ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ম্যারাডোনাকে উৎস্বর্গ করেছেন মেসি

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ১৬ জুলাই ২০২৬
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ম্যারাডোনাকে উৎস্বর্গ করেছেন মেসি

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়টি প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটতে পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করা মেসি ম্যাচ শেষে বলেন, “দিয়েগো সত্যিই অসাধারণ ছিলেন। আমি কখনোই তার সঙ্গে নিজের তুলনা করতে চাইনি। আমার কাছে তিনিই সর্বকালের সেরা।”

তিনি বলেন, “২০১০ সালের বিশ্বকাপে আমরা একসঙ্গে দারুণ কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছি। তখন তিনি কোচ ছিলেন। সেই টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষ ও ম্যাচগুলো নিয়ে আমরা অনেক কথা বলতাম। আজ তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, নিশ্চয়ই খুব খুশি হবেন এবং এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করবেন। কারণ জাতীয় দল তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা আমরা সবাই জানি। এই জয় তার জন্য একটি উপহার।”

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা প্রথম গোলটি হাত দিয়ে করেছিলেন।ওই ম্যাচে তিনি একক নৈপুণ্যে আরেকটি অবিশ্বাস্য গোল করেছিলেন, যা পরে ফিফার ভোটে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে নির্বাচিত হয়।

আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় এবং পরে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ তিতে। ক্যারিয়ারজুড়ে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে নিয়মিত তুলনা করা হয় ৩৯ বছর বয়সী মেসির।

মেসি স্বীকার করেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচটি তার এবং পুরো আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছিল। কারণ, ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বীতাটা বেশ পুরনো।

মেসি বলেন, “যদিও এটি শুধু একটি ম্যাচ ছিল, আমরা বিশেষ কিছু অনুভব করেছি। জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মুহূর্ত থেকেই সেটা টের পাচ্ছিলাম। সমর্থকেরা অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে এই জয়টাই বেশি চেয়েছিল। কারণ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার গুরুত্ব অনেক বেশি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জানি, আর্জেন্টিনার মানুষ কতটা আনন্দিত। আমার মা এবং পরিবারের সদস্যরা আমাকে সেই উদযাপনের ছবি পাঠিয়েছেন। আর্জেন্টিনার মানুষকে এই বিশেষ আনন্দ দিতে পেরে আমি ভীষন গর্বিত ও সুখী। কোনও আর্জেন্টাইনই এই ম্যাচ হারতে চাইনি।”

নিজেকে নিয়ে মেসি বলেন, “গত এক বছর ধরে আমি নিজেকে প্রস্তুত করেছি এবং কঠোর অনুশীলন করেছি। জানতাম, সেরা শারীরিক অবস্থায় থাকতে আমাকে সর্বোচ্চটা দিতে হবে। এখন আমি শুধু খেলাটা উপভোগ করতে চাই। এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ কি-না, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। এই দল সব সময় নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেয় এবং কারও কাছে তাদের কোনো দেনা নেই।”



শেয়ার করুন :