জরাজীর্ণ কুটির থেকে উঠে আসা এক কিশোরীর স্বপ্ন এখন আকাশ ছোঁয়ার। নিত্যসঙ্গী দারিদ্র্যকে জয় করে ফুটবল মাঠের সাফল্য দিয়ে সেই স্বপ্নপূরণ করতে চায় মোছা. আলেয়া খাতুন। বল পায়ে ইতিমধ্যে তার প্রমাণও দিয়েছেন তিনি।
নাটোরের লালপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম জোতদৈবকির কৃষক পরিবারের সন্তান আলেয়া। ইতিমধ্যে তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ রেখেছে। প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এ বল পায়ে জাদুকরী নৈপুণ্য দেখিয়ে লালপুর উপজেলাকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি নাটোরের ফুটবলে নতুন এক আশার প্রদীপ জ্বেলেছে এই কিশোরী।
মাঠে নামলেই যেন আলেয়ার পায়ে গোলবন্যা ছোটে। টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচেই টানা তিনটি হ্যাটট্রিক করে এক বিরল কীর্তি গড়েছে আলেয়া। প্রথম ম্যাচে নাটোর পৌরসভার বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিকে লালপুর জয় পায় ৩-০ গোলের ব্যবধানে।
সাফল্যের সেই ধারা ধরে রেখে দ্বিতীয় ম্যাচে সিংড়া উপজেলার বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক গোল করে দলকে ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেয় আলেয়া। আর তৃতীয় ম্যাচে তার অসামান্য নৈপুণ্যে ৪-০ গোলে প্রতিপক্ষ গুরুদাসপুরকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে লালপুর।
পুরো টুর্নামেন্টে এমন বিধ্বংসী পারফম্যান্সের ফলে নাটোর জেলার নারী ফুটবলে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে আলেয়া খাতুন।তবে লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলেয়ার এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না।
চার বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে বড় হওয়া এই কিশোরীর প্রধান সাহস তার কৃষক বাবা। বাবার অনুপ্রেরণাতেই নর্থ বেঙ্গল ফুটবল একাডেমির এই খেলোয়াড় কোচ জুয়েলের অধীনে নিয়মিত ঘাম ঝরিয়ে যাচ্ছে।
অভাবের চোখরাঙানি এড়িয়ে তার দুচোখ জুড়ে এখন শুধু একটাই স্বপ্ন; লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে একদিন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা উড়ানো।
