বাংলাদেশ সফরে টেস্ট সিরিজ জিতে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দর-কষাকষিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চান ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। আর্থিক সঙ্কট, উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে নানা চ্যালেঞ্জের কারণে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
স্যামির বিশ্বাস, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) চলতি চক্র ভালোভাবে শেষ করতে পারলে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় ক্রিকেটারদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে স্যামি বলেন, “ভারত সিরিজে খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর খবর জানানোর পর তারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং যেভাবে খেলেছে, তা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাদের দৃঢ়তা, আবেগ ও আন্তরিকতার প্রমাণ দেয়।”
তিনি বলেন, “একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে কিংবা একটি বোর্ড হিসেবে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, সে বাস্তবতা বুঝতে হবে। আর্থিকভাবে আমরা কোন অবস্থায় আছি, তা কারও অজানা নয়।”
এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মাঝেমধ্যে কিছু উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটির ক্রিকেটের মান ক্রমেই নিম্নমুখী হয়েছে।
চলতি ডব্লিউটিসি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অষ্টম স্থানে রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আগের চক্রেও অষ্টম স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছিল ক্যারিবীয়রা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি চলতি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ সিরিজ। তাই পয়েন্ট তালিকায় অবস্থানের উন্নতি ঘটানোর জন্য এই সিরিজ থেকে অনেক কিছু অর্জনের সুযোগ দেখছেন স্যামি।
তিনি বলেন, “খেলোয়াড়দের প্রতি আমার বার্তা হলো, বিশেষ করে এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শীর্ষ পাঁচে থাকতে পারলে বাড়তি প্রণোদনা পাওয়া যাবে। আর্থিক পুরস্কারের ক্ষেত্রে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। গত দুই চক্রেই অষ্টম স্থানে থাকা আমাদের খেলোয়াড়দের সামনে এবার আরও ওপরে ওঠার সুযোগ রয়েছে।”
স্যামি মনে করেন, মাঠে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে স্পনসরদেরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
তিনি বলেন, “মাঠে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই খেলোয়াড়দের প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ, যাতে আমরা আরও ভালোভাবে দর-কষাকষি করতে পারি এবং স্পনসর আকৃষ্ট করতে পারি। ভারতের বিপক্ষে আমাদের সাদা বলের দল দারুণ করেছে। আশা করি, বাংলাদেশে লাল বলের দলও একই কাজ করতে পারবে।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অবনতি ঘটলেও বিভিন্ন সংস্করণে দলটির পারফরম্যান্সে আশার কিছু দিক রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কোনও টেস্ট সিরিজ হারেনি তারা। সম্প্রতি ভারতের মাটিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজেও স্বাগতিকদের সঙ্গে সমানে লড়াই করেছে ক্যারিবীয়রা।
তবে বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগতিকদের মোকাবিলা করা কঠিন হবে, সেটিও জানেন স্যামি। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সাফল্য বাংলাদেশ সিরিজেও ভালো করতে দলকে অনুপ্রাণিত করবে।
স্যামি বলেন, “আমরা জানি, বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে। তবে আমরাও এ বছর ভালো খেলেছি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করার সময় নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে আমরা সৎ ও বাস্তববাদী ছিলাম। এখন আমরা ঠিক সেই অবস্থানেই রয়েছি, যেখানে থাকার প্রত্যাশা করেছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী দুটি টেস্ট আমাদের সামনে দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ২০২৫ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেটি পূরণের মধ্য দিয়ে এই চক্র শেষ করতে চাই।”
