এক দশ ধরে আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেললেও এবার শুরু হচ্ছে নিজেদের আসর। চলতি বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে মাঠে গড়াবে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল)। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এপিএলের উদ্বোধনী সংস্করণটি হবে পাঁচ দলের অংশগ্রহণে।
নিরাপত্তা ইস্যুতে নিজেদের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে পারে না আফগানিস্তান। ফলে এপিএল দেশের বাইরে অন্যকোন ভেন্যুতেই করতে হবে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) জানিয়েছে, এপিএলের উদ্বোধনী সংস্করণ সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইসিসি-অনুমোদিত ভেন্যুতে আয়োজিত হবে।
তবে পরবর্তী সংস্করণগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে বিকল্প ভেন্যুতেও আয়োজিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এপিএলের প্রথম আসরে অংশ নেবে পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। ইতিমধ্যে তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত হয়েছে।
চুক্তিবদ্ধ হওয়া তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে দুটির মালিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত। আকসেল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অমিত কৌশল কাবুল ‘আকসেল ইউনাইটেড কাবুল’ নামে দল কিনেছেন। দুবাই-ভিত্তিক ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বুলফ্রগের পঙ্কজ চাড্ডা ও আশীষ মেহতা ‘কান্দাহার ওয়ারিয়র্স’ নামে দল কিনেছেন। একই মালিকের নেপাল প্রিমিয়ার লিগেও একটি দল (পোখরা অ্যাভেঞ্জার্স) রয়েছে।
এছাড়া আফগান-আমেরিকান উদ্যোক্তা এবং আফগান ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের সমর্থক শাকাইব রাহিমি বালাখ ‘বালাখ জওয়ানান’ নামে দল কিনেছেন। বাকি দুটি দলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুজন শতকোটিপতি ব্যবসায়ী এবং কয়েকটি ভারতীয় কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এসিবি সংযুক্ত আরব আমিরাত-ভিত্তিক সংস্থা ক্রিকেট ভেঞ্চারস এলএলসি-এফজেড-কে এপিএল পরিচালনা ও প্রচারের জন্য লিগের স্বত্ব দিয়েছে। আইটিডব্লিউ ইউনিভার্সের মেনা সাবসিডিয়ারির সঙ্গে এই সংস্থাটির একটি যৌথ উদ্যোগ রয়েছে।
এপিএল নিয়ে আইটিডব্লিউ ইউনিভার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভৈরব শান্ত বলেন, “এখন যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো এর বাস্তবায়ন। খেলোয়াড় নিবন্ধন শুরু হবে ৩০ আগস্ট। উদ্বোধনী ড্রাফট ২৭ সেপ্টেম্বর। প্রথম বল হওয়ার কথা ২৭ ডিসেম্বর।”
তিনি আরও বলেন, “এই সময়ের মধ্যে আমাদের বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি, বাণিজ্যিক অংশীদার, সম্প্রচারের মান এবং ভক্তদের জন্য এমন একটি অভিজ্ঞতা চূড়ান্ত করতে হবে, যা আফগানিস্তান-সম্পর্কিত অন্যান্য আয়োজনে আমরা ইতিমধ্যে প্রয়োগ করা মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
