মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে রানের সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে তানজিদ হাসান এবং নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটির পর ব্যাট হাতে ৮৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
চার বছর পর ওয়ানডে ফরম্যাটে একাদশে ফিরে অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। এছাড়া তানজিদ হাসান ৫৪ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন।
ব্যাট হাতে ৭০ বল খেলে ৭টি চার এবং তিনটি ছক্কার মারে এ রান করে মোসাদ্দেক। দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে ফরম্যাটে ফিরে ব্যাটিং ঝড় দেখালেও মোসাদ্দেকের ছয়বার আউট হওয়া থেকে বেঁচে গেছেন। অসিরা চারবার ক্যাচ মিস এবং দুইবার রান আউটের সুযোগ মিস করেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন টাইগারদের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়ার পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফিরেন সাইফ।
দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি।
দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। তবে চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। ৭ রানে অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি।
হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত।
১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান মোসাদ্দেক।
মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।
৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক। যা ওয়ানডে ফরম্যাটে মোসাদ্দেকের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এছাড়া ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন।
অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
