ঢাকায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে নারী কাবাডি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসর। কাবাডির নারীদের এ বিশ্ব আসরকে সামনে রেখে উন্মোচিত হলো ট্রফি। রোববার প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় নারী কাবাডি বিশ্বকাপের ট্রফি উন্মোচন করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ট্রফি উন্মোচন করেন। এ সময় যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ইন্টারন্যাশনাল কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি বিনোদ কুমার তিওয়ারি, বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি বাহারুল আলম বিপিএম, সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ এবং অংশগ্রহণকারী দলের অধিনায়করা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের আসরে ১১টি দেশ অংশ নিচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, রানার্সআপ ইরান এবং আয়োজক বাংলাদেশ। ইতিমধ্যেই ঢাকায় দশ অতিথি দল এসে পৌঁছেছে।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ যেকোনো পর্যায়ের কাবাডি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত ‘তারুণ্যের উৎসব’ উদযাপনের অংশ হিসেবে নারী কাবাডি বিশ্বকাপ আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথম আসর হয়েছিল ভারতের পাটনায়, ২০১২ সালে।
প্রথম আসরে ফাইনালে ইরানকে ২৫-১৯ পয়েন্টে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। ১৬ দেশ চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রথম আসরে অংশ নিয়েছিল। বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে থেকে অপরাজিত থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলেও জাপানের কাছে ১৫-১৭ পয়েন্টে হেরে বিদায় নিয়েছিল।
ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দলের সামনে এবার পদক জয়ের হাতছানি। চলতি বছরের মার্চে ইরানে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ এশিয়ান নারী কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর থেকেই দলটি বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ আরদুজ্জামান মুন্সি এবং অধিনায়ক রূপালী আক্তার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, তারা প্রথম বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স ছাড়িয়ে যেতে প্রস্তুত। সোমবার মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ম্যাচগুলো শুরু হবে।
বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন ঢাকায় স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক আয়োজনের মাধ্যমে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চায়। আসরের আগে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নওয়াজ সোহাগ বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর এ আয়োজন সফল করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আমরা নিশ্চিত যে, তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপের নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের কাবাডি পরিবারের প্রতিটি সদস্য এই আসরকে সুন্দর ও প্রাণবন্ত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বাংলাদেশ জাতীয় নারী কাবাডি দলের সদস্যরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।”
বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপের হয়ে খেলবে বাংলাদেশ। যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ভারত, থাইল্যান্ড, উগান্ডা এবং জার্মানি। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ইরান, নেপাল, চাইনিজ তাইপে, পোল্যান্ড, কেনিয়া এবং জাঞ্জিবার।
