ফারিয়াদের স্বপ্নের যত্ন নিন, যেন তারা হারিয়ে না যায়

মোশারফ হোসাইন মোশারফ হোসাইন প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২৬
ফারিয়াদের স্বপ্নের যত্ন নিন, যেন তারা হারিয়ে না যায়

ফুটবলকে যারা সত্যিই ভালোবাসেন, তারা জানেন এই খেলার প্রতিটি মুহূর্তে কতটা আবেগ, ত্যাগ আর সংগ্রাম লুকিয়ে থাকে। গ্যালারির উল্লাস, ট্রফির হাসি কিংবা গোলের আনন্দের পেছনে থাকে অসংখ্য অদেখা গল্প। সেই গল্পগুলোরই একটি নাম- জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিয়া।

‘বাবা বাকপ্রতিবন্ধী, মা দিনমজুর। সংসারের বাস্তবতা কখনো তাকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়নি, বরং বারবার বুঝিয়ে দিয়েছে—শুধু আবেগ দিয়ে পেট চলে না। তবু সেই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও ফুটবলকে আঁকড়ে ধরেছে ফারিয়া। কারণ, কিছু স্বপ্ন হিসাব-নিকাশ মানে না।

স্কুল পড়ুয়া ফারিয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ৪ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে অনুশীলনে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলনের শেষে শরীর এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে যে, অনেক সময় সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার শক্তিও থাকে না। তবু তিনি থেমে যান না। কষ্টকে সঙ্গী করেই আবার প্যাডেলে চাপ দেন। কারণ তিনি জানেন, স্বপ্নের পথে শর্টকাট বলে কিছু নেই।

সেই সংগ্রামেরই স্বীকৃতি মিলেছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরে। রাজশাহী অঞ্চলের হয়ে খেলতে নেমে বালিকা ফুটবল বিভাগে টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন ফারিয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে নিয়েছেন পুরস্কার। যদিও তার দল রানার্সআপ হয়েছে,  আর তিনি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ছুঁয়ে ফেলেছেন সেরার মঞ্চ।
sportsmail24

বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি অবশ্যই আশার খবর। কিন্তু শুধু নীতিমালা বা ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ফারিয়াদের মতো প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের নিয়মিত পুষ্টি, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারণ প্রতিভা জন্ম নেয় মাঠে, কিন্তু বিকশিত হয় সমাজের সহায়তায়।

ফারিয়ার গল্প কেবল একজন ফুটবলারের গল্প নয়; এটি হাজারো স্বপ্নবাজ শিশুর প্রতিচ্ছবি। যারা প্রতিদিন দারিদ্র্য, ক্লান্তি আর প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেও হাল ছাড়ে না।

সরকারের কাছে শেষ কথা শুধু একটাই—ফারিয়াদের স্বপ্নের যত্ন নিন। কারণ একটি স্বপ্ন হারিয়ে গেলে হয়তো হারিয়ে যায় ভবিষ্যতের একজন জাতীয় ফুটবলার, একজন অনুপ্রেরণা, কিংবা বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো গৌরবের গল্প।



শেয়ার করুন :