অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ১২:৩৫ এএম, ০৮ জুলাই ২০২৬
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে ১৪ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের নাটকীয়তা কম ছিল না। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পরার পর দলের প্রাণভোমরা মেসি পেনাল্টি মিস করেছেন। পরে আবার সেই মেসির গোলেই ম্যাচে সমতা ফিরেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

আজকের ম্যাচ নিয়ে টানা ৯ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি। একইসাথে আট গোল করে টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আরও এগিয়ে গেছেন তিনি।

ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডে ৭৯তম মিনিটে আর্জেন্টিনার গোলে সূচনা। এরপর ৮৩তম মিনিটে মেসির গোলে সমতা এবং স্টপেজ টাইমের তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩) এনজো ফার্নান্দেজের গোলে জয় নিশ্চিত হয়।

মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে আর্জোন্টিনা জয় নিশ্চিত করায় হৃদয় ভাঙ্গে মোহাম্মদ সালাহর মিশরের।

এদিকে, মিশরের বিপক্ষে একাধিক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত যাওয়ায় দলটি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এর মধ্যে ছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তাদের একটি গোল বাতিল হওয়া। এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের পরবর্তী উত্তেজনায় মিশরের কোচিং স্টাফের একজন সদস্য লাল কার্ডও দেখেন।

শেষ ৩২-এর ম্যাচে শুক্রবার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ক্লান্ত দেখানোর পর কোচ লিওনেল স্কালোনি দলে কিছু পরিবর্তন আনেন। মিয়ামিতে শুরু করা একাদশ থেকে নিকোলাস টাগলিয়াফিকো, লিন্দ্রো পারেদেস ও জুলিয়ান আলভারেসকে দলে নিলেও আর্জেন্টিনা আবারও ধীরগতিতে ম্যাচ শুরু করে।

মারওয়ান আতিয়ার ক্রস পেছনের পোস্টে পৌঁছালে ইয়াসের শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠিয়ে ১৫ মিনিটে মিশরকে এগিয়ে দেন। পাঁচ মিনিট পর সমতায় ফেরার সুযোগ পেলেও বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে লিওনেল মেসির দুর্ভাগ্যের গল্পে যোগ হয় আরেকটি অধ্যায়।

আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ীর নেওয়া শটটি ছিল কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে তা ঠেকিয়ে দেন। ফলে বিশ্বকাপে টাইব্রেকার বাদে নেওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিই এখন মিস করলেন মেসি।

এরপর একেবারে কাছ থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শক্তিশালী হেডও দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন আল আহলির এই গোলরক্ষক। এরপর আলভারেসের নিচের কোণ লক্ষ্য করে নেওয়া শট অসাধারণ এক সেভে ঠেকিয়ে দিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা সেভগুলোর একটি উপহার দেন।

এক ঘণ্টা খেলার পর দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে মিশর ভেবেছিল তারা ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিল। তবে গোল উদযাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোলের আক্রমণ গড়ে ওঠার শুরুতে মিশরের বক্সের ঠিক বাইরে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ওপর ফাউলের অভিযোগে ভিএআরের অত্যন্ত বিতর্কিত হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

এই সিদ্ধান্তে গ্যালারিতে থাকা অধিকাংশ আর্জেন্টাইন সমর্থক উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর আরেকটি দ্রুতগতির মিশরীয় পাল্টা আক্রমণে তারা আবারও স্তব্ধ হয়ে যায়। আবারও আক্রমণের নেতৃত্ব দেন সালাহ। নিচু ক্রস থেকে জিকো সহজেই বল জালে জড়ান।

 

২-২ গোল সমতায় ফেরার পর লটারো মার্তিনেসের ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজের শক্তিশালী হেড আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করে। যা শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনা শিবিরের স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস ছিল স্পষ্ট।



শেয়ার করুন :