস্ট্রেলিয়ার বেশ সময়ই লাগবে। তবে তার আগেই মাঠে নামতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে। সিরিজ রক্ষায় সেই ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স দলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দেশটির উত্তরাঞ্চলের রাজধানী ডারউইনে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম বড় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়াকে চতুর্থ দিনেই ৯ উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। হারের পুরো দলের হতাশা স্বীকার করে কামিন্স জানিয়েছেন, তারা পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া পূর্ণশক্তির দল নিয়ে খেলতে নেমেছিল এবং সহজেই জিতবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে ডারউইনে ব্যাটার জেক ওয়েদারাল্ড ও মার্নাস লাবুশেন দুজনই ব্যর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টার ও ক্যামেরন গ্রিনও ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের দুজনকেই একাদশে রাখার প্রয়োজনীয়তা অস্ট্রেলিয়ার আছে কি-না -প্রশ্নও উঠেছে।
গ্রিন ও ওয়েবস্টার বল হাতে খুব একটা কার্যকর ছিলেন না। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে গ্রিন দৃঢ় মানসিকতার সঙ্গে সেঞ্চুরি করেন। টপ অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে কামিন্স বলেন, “এটা একটি টেস্ট ম্যাচ, কিন্তু একই সঙ্গে এটা কিছুটা ধারাবাহিক সমস্যারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “তাই এখনই কি আমাদের হস্তক্ষেপ করতে হবে, নাকি বিষয়টিকে চলতে দিয়ে মনে করতে হবে যে এটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ, সেটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। আমি মনে করি, আগামী কয়েক দিনে আমরা বসে এ বিষয়টি নিয়ে ভাববো। এখানে কি এমন কিছু আছে, যা আমাদের সামনে এগিয়ে নেবে, নাকি এটা এমন একটি প্রবণতায় পরিণত হচ্ছে, যা আমাদের মনে হচ্ছে পরিবর্তন করা প্রয়োজন।”
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ডারউইনের প্রচন্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে ১৩৮ ওভার বোলিং করতে বাধ্য করে। নির্বাচকদের দল গঠনের ক্ষেত্রে এটিও একটি বিবেচনার বিষয় হতে পারে বলে স্বীকার করেছেন কামিন্স।
তিনি বলেন, “স্কট বোল্যান্ড কতটা ভালো, সেটা আমরা সবাই জানি। তাই আমরা সেখানে গিয়ে উইকেট দেখব এবং আমাদের সেরা বোলিং কম্বিনেশন কী হতে পারে, সেটা ঠিক করবো। তবে স্কটি যখন স্কোয়াডে থাকে, তখন তাকে দলে জায়গা করে দেওয়ার কোনো উপায় বের করার চেষ্টা সব সময়ই করতে হয়। আমি মনে করি, আমরা অপেক্ষা করবো। আমার মনে হয়, এই ম্যাচের পর সব বোলারই মোটামুটি ভালোভাবে সেরে উঠেছে।”
গত ছয় সপ্তাহ ধরে ব্রিসবেনে অনুশীলন করা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে বাংলাদেশ অনেক ভালো খেলেছে বলেও স্বীকার করেন কামিন্স। বলেন, “এই সপ্তাহে তারা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো দল ছিল।”
কামিন্স বলেন, “সত্যি বলতে, সব দিক থেকেই তারা আমাদের পরাস্ত করেছে বলে আমি মনে করি। তারা অত্যন্ত ধৈর্য ধরে খেলেছে, আমাদের ম্যাচে ফিরে আসার কোনো সুযোগই দেয়নি এবং নিজেদের ক্যাচগুলোও ধরে রেখেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়েছে, আমরা শুরুটা ভালো করতে পারিনি। আর ভালো উইকেটে ভালো একটি দলের বিপক্ষে একবার পিছিয়ে পড়লে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বা গতি নিজেদের দিকে ফিরিয়ে আনা সত্যিই কঠিন হয়ে যায়।”
২২ আগস্ট (শনিবার) ম্যাকায়তে দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
