ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে আলোকস্বল্পতায় খেলা আগেভাগে শেষ হওয়ায় সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে রয়েছে বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। তবে সফরররত উইন্ডিজদের বিপক্ষে মিরপুরে দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিকদের হাতে রয়েছে।
ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ১০টি চার মেরে সাদমান বাংলাদেশকে শুরৃর ধাক্কা সামলে উঠতে সাহায্য করেন। খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২১৩ রান। সাদমান ৯৯ এবং লিটন দাস ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে শাদমানের অসাধারণ ধৈর্য শেষ পর্যন্ত অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেছে।
নতুন বলে জেইডেন েিলস ও শামার জোসেফ শুরু থেকেই বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে চাপে রাখেন। তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় সাফল্য আসে দ্রুতই। ৭ রানে তানজিদ হাসান তামিম অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বলে ব্যাট ছুঁইয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
তবে সাদমান অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করার প্রলোভন এড়িয়ে সতর্কতার সঙ্গে মুমিনুল হককে নিয়ে ইনিংস পুনর্গঠন করেন। এই জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের হতাশ করে ৫৯ রান যোগ করেন।
বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান এই জুটি ভাঙেন। তার বলে মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল। ৫১ বলে দুটি চারের সাহায্যে ২৮ রান করেন তিনি।
এরপর সফল এলবিডব্লিউ রিভিউয়ের মাধ্যমে শান্তকে ফেরান ওয়ারিকান। প্যাডল সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ঐ সময় তার সংগ্রহে ছিল ১৯ রান।
৯৫ বলে টেস্টে নিজের দশম এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চতুর্থ অর্ধশতক পূর্ণ করেন সাদমান। লেগ সাইডে স্কয়ারের পেছনে বল ঠেলে এক রান নিয়ে মাইলফলকটি স্পর্শ করেন তিনি।
এরপর তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন সাদমান। চলতি বছরের জুলাইয়ে হারারেতে অভিষেকের পর এটিই হৃদয়ের প্রথম টেস্ট ম্যাচ।
শুরু থেকেই ইতিবাচক ছিলেন হৃদয়। শামার জোসেফের বলে সহজ একটি বাউন্ডারি মারার পর একই বোলারের বলে দারুণ একটি পুল শট খেলেন তিনি।
এই জুটি বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে ৮৮ রান যোগ করে। তবে প্রচন্ড গরমে পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন হৃদয়। তখন তার সংগ্রহ ছিল ৪২ রান।
অন্য প্রান্তে সাদমান ধীরস্থিরভাবে রান তুলতে থাকেন। লুজ বলগুলো কাজে লাগানোর পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের বিপক্ষে নিজের শৃঙ্খলা ধরে রাখেন তিনি।
সাদমান যখন ৯৬ রানে, তখন আলোকস্বল্পতার কারণে প্রায় ৩০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। পুনরায় খেলা শুরু হলে বাঁহাতি এই ব্যাটার নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির আরও কাছে পৌঁছান। কিন্তু দিনের খেলা পরিত্যক্ত হওয়ায় মাইলফলকটি স্পর্শ করার সুযোগ পাননি তিনি।
কোমরের জয়েন্টের চোট কাটিয়ে দলে ফেরা লিটন খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন ওয়ারিকান। দিন শেষে ৩৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
