বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে ফিক্সিং-সহ আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তিনজনকে অভিযুক্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সাথে অভিযুক্ত তিনজনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিসিবি। যাদের মধ্যে একজন সাবেক বোর্ড পরিচালকও রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিসিবি এ তথ্য জানিয়েছে। বলা হয়, বিপিএলের ১২তম আসরকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে উঠে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- দুর্নীতিতে জড়িত থাকা, দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন করা, দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাঁধা সৃষ্টি করা বা বিলম্ব ঘটানো।
অভিযুক্ত তিনজন হলেন- মোহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম), যিনি বিসিবির সাবেক বোর্ড পরিচালক (২০২৫-২৬) এবং সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান, বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর এবং বিসিবি অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম সানি।
সাবেক বোর্ড পরিচালক মোহাম্মদ মুখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো-
ধারা ২.১.১: বিপিএল টি-টোয়েন্টির ১২তম আসরের কোনো ম্যাচের ফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো বিষয় অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে ম্যাচ ফিক্সিং করা, ফিক্সিংয়ের চেষ্টা করা বা এ ধরনের চুক্তি/প্রচেষ্টার অংশ হওয়া।
ধারা ২.১.৪: কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্ররোচিত, উৎসাহিত বা সহায়তা করা।
ধারা ২.৪.৪: দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে অযথা বিলম্ব না করে সম্পূর্ণভাবে জানাতে ব্যর্থ হওয়া।
ধারা ২.৪.৭: তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করে সম্ভাব্য দুর্নীতির তদন্তে বাধা দেওয়া।
জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো-
ধারা ২.১.১: বিপিএলের ম্যাচের ফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো বিষয় অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে ম্যাচ ফিক্সিং করা বা চেষ্টা করা।
ধারা ২.১.৪: কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্ররোচিত, উৎসাহিত বা সহায়তা করা।
ধারা ২.৪.৬: কোনো যুক্তিসংগত ও বাধ্যতামূলক কারণ ছাড়া নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ বা অস্বীকৃতি জানানো। এর মধ্যে কোডের ৪.৩ ধারার অধীনে জারি করা নোটিশের জবাব না দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো-
ধারা ২.৪.৪: দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে অযথা বিলম্ব না করে জানাতে ব্যর্থ হওয়া।
ধারা ২.৪.৬: কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া দুর্নীতির সম্ভাব্য অভিযোগের তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ বা অস্বীকৃতি জানানো, যার মধ্যে ৪.৩ ধারার অধীনে জারি করা ডিমান্ড নোটিশের সঙ্গে সহযোগিতা না করাও রয়েছে।
অভিযুক্ত তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। একই সোথে চার্জ নোটিশ পাওয়ার পর নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী চলমান শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই সময় দেওয়া হয়।
