রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে শিরোপা অক্ষুণ্ন রেখেছে মোহনপুর উপজেলা ফুটবল দল। ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে টাইব্রেকারে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দলকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর উপজেলা ফুটবল দল।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে গ্যালারিতে ফাইনাল ম্যাচে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বিকেল সাড়ে ৩টায় ফাইনাল ম্যাচ শুরুর কথা থাকলেও দুপুর থেকেই দুই দলের সমর্থকরা মাঠে প্রবেশ করতে থাকেন। বাস, ট্রাক, ভুটভুটিতে, ভ্যানে করে স্টেডিয়ামে আসেন দর্শণার্থীরা। এ সময় স্টেডিয়াম এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ম্যাচ শুরুর আগেই স্টেডিয়ামের গ্যালারি কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। অনেকে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে না পেরে স্টেডিয়ামের বাইরে অবস্থান করেন। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের ২২ হাজার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গ্যালারিতে প্রায় ২৫ হাজার বা তারও বেশি সংখ্যক দর্শক সমাগম ঘটে।
ম্যাচ শুরুর ৩ মিনিটেই মোহনপুরের মোমিনুল সবাইকে হতবাক করে প্রথম গোল করে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন। পরের মিনিটেই দুর্গাপুর গোল পরিশোধের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করে। পরবর্তীতে উভয় দলই একাধিক গোলের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে ২০ মিনিটের মাথায় দুর্গাপুরের প্রণয় গোল পরিশোধ করতে সমর্থ হন। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলের সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দলই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ করে খেলতে থাকলেও কোনো দলই আর কোনো গোল করতে না পারায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে মোহনপুর উপজেলা ফুটবল দল ৩-২ গোলে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দলকে পরাজিত করে আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন দুর্গাপুরের পলাশ। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন দুর্গাপুরের অধিনায়ক জুবায়ের। টুর্নামেন্ট সেরা হন মোহনপুরের বাদল। আর সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন একই দলের রায়হান।
ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাবিবা।
এছাড়া বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর এবং পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, খেলোয়াড়, দর্শক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মো. ফয়সাল আলম