পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ১২:৫৪ পিএম, ২০ মে ২০২৬
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়

স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষের পর এবার ঘরের মাঠেও টেসট সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। ঢাকা ও সিলেট টেস্টেও দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তরা।

ঢাকা টেস্টে ১০৪ রানের জয়ের পর সিলেটে ৭৮ রানে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। দুটি টেস্টেই পুরোটা সময় দাপট দেখিয়ে খেলেছে টাইগাররা।

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের ম্যাচজয়ী ছয় উইকেটের সুবাদে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশ।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশের। এর আগে ২০২৪ সালেও তারা পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল।

শুধু তাই নয়, জিম্বাবুয়ে ছাড়া এই প্রথম বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে ও প্রতিপক্ষের মাঠে শীর্ষস্থানীয় কোনো দেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতলো।

বুধবার (২০ মে) পঞ্চম দিনে খেলা শুরুর সময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে তাদের তখনও তিন উইকেটে ১২১ রান প্রয়োজন। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে কোনো দলই এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।

শেষ দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক ৩০ মিনিটেরও কম সময় আগে, কোনো রান ছাড়াই ১২ বলে বাকি তিনটি উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান অবশেষে ৩৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায়।

তবে সফরকারীরা তাদের সহ-অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানের অটল সংকল্পের মাধ্যমে অকল্পনীয় কিছু করে দেখানোর উপক্রম করেছিল। তার দৃঢ় পাল্টা আক্রমণ দিয়ে বাংলাদেশকে হতাশ করতে থাকেন।

দিনের তৃতীয় ওভারে রিজওয়ান ফাস্ট বোলার নাহিদ রানাকে পর পর দুটি বাউন্ডারি মেরে পাকিস্তানকে মানসিকভাবে সুবিধা এনে দেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

বাংলাদেশ তাদের নির্ভরযোগ্য বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুলের মাধ্যমে সাফল্য পায়। সাজিদকে আউট করে বিপজ্জনক জুটির অবসান ঘটান এবং ম্যাচের মোড় স্বাগতিকদের দিকে ঘুরিয়ে দেন তাইজুল।

এই উইকেটটি টেস্ট ক্রিকেটে তাইজুলের ১৮তম পাঁচ উইকেট শিকারের মাইলফলকও পূর্ণ করে, যা তাকে সাকিব আল হাসানের গড়া ১৯টি পাঁচ উইকেটের বাংলাদেশ রেকর্ড থেকে মাত্র একটি দূরে রাখে।

পাকিস্তানের প্রতিরোধের অবসান ঘটে পরের ওভারে, যখন রিজওয়ান শরিফুল ইসলামের একটি ডেলিভারি কাট করতে গিয়ে বল সরাসরি গালিতে পাঠিয়ে দেন। রিজওয়ান ১৮৪ বলে লড়াকু ৯৪ রান করে আউট হন, যে ইনিংসটি ১০টি বাউন্ডারিতে সজ্জিত ছিল।

রিজওয়ান আউট হওয়ার পর পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত ধসে পড়ে। খুররাম শাহজাদকে শূন্য রানে আউট করে তাইজুল ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান এবং সফরকারীরা মাত্র ১২ বলের ব্যবধানে তাদের বাকি তিনটি উইকেট হারিয়ে ৩৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায়।



শেয়ার করুন :