ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সে হতাশ সিমন্স

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৯:৪৭ পিএম, ২১ জুলাই ২০২০
ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সে হতাশ সিমন্স

ম্যানচেস্টারে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ১১৩ রানের বড় ব্যবধানে হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই হারের জন্য দলের ব্যাটসম্যানদের দুষছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেড কোচ ফিল সিমন্স। তিনি জানিয়েছেন, ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দ্বিতীয় টেস্টে হারতে হয়েছে। টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল তার। সিরিজের শেষ টেস্টে টপ-অর্ডারে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সাউথ্যাম্পটনে সিরিজের প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেখানে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে সিরিজে লিড নেয় ক্যারিবীয়রা। লিড নিয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট হাতে নেমে ৮১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। এরপর ওপেনার ডমিনিক সিবলি ও বেন স্টোকস জুটি বাঁধেন। চতুর্থ উইকেটে ২৬০ রানের জুটি গড়েন স্টোকস ও সিবলি। সিবলি ১২০ রানে ফিরলেও, স্টোকসের ১৭৬ রানের সুবাদে ৯ উইকেটে ৪৬৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের রানে জবাবটা ভালোভাবে দিতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ২৮৭ রানে অলআউট হয় তারা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১২৯ রান তুলে পঞ্চম দিন সকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের জন্য ৩১২ রানের টার্গেট দেয় ইংল্যান্ড। ফলে শেষ দিনে ৭৮ ওভারে ম্যাচ জিততে ৩১২ রানের টার্গেট পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর বাকি ওভার টিকতে পারলে ম্যাচটি ড্র করতে পারতো ক্যারিবীয়রা। কিন্তু ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায়।

তাই ব্যাটসম্যানদের দিকে আঙুল তুললেন সিমন্স। তিনি বলেন, ‘দলের ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠতে পারেনি। তাই শেষ দিন ম্যাচ ড্র করার সুযোগ থাকার পরও আমাদের হারতে হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের কারণে দলের সেরা দুই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান ড্যারেন ব্রাভো ও শিমরোন হেটমায়ার ইংল্যান্ড সফরে আসেননি। তাই দলের মিডল-অর্ডার খুব বেশি শক্তিশালী নয়। পরের টেস্টে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের সাথে ওপেনার হিসেবে দেখা যেতে পারে শাইনি মোসলেকে। এছাড়া মিডল-অর্ডারে যোগ দিতে পারেন অনুশীলন ম্যাচে সেঞ্চুরি করা জসুয়া ডা সিলভা।

গেল সিরিজে নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার সিরিজটি ধরে রাখার মিশনে ক্যারিবীয়রা। আর সিরিজটি জিততে পারলে, ২২ বছরের বন্ধ্যাত্ব ঘুচঁবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জিতেছিলো ক্যারিবীয়রা।

ওয়ানডেতে শাই হোপের ব্যাটিং গড় ৫২ দশমিক ২০। কিন্তু টেস্টে মোটেও আশানুরুপ নয়। ২৬ দশমিক ৩৫ গড় হোপের। তাই হোপের পারফরম্যান্সে হতাশ সিমন্স, ‘হ্যাঁ, আমি উদ্বিগ্ন। চার ইনিংস খেলেছে সে কিন্তু হোপের বড় ইনিংস নেই। গত পাঁচ-ছয় মাস ওয়ানডে ফরম্যাটে দারুণ খেলেছে সে। কিন্তু এই ফরম্যাটে নিজেকে মেলে ধরতে পারছে না হোপ। আমি তার ফর্ম নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

আরও এক জায়গায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিমন্স। সেটি হল, ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলতে না পারা। দ্বিতীয় টেস্টে, ব্র্যাথওয়েট ৭৫, রোস্টন চেজ ৫১, জার্মেইন ব্লাকউড ৫৫ ও শামারাহ ব্রুকস ৬৮ ও ৬২ রানের ইনিংস খেলেন। হাফ-সেঞ্চুরি করলেও কারও ব্যাট থেকে সেঞ্চুরি আসেনি। ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলতে না পারাটা ভাবাচ্ছে সিমন্সকে।

তিনি বলেন, ‘দুই টেস্টে ব্যাটসম্যানরা পাঁচ-ছয়টি হাফ-সেঞ্চুরি করেছে। কিন্তু কেউই সেঞ্চুরি করতে পারেনি। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমরা কথা বলছি, কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেনি। এটি খুবই হতাশার। আমার মনে হয়, আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য সেঞ্চুরি করাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ব্যাটসম্যানদের শতরান করতে হবে যাতে বোলাররা লড়াই করার সুযোগ পায়।’

ম্যাচের চতুর্থ দিন নিজেদের প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলে মনে করেন সিমন্স। এক স্পেলে ইংল্যান্ড পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড তিন উইকেট নেন। সেটিই দলের জন্য বড় ক্ষতি বলে জানান সিমন্স, ‘ম্যাচের চতুর্থ দিন পাঁচ-ছয় ওভারে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি। কিন্তু আমরা ওই সময় ভালো অবস্থায় ছিলাম। কিন্তু ব্রডের ওই ওভারটি আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলে।’

[sportsmail24.com এর ওয়েবসাইট এখন sportsmail.com.bd ঠিকানাতেও ব্রাউজ করে পড়তে পারবেন। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে স্পোর্টসমেইল২৪.কমের অ্যাপস থেকেও খেলাধুলার সকল নিউজ পড়তে পারবেন। ইনস্ট্রল করুন স্পোর্টসমেইল২৪.কমের অ্যাপস ]


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

স্টোকসের কাছে আধিপত্য হারাল হোল্ডার

স্টোকসের কাছে আধিপত্য হারাল হোল্ডার

বিশ্বকাপের হ্যাটট্রিক, ভারতেই ‍দুটি

বিশ্বকাপের হ্যাটট্রিক, ভারতেই ‍দুটি

বুমরাহকে সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ : লাবুশেন

বুমরাহকে সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ : লাবুশেন

মুশফিক-ইমরুলদের সাথে আরও দুই ক্রিকেটার

মুশফিক-ইমরুলদের সাথে আরও দুই ক্রিকেটার